ডিম ভেঙে বাটিতে ঢালার পরে দেখলেন কুসুমের দু’পাশে লেগে রয়েছে সাদা রঙের পেঁচানো সুতোর মতো অংশ। জানেন, সেই বস্তুটি কী?
অনেকেই সেটি দেখলে তুলে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। আবার কেউ ভাবেন, ডিমটি বোধ হয় নষ্ট হতে শুরু করেছে। ভ্রূণ বলেও ভাবেন কেউ কেউ। কিন্তু সত্যিই কি জিনিসটি পেটে গেলে শারীরিক ক্ষতি হতে পারে? বিজ্ঞান কী বলছে?
পেঁচানো সুতোটি আসলে কী?
ডিমের ওই সাদা পেঁচানো অংশটিকে বলা হয় ‘চালাজা’। সেটি ক্ষতিকর কিছু নয়। বরং ডিমের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রোটিন দিয়ে তৈরি একটি মজবুত প্রাকৃতিক সুতো, যা ডিম ভাল রাখতে সাহায্য করে। এর কাজ হল ডিমের কুসুমকে ডিমের ঠিক মাঝখানে ধরে রাখা। নৌকো যেমন জলে নোঙর দিয়ে বাঁধা থাকে, ডিমের সাদা তরলের মধ্যেও ঠিক সেই ভাবে কুসুমকে ভাসিয়ে রাখে চালাজা। একটি ডিমে সাধারণত দু’টি চালাজা থাকে—একটি কুসুমের উপরের দিকে এবং অন্যটি নীচের দিকে যুক্ত থাকে। ডিমের খোসার ভিতরে কুসুমটি যাতে এদিক-ওদিক নড়ে গিয়ে খোসার গায়ে লেগে বা ভেঙে না যায়, সেই সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে এই চালাজা।
চালাজা সব ডিমে দেখা যায় না কেন?
ডিম পাড়ার পরে তা যত পুরনো হতে থাকে, ততই ওই চালাজার অংশটি ধীরে ধীরে পাতলা হতে শুরু করে এবং শেষ পর্যন্ত অদৃশ্য হয়ে যায়। তাই যদি ডিমের কুসুমের পাশে এটি শক্ত অবস্থায় দেখেন, তবে বুঝতে হবে ডিম একেবারে টাটকা। অর্থাৎ চালাজা যত স্পষ্ট এবং শক্ত, ডিমটি তত বেশি তাজা।
এটি খাওয়া কি নিরাপদ?
চালাজা সম্পূর্ণ নিরাপদ। এটি ডিমের সাদা অংশের মতোই এক ধরনের বিশেষ প্রোটিন। ডিম সেদ্ধ করলে বা রান্না করলে এটি ডিমের বাকি অংশের সঙ্গে মিশে যায়, আলাদা করে বোঝাই যায় না। খেলেও কোনও অসুবিধা নেই। তাই এ বার থেকে ডিম ভাঙার পর যদি সাদা সুতো দেখেন, তবে ভয় পাওয়ার বদলে খুশি হোন। কারণ, আপনার হাতে টাটকা ডিম এসে পৌঁছেছে।