টম্যাটো এমন একটি সব্জি, যা প্রায় প্রতি দিনই কোনও না কোনও পদে থাকে। ডাল, তরকারি, স্যালাড, স্যান্ডউইচ, স্যুপ কিংবা চাটনি— সবেতেই এর ব্যবহার। তবে কেবল স্বাদে নয়, গুণেও বাজিমাত করতে পারে এই সব্জি। কিন্তু শুধু টম্যাটো খাওয়াই নয়, কখন খাচ্ছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। পুষ্টিবিদদের মতে, সঠিক সময়ে টম্যাটো খেলে শরীর সহজে এর পুষ্টিগুণ গ্রহণ করতে পারে। আবার ভুল সময়ে খেলে যাঁদের অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা অম্বলের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের অস্বস্তি বেড়ে যেতে পারে।
টম্যাটো ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, ফলেট এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে সমৃদ্ধ। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল লাইকোপিন। এই উপাদান শরীরের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি হৃদ্যন্ত্রের স্বাস্থ্য ভাল রাখা এবং দীর্ঘ মেয়াদে নানা রোগের ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রেও ভূমিকা পালন করে বলে জানা গিয়েছে বিভিন্ন গবেষণায়।
কী ভাবে টম্যাটো খাওয়া উচিত? ছবি: সংগৃহীত
টম্যাটো খাওয়ার আদর্শ সময় কোনটি?
অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে ভরপুর টম্যাটো শরীরের প্রদাহ কমিয়ে দেয় এবং কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। তাই যে কোনও সময়ে খেলেই উপকারিতা মিলতে পারে। কিন্তু সকলের জন্য তা শ্রেয় নয়। পুরনো কিছু গবেষণায় দাবি করা হয়েছিল, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টযুক্ত খাবার সকাল সকাল বা সন্ধ্যায় না খেয়ে বেলায় খেলে পুষ্টির শোষণ বেশি হতে পারে। তা ছাড়া দুপুরের দিকে টম্যাটো খেলে অ্যাসিড হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে। টম্যাটো প্রাকৃতিক ভাবে অ্যাসিডিক। অ্যাসিড রিফ্লাক্সের প্রবণতা বাড়িয়ে তুলতে পারে।
কী ভাবে খাওয়া উচিত টম্যাটো?
স্যালাডে, স্যান্ডউইচে অনেকেই
কাঁচা টম্যাটো খান। তা থেকেও পুষ্টিগুণ শরীরে পৌঁছোয়। কিন্তু লাইকোপিনের পুরো
উপকার পেতে হলে কাঁচা এবং শুধু শুধু টম্যাটো খেলে হবে না। প্রথমত, হালকা রান্না
করে খেলে টম্যাটোর অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট গুণ বাড়ে। টম্যাটো ভাপিয়ে খেলে সবচেয়ে
বেশি গুণ পাওয়া যায়। ভাপানো টম্যাটো স্যুপ, সস্, পাস্তা, বা বাঙালির ঝোলে মিশলে
স্বাদও বৃদ্ধি পায়। দ্বিতীয়ত, এটি দুপুর খাবারের সঙ্গে খাওয়াই সবচেয়ে ভাল। কারণ, লাইকোপিন শরীরে সবচেয়ে ভাল ভাবে শোষিত হয় যখন সেটি স্বাস্থ্যকর চর্বির
সঙ্গে খাওয়া হয়। যেমন অলিভ অয়েল, সর্ষের তেল, বাদাম, বীজ কিংবা মাছের সঙ্গে টম্যাটো খেলে শরীর এই উপাদান আরও
সহজে গ্রহণ করতে পারে।
টম্যাটো খেলে কী কী উপকারিতা মেলে?
১. বিটা-ক্যারোটিন এবং লাইকোপিনে ভরপুর টম্যাটো কোষের ক্ষতি রোধ করে বলে ক্যানসারের মতো রোগের ঝুঁকি খানিক কমে।
২. নিয়মিত টম্যাটো খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাই হৃদ্স্বাস্থ্যও ভাল থাকে।
৩. এমনকি টাইপ-২ ডায়াবিটিসের ঝুঁকিও কমতে পারে।
৪. দ্রবণীয় এবং অদ্রবণীয় ফাইবারে ভর্তি টম্যাটো। এর ফলে হজমক্ষমতা উন্নত হতে পারে কারও কারও ক্ষেত্রে।