ঝিম ধরা আবহাওয়া। তার সঙ্গেই ঝিমুনি ধরছে শরীরে-মনে-মাথাতে। কাজ করতে ইচ্ছে করছে না। কাপের পর কাপ চা-কফির ‘বুস্টার ডোজ়’ দিয়েও চাঙ্গা হচ্ছে না মেজাজ। বর্ষার এমন ম্যাজেমেজে, আলস্যে ভরা শরীর কিন্তু মোটেই দু’-এক দিনের বিষয় নয়। এটি আসলে বর্ষাকালীন এক রোগ। যা দিনের পর দিন চলতে পারে। যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘মনসুন ফ্যাটিগ’ বা বর্ষাকালীন আলস্য।
কেন হয় মনসুন ফ্যাটিগ?
বর্ষার এই হঠাৎ আলস্য বা ক্লান্তির পেছনে বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে।
১। সূর্যের আলোর অভাব: বর্ষায় টানা মেঘলা আবহাওয়ার কারণে পর্যাপ্ত রোদ পায় না শরীর। ফলে মস্তিষ্কে ‘সেরোটোনিন’ বা মন ভাল রাখার হরমোন কমে যায়। বদলে বেশি পরিমাণে তৈরি হয় ঘুমের হরমোন ‘মেলাটোনিন’। এই অতিরিক্ত ‘মেলাটোনিন’ই আলস্য বৃদ্ধি করে। ক্লান্তি নামায় শরীরে।
২। ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি: পর্যাপ্ত সূর্যালোকের অভাবে শরীরে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা অনেকটাই কমে যায়। যা শারীরিক শক্তি কমায়। পেশিও দুর্বল হয়ে পড়ে।
৩। জলাভাব: বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ঘাম বেশি হয়। এতে শরীর থেকে প্রয়োজনীয় জল ও ইলেকট্রোলাইটস বেরিয়ে যায়। জলাভাব বা ডিহাইড্রেশন হয়।
৪। ধীরগতির হজমপ্রক্রিয়া: বর্ষাকালে আমাদের শরীরের বিপাক হার বেশ কিছুটা কমে যায়। ফলে গুরুপাক খাবার সহজে হজম হতে চায় না, যা শারীরিক অস্বস্তি বাড়িয়ে তোলে।
কী ভাবে সারবে রোগ?
১। সারাদিনে অন্তত ২.৫ থেকে ৩ লিটার জল পান করুন। ডাবের জল, লেবুর শরবত বা ওআরএস পান করলে শরীরের ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য ঠিক থাকে।
২। খাদ্যতালিকায় ফল, টাটকা সবজি রাখুন। এতে শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং খনিজ যাবে পর্যাপ্ত পরিমাণে।
৩। অন্তত ২০-৩০ মিনিট যোগাসন, ফ্রি-হ্যান্ড ব্যায়াম বা হালকা অ্যারোবিক্স করুন প্রতি দিন।
৪। সুযোগ পেলে অন্তত ১০-১৫ মিনিট রোদে দাঁড়ান।
৫। এ সময়ে ঘুমের সঙ্গে সমঝোতা নয়। ক্লান্তি দূর করতে রাতে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম অত্যন্ত জরুরি।