কাঁচা ডিম খাওয়ার চল নতুন নয়। কেউ শারীরচর্চার আগে, কেউ আবার পেশিবহুল চেহারা পাওয়ার আশায় সরাসরি কাঁচা ডিম ভেঙে খেয়ে নেন। সিনেমায় নায়কদের এমন দৃশ্যও কম দেখা যায়নি। কিন্তু কাঁচা ডিম সত্যিই কি ততটা উপকারী? নাকি এর আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে নানাবিধ রোগের হাতছানি?
অনেকের ধারণা, কাঁচা ডিমে পুষ্টিগুণ বেশি থাকে। কারণ, রান্না করলে নাকি কিছু পুষ্টি নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, বিষয়টি ঠিক উল্টো। বরং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই রান্না করা ডিম খাওয়াই বেশি নিরাপদ এবং উপকারী। সম্প্রতি মেরিল্যান্ড নিবাসী অ্যানেস্থেশিয়োলজিস্ট এবং ইন্টারভেনশনাল পেন মেডিসিনের চিকিৎসক কুণাল সুদ জানিয়েছেন, নিয়মিত খাওয়ার জন্য সেদ্ধ ডিমই ভাল।
কী ভাবে ডিম খাওয়া উচিত? ছবি: সংগৃহীত
কাঁচার থেকে সেদ্ধ কেন ভাল?
১. কাঁচা ডিম খাওয়ার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হল জীবাণু সংক্রমণ। ডিমের খোলস বা ভিতরে কখনও কখনও সালমোনেলা নামের ব্যাক্টেরিয়া থাকতে পারে। এই ব্যাক্টেরিয়া শরীরে প্রবেশ করলে পেট ব্যথা, বমি, ডায়রিয়া, জ্বর এবং খাদ্যে বিষক্রিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। শিশু, বয়স্ক, অন্তঃসত্ত্বা এবং যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাঁদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। তাই ফিটনেসপ্রেমীরা কাঁচা ডিম খাওয়ার পরামর্শ দিলেও তা এড়িয়ে চলা উচিত। কিন্তু সেদ্ধ ডিমে সেই ঝুঁকি কম।
২. কাঁচা ডিমের সাদা অংশে অ্যাভিডিন নামক একটি প্রোটিন থাকে, যা শরীরে বায়োটিন নামের গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিনের শোষণে বাধা দিতে পারে। ডিম রান্না করলে এই সমস্যা অনেকটাই কমে যায়।
৩. সেদ্ধ বা রান্না করা ডিম থেকে যে প্রোটিন পাওয়া যায়, শরীর তা ভাল ভাবে শোষণ করতে পারে। তার কারণ, রান্না করার পর ডিমের প্রোটিনের গঠন বদলে যায়। কিন্তু কাঁচা ডিম থেকে শরীর সব পুষ্টি সমান ভাবে গ্রহণ করতে না-ও করতে পারে না।
তা বলে কি কাঁচা ডিম খাওয়া মানেই বিপদ? সব সময় নয়। কিছু দেশে বিশেষ ভাবে প্রক্রিয়াজাত বা জীবাণুমুক্ত ডিম পাওয়া যায়, যা কাঁচা অবস্থায় খাওয়ার জন্য তুলনামূলক নিরাপদ। তবে সাধারণ বাজারের ডিমের ক্ষেত্রে সেই নিশ্চয়তা থাকে না।