Advertisement
E-Paper

স্ট্রোক হওয়ার মিনিট পাঁচেকের মধ্যে কোন ভুল রোগীর প্রাণ কাড়তে পারে? কী করলে বাঁচতে পারেন রোগী?

স্ট্রোক নানা ধরনের হয়। কিন্তু ইস্কেমিক স্ট্রোক দেখা যায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষের ক্ষেত্রে। মূলত মস্তিষ্কে রক্তচলাচল কমে যাওয়ার কারণেই হয় এই ধরনের স্ট্রোক। আর এই ধরনের স্ট্রোকের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল যে, এর কোনও নির্দিষ্ট লক্ষণ হয় না, যা দেখে সাবধান হওয়া যাবে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২২ অগস্ট ২০২৬ ১৩:৫১
স্ট্রোক হলে প্রথম পাঁচ মিনিটে কী কী করা জরুরি?

স্ট্রোক হলে প্রথম পাঁচ মিনিটে কী কী করা জরুরি? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

স্ট্রোক হলে রোগী বাঁচবেন কি না, তা পুরোটাই নির্ভর করে সময়ের উপর। টাকার থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ মস্তিষ্ককে ঠিক রাখতে স্ট্রোকের পর যত দ্রুত সম্ভব রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে সঠিক চিকিৎসার সাহায্য নেওয়া। আর স্ট্রোক হওয়ার পর প্রথম পাঁচ মিনিট খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এই সময় কোন ভুলগুলি এড়িয়ে চললে প্রাণ বাঁচতে পারে, বললেন চিকিৎসক অন্বিত ভট্টাচার্য।

কথা বলতে বলতে আচমকা জিভ অবশ হয়ে গেল, হাত তুলে বোঝানোর চেষ্টা করতে গিয়ে দেখলেন, হাত তোলাও অসম্ভব। কয়েক মিনিটের মধ্যেই আবার সব আগের মতোই স্বাভাবিক। তাই সে যাত্রায় চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কথা মাথাতেই এল না। রোজের ব্যস্ততায় ধীরে ধীরে থিতিয়ে যেতে শুরু করল এই ঘটনা। কয়েক মাস পরে এক বড়সড় স্ট্রোকের ধাক্কায় একেবারে প্রাণ যায় যায় অবস্থা।

কয়েক মিনিট এ রকম কথা বলতে না পারা, হাত বা পা অসাড় হয়ে যাওয়া অথবা চোখে অন্ধকার দেখার মতো ঘটনাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় বলে ‘ট্র্যানসিয়েন্ট ইস্কেমিক অ্যাটাক’ বা ‘টিআইএ’। সাধারণ ভাবে একে মিনি স্ট্রোক বলা যায়। স্ট্রোক নানা ধরনের হয়। কিন্তু ইস্কেমিক স্ট্রোক দেখা যায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষের ক্ষেত্রে। মূলত মস্তিষ্কে রক্তচলাচল কমে যাওয়ার কারণেই হয় এই ধরনের স্ট্রোক। আর এই ধরনের স্ট্রোকের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল যে, এর কোনও নির্দিষ্ট লক্ষণ হয় না, যা দেখে সাবধান হওয়া যাবে। চিকিৎসক বলেন, ‘‘ইস্কেমিক স্ট্রোক হওয়ার সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যে নির্দিষ্ট ওষুধ দিলে রোগীকে প্রাণে বাঁচানো যেতে পারে। তাই স্ট্রোকের পরবর্তী সময়টা রোগীর জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।’’

কী কী ভুল এড়িয়ে চলবেন এমন সমস্যা হলে?

১) রোগীর মুখে জল বা খাবার দেওয়া চলবে না: রোগী যদি অজ্ঞান হয়ে যান, বা মুখ বেঁকে যেতে থাকে, সেই পরিস্থিতিতে মুখে জল বা খাবার না দেওয়াই ভাল। এ ক্ষেত্রে রোগীর ঢোক গেলার ক্ষমতাও চলে যেতে পারে। ফলে জল পেটে না গিয়ে ফুসফুসে চলে যেতে পারে। এতে কিন্তু রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

২) কোনও ওষুধ নিজে থেকে দেবেন না: অনেকেই মনে করেন, স্ট্রোক হলে অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ দিলে রোগী প্রাণে বাঁচতে পারেন। তবে কী ধরনের স্ট্রোক হয়েছে, তা জানা না গেলে অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ প্রয়োগ প্রাণঘাতী হতে পারে। হেমারেজিক স্ট্রোক হওয়ার অর্থ মাথায় রক্তপাত হচ্ছে, এ ক্ষেত্রে অ্যাসপারিন জাতীয় ওষুধ রক্তক্ষরণের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

৩) রোগীকে বাড়িতে বেশিক্ষণ রাখা: অনেক সময় মিনি স্ট্রোকের লক্ষণগুলি কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার শেষ হয়ে যায়, রোগী স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসেন। তবে সেই লক্ষণ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ফিরে আসতে পারে। তাই রোগীকে বাড়িতে রেখে দিলে বড় বিপদের ঝুঁকি বাড়তে পারে। স্ট্রোকের পর রেগীকে বাড়িতে ফেলে না রেখে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হাতপাতালে ভর্তি করানো জরুরি।

প্রথম ৫ মিনিটে কী কী করা উচিত?

১) লক্ষণ চিনুন সবার আগে। রোগীর মুখ বেঁকে যেতে শুরু করলে, শরীরের এক দিক অবশ হতে শুরু করলে বা জোর কমে গেলে সময় নষ্ট না করে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করান।

২) সময়টা লক্ষ করুন। লক্ষণ ঠিক কোন সময় থেকে শুরু হয়েছিল, সেই সময়টা নোট করে রাখুন। হাসপাতালে নিয়ে গেলে সবার আগে এই প্রশ্নটিই জিজ্ঞেস করা হবে।

৩) রোগীকে মাথা উঁচু করে শুইয়ে দিতে হবে। রোগী অজ্ঞান হয়ে গেলে এক পাশ ফিরিয়ে শুইয়ে দিন।

Stroke

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy