বয়স ত্রিশ হোক বা ষাট, হাঁটুর ব্যথায় কাবু এখন অনেকেই। কিছুক্ষণ শুয়ে থাকার পর উঠতে গেলে ব্যথা, বসে থেকে দাঁড়াতে গেলে ব্যথা, সিঁড়ি ভাঙতে গেলেও টনটনিয়ে ওঠে হাঁটু। হাঁটুর ব্যথার কারণ অনেক। জন্মগত কারণে হাড়ের গঠনে কোনও সমস্যা থাকলে, কখনও কোনও সংক্রমণ হলে, চোট লাগলে, আর্থ্রাইটিস হলে বা কার্টিলেজে আঘাত লাগলেও হাঁটুতে ব্যথা হতে পারে। আবার কিছু কিছু টিউমারের কারণেও হাঁটুতে ব্যথা হতে পারে। ব্যথা বাড়লে রোজই করতে পারেন অনন্তাসন। এই আসনে পায়ের যন্ত্রণা কমবে, আর্থ্রাইটিসের ব্যথাবেদনাও হবে না।
কী ভাবে করবেন?
১) প্রথমে ম্যাটের উপর টান টান হয়ে শুয়ে পড়ুন। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকবে।
২) এ বার যে কোনও এক পাশ ফিরে যান। মাথা থাকবে হাতের উপর। যে পাশে ফিরবেন, সে দিকের হাতের উপর মাথা রাখতে হবে।
৩) কনুই মাটি স্পর্শ করে থাকবে। কাঁধ এবং কনুই থাকবে এক সরলরেখায়।
৪) এ বার ধীরে ধীরে বাঁ পা উপর দিকে তুলুন। বাঁ হাত দিয়ে যেন বাঁ পায়ের বুড়ো আঙুল ধরা যায়, এমন অবস্থানে নিয়ে যান। বাঁ পা এবং বাঁ হাত থাকবে সমান্তরাল ভাবে।
আরও পড়ুন:
৫) এই অবস্থানে থাকুন ৩০ সেকেন্ড। চাইলে এক মিনিট পর্যন্ত এই ভঙ্গি ধরে রাখা যায়।
৬) এ বার ধীরে ধীরে পা নামিয়ে আগের অবস্থানে ফিরে যান। পা বদলে ফের আসনটি করুন।
উপকারিতা:
পায়ের ব্যথা কমবে, গাঁটে গাঁটে যন্ত্রণা থেকে রেহাই পাবেন।
সায়াটিকার ব্যথা, পুরনো পায়ের ব্যথা সারবে।
হাঁটুতে যন্ত্রণা হলে আসনটি করে দেখতে পারেন। আরাম পাওয়া যাবে।
মেরুদণ্ড নমনীয় হবে, সারা শরীরে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হবে।
নিয়মিত অভ্যাসে কোমর, ঊরু ও নিতম্বের মেদ কমবে।
কারা করবেন না?
হাঁটুতে অস্ত্রোপচার হলে আসনটি করা যাবে না।
অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে আসনটি করা যাবে না।