উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেসার নিয়ে সচেতনতার কমতি নেই। অথচ রক্তচাপ কমে যাওয়ার বা লো প্রেসারের সমস্যাও কম ভোগায় না। হঠাৎ মাথা ঘোরা, এক পা-ও এগোতে না-পারা, চূড়ান্ত দুর্বলতা, চোখে হঠাৎ অন্ধকার দেখার মতো বিপদ হতে পারে রক্তচাপ কমে গেলে। তবে সে পর্যন্ত যদি বা নিজেকে সামলানো যায়, রক্তচাপ অনেকখানি কমে গেলে বিপদ হাতের বাইরে চলে যেতে পারে। বাড়তে পারে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও।
সাধারণত লো প্রেসারের সমস্যা যাঁদের থাকে, তাঁদের রক্তচাপ স্বাভাবিক অবস্থাতেও ১২০/৮০-র কিছুটা কমের দিকেই থাকে। কিন্তু কতটা কমলে বুঝবেন বিপদ কাছাকাছি। ঠিক কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি?
রক্তচাপ কতটা কমলে সতর্ক হবেন?
একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের স্বাভাবিক রক্তচাপ থাকার কথা ১২০/৮০।
প্রাত্যহিক রক্তচাপের মাত্রা যদি সিস্টোলিক অর্থাৎ উপরেরটি ১০০-১১০ এবং ডায়াস্টোলিক বা নীচেরটি ৬৫-৭০ এর মধ্যে থাকে, তবে তা নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। তবে যদি এর সঙ্গে নিয়মিত ভাবে শরীর অতিরিক্ত দুর্বল লাগা, মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ দেখা দেয় এবং ডায়াস্টোলিক প্রেসার প্রায়ই ৬৫-তে নেমে যেতে থাকে, তবে সতর্ক হওয়া জরুরি।
চিকিৎসকের কাছে যাবেন কখন?
যদি সিস্টোলিক বা উপরের রক্তচাপ ৯০-এর নীচে এবং ডায়াস্টোলিক বা নীচের রক্তচাপ ৬০-এর নীচে নেমে যায়, তবে তাকে হাইপোটেনশন বলা হয়। এমন যদি হয়, তবে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
বিপদ এড়াতে কী করণীয়
১। লো প্রেসারের সমস্যা থাকলে দিনে অন্তত ২.৫ থেকে ৩ লিটার জল পান করুন। প্রেসার হঠাৎ কমলে ডাবের জল বা অল্প নুন-চিনির শরবত কার্যকর।
২। দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকবেন না। আবার একসঙ্গে অনেকটা না-খেয়ে অল্প অল্প করে বারে বারে খাবার খান।
৩। শোয়া বা বসা অবস্থা থেকে হঠাৎ দ্রুত উঠবেন না। কিছুক্ষণ বসে তার পর দাঁড়ান।