বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের তারকা ফুটবলার বললে হ্যারি কেনের কথাই মনে পড়ে। নীল চোখ, ধারালো চিবুক, যিশু খ্রিস্টের মতো সুপুরুষ। খেলেনও ভাল। কিন্তু সেই হ্যারিও ইদানীং খানিক নিস্প্রভ। তাঁর বদলে ইংল্যান্ডের দলে যিনি এখন দীপ্যমান, তিনি এক জন কৃষ্ণাঙ্গ ফুটবল খেলোয়াড়। জুড বেলিংহ্যাম।
বিশ্বকাপ ফুটবলের সেমিফাইনালে যে ইংল্যান্ড পৌঁছোতে পেরেছে, তার অনেকটা কৃতিত্ব তাঁরই। গত বেশ কয়েকটি ম্যাচে জুডই গোল করে জিতিয়েছেন দলকে। ২৩ বছরের তরুণ মিডফিল্ডার যখন মাঠে নামেন, তখন দমকা হাওয়ার মতো ছুটে যান প্রথম থেকে শেষ মিনিট পর্যন্ত। কিন্তু সেই অফুরান শক্তির জোগান আসে কোথা থেকে? নেপথ্যে রয়েছে এক বিশেষ খাবার।
প্রতিটি ম্যাচেই মাঠে নামার আগে সেই খাবার খান জুড। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ওই খাবারটি যেমন মাঠে নামার আগে তাঁর মন ভাল করে দেয়, তেমনই শক্তির জোগান দেয়।
ম্যাচের আগে জুডের খাওয়া সেই খাবারটির নাম ‘বেক্ড বিনস অন টোস্ট উইথ এগ’। ব্যাপারটা আদতে ডিম, সেঁকা পাউরুটি আর সয়াবিনের দানা আর টম্যাটোবাটা দিয়ে তৈরি এক রকম ‘ডাল’। ব্যাপারটা মোটেই আহামরি কিছু নয়। ব্রিটেনের এই খাবার প্রাতরাশের টেবিলেই থাকে। এ দেশে যেমন প্রাতরাশ মানে লুচি-পরোটা, ইডলি-দোসা-উপমা বা চিঁড়ের পোলাও। ব্রিটেনে বিনস অন টোস্ট তেমনই কমফর্ট ফুড। খেলতে নামার আগে সেই খাবারেই নিজের শরীর আর মন ঠান্ডা করেন জুড। তবে শুধু সেটুই নয়। তাঁর সারাদিনের খাওয়ার রুটিনটিও দেখার মতো।
প্রাতরাশ
দিনের প্রথম খাবার হতে হবে হালকা অথচ পুষ্টিকর। গ্রিক ইয়োগার্টের সঙ্গে ওট্স, চিয়া বীজ এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ বেরি জাতীয় ফল খান জুড। তা না হলে মাঝেমধ্যে ডিম সেদ্ধ, সঙ্গে নানা রকমের ফল খান তিনি।
মধ্যাহ্ণে
অনুশীলনের পর পেশি মেরামতের জন্য জুডের দরকার পড়ে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারের। তাই দুপুরে থাকে গ্রিল্ড টার্কি ব্রেস্ট বা চিকেন ব্রেস্ট। সঙ্গে ব্রকোলি, টম্যাটো, গাজর, রোস্ট করা বেগুন এবং বেলপেপারের টুকরো দেওয়া বড় এক বাটি মিক্সড স্যালাড। জুড মাছ বা সামুদ্রিক খাবার পছন্দ করেন না, খান না রেড মিটও।
বিকেলে
স্পেনে থাকেন জুড। সেখানকার ঐতিহ্যবাহী খাবার টম্যাটো টোস্ট খেতে ভালবাসেন তিনি। কড়া করে সেঁকা পাউরুটির উপর টাটকা টম্যাটো বেটে মাখিয়ে দেওয়া হয়। তার উপরে ছড়িয়ে দেওয়া হয় অলিভ অয়েল। স্পেনে একে বলা হয় ‘প্যান কন টম্যাটো’। এর সঙ্গে থাকে এক বাটি লো-ফ্যাট ইয়োগার্ট।
নৈশাহার
রাতের খাবার হালকা এবং সহজপাচ্য। হালকা তেলে জুকিনি, পেঁয়াজ এবং সব্জির সঙ্গে সাঁতলে নেওয়া মুরগির মাংসর টুকরো। তাতে নুন, লেবু ছড়িয়ে অথবা সয়া সস দিয়ে খান। রাতেও ইয়োগার্ট খান জুড। শেষপাতে মিষ্টির বদলে গ্রিক ইয়োগার্টের সঙ্গে কোকো পাউডার মিশিয়ে খান তিনি।