Advertisement
E-Paper

বিদ্যুতের হালকা ঝটকায় সারবে বাত! স্ট্রোকে অসাড় হাত-পা সচলও হবে, কী এই ‘ই-স্টিম থেরাপি’?

ওষুধ খেয়ে বাতের ব্যথা সারে না। ব্রেন স্ট্রোকে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়া হাত-পায়ে সাড় ফেরানোও সহজ নয়। দীর্ঘ সময় ধরে থেরাপির প্রয়োজন হয়। তবে বর্তমানে ‘ই-স্টিম’ থেরাপি যে কোনও ব্যথা, পেশির অসাড়তা সারাতে কাজে দিচ্ছে বলে দাবি। কী এই থেরাপি?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২২ জুলাই ২০২৬ ১৩:১৪
What is Understanding Electrical Muscle Stimulation, Everything You Need to Know About E-stim Therapy

বাত সারবে! জনপ্রিয়তা বাড়ছে ‘ই-স্টিম’ থেরাপির, খরচ কত। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বাতের ব্যথা কি নির্মূল হয়? দীর্ঘ সময়ের থেরাপিতে হয়তো তা সম্ভব। আবার ব্রেন স্ট্রোকে শরীরের এক দিকটা বা হাত-পা অসাড় হয়েছে যাঁদের, তাঁদের সাড় ফেরানোর চেষ্টাও খুবই কঠিন ও সময়সাপেক্ষ একটা প্রক্রিয়া। শুধু ওষুধে তা সম্ভব নয়। তবে সম্প্রতি বিশেষ একরকম থেরাপির জনপ্রিয়তা বাড়ছে যা শুধু বাতের ব্যথা নয়, অসাড় ও আড়ষ্ট হয়ে থাকা পেশির জোর ফেরাতে পারবে বলেও দাবি করা হয়েছে। এর নাম ‘ইলেকট্রিক্যাল মাস্‌ল স্টিমুলেশন’ বা ‘ই-স্টিম থেরাপি’। আগে শুধুমাত্র খেলোয়াড়দের পেশির জড়তা কাটাতেই এর প্রয়োগ হত। এখন নানা রোগের চিকিৎসাতেও কাজে লাগছে।

কী এই ‘ই-স্টিম’ থেরাপি?

ফিজ়িয়োথেরাপিরই একটি পদ্ধতি ‘ই-স্টিম’। বিদ্যুতের শক্ দিয়ে থেরাপি করা হয়। তবে ভয়ের কারণ নেই। খুব হালকা বিদ্যুতের তরঙ্গ পাঠানো হয় পেশিতে। তাতেই পেশির আড়ষ্টতা কাটে। চিকিৎসকেরা বলছেন, ব্যথা কমানো এবং দুর্বল হয়ে পড়া পেশিকে ফের সচল ও সক্রিয় করে তোলার চিকিৎসাই হল ‘ইলেকট্রিক্যাল মাস্‌ল স্টিমুলেশন’।

এই পদ্ধতিতে ত্বকের নানা জায়গায়, বিশেষ করে যেখানে ব্যথা রয়েছে, সেখানে ইলেকট্রোড বসিয়ে দেওয়া হয়। এর থেকে তড়িৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গ বেরিয়ে শরীরে ঢুকে যায়। এই তরঙ্গ পেশির সঙ্কোচন ও প্রসারণ ঘটায়। ফলে সেখানে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হয়। এই পদ্ধতিতে ব্যথার স্থানের স্নায়ুও উদ্দীপিত হয়, যা ‘এন্ডোরফিন’ নামে হরমোনের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। এই হরমোন ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে। ফলে প্রাকৃতিক উপায়েই ব্যথা কমতে থাকে। পেশির জোরও বাড়ে।

কী কী উপকার হয় এই থেরাপিতে?

অস্টিয়োআর্থ্রাইটিস বা বাতের ব্যথা, পিঠ-কোমরের যন্ত্রণা কমবে এই থেরাপি করালে।

আঘাত লেগে ব্যথা বা দুর্ঘটনার কারণে শরীরের কোথাও পেশির ক্ষয় হলে বা লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার কারণে যন্ত্রণা হলে, এই থেরাপি করানো যেতে পারে।

ব্যথানাশক ট্যাবলেটের উপর নির্ভরতা কমাতে অনেকেই এমন থেরাপি করাচ্ছেন এখন।

মেরুদণ্ডে আঘাত লেগে ব্যথা বা কোনও অস্ত্রোপচারের পরে দীর্ঘদিন ধরে ব্যথা বা বেদনায় ভুগলে তার থেকে রেহাই পেতে এই থেরাপি উপযুক্ত হতে পারে।

খেলাধুলোর সময়ে আঘাত লেগে ব্যথা হলে, তার জন্যও এই থেরাপি করা হয়। খেলোয়াড়েরা পেশির জড়তা কাটাতে অনেক সময়েই এই থেরাপি করিয়ে থাকেন।

পক্ষাঘাত বা স্ট্রোকের পর যাঁদের পেশির উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গিয়েছে, তাঁরা এই থেরাপি করালে উপকার পেতে পারেন।

কারা করাবেন না?

অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় এই থেরাপি করানো উচিত হবে না।

হার্টে পেসমেকার বসেছে যাঁদের অথবা দীর্ঘসময় ধরে হৃদ্‌রোগে ভুগছেন, তাঁরা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই থেরাপি করাবেন না।

মৃগী রোগ থাকলে এবং ঘন ঘন খিঁচুনি হলে এই থেরাপি করানো যাবে না।

খরচ কত?

ফিজ়িয়োথেরাপি সেন্টারে সাধারণত প্রতি সেশনের খরচ ৩০০০ টাকা থেকে ১০,০০০ টাকার মতো হতে পারে। তবে শরীরে কতটা অংশে থেরাপি করাবেন ও কী ধরনের ক্লিনিকে করাবেন, তার উপর খরচ নির্ভর করবে।

arthritis Osteoarthritis Pain relief Physiotherapy

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy