বর্ষার স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া ও মেঘলা দিনে এক কাপ ধোঁয়া ওঠা মশলা চা মন ভাল করার জন্য আদর্শ। আদা, লবঙ্গ, ছোট এলাচ, দারচিনি ও গোলমরিচ দেওয়া চা শরীর গরম রাখে এবং সর্দি-কাশি দূর করতে সাহায্য করে। সাহায্য করে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতেও। কিন্তু এই চা-ই আবার খলনায়ক হয়ে উঠতে পারে সময় বুঝে না খেলে। যেহেতু এই চা অনেকেই দুধ সহযোগে খান, তাই সতর্ক না হলে গ্যাস-অম্বলের বিস্তর সমস্যা দেখা দিতে পারে।
গ্যাস-অম্বল হওয়ার কারণ
খালি পেটে দুধ বা মশলা চা খেলে অ্যাসিডিটির ঝুঁকি বাড়ে। চায়ের ট্যানিন, দুধের ফ্যাট এবং গোলমরিচ বা লবঙ্গের মতো গরম মশলার মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার পাকস্থলীতে অ্যাসিডের নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয়, যা থেকে বুক জ্বালা বা পেটে অস্বস্তি হতে পারে।
কখন খাবেন
সন্ধ্যায় হালকা খাবারের সঙ্গে: বিকেলের জলখাবার বা হালকা বিস্কুটের সঙ্গে এই চা খেলে পেটে অ্যাসিড কম জমে।
ভারী খাবারের ১-২ ঘণ্টা পর: দুপুরের খাবারের অন্তত ঘণ্টাখানেক পর মশলা চা খেলে এতে থাকা আদা ও এলাচ হজমে সহায়তা করে।
বৃষ্টিতে ভিজে এলে: ঠাণ্ডা লাগা বা সর্দি ভাব কাটাতেই কেবল দুধ-মশলা চা খাওয়া সবচেয়ে উপযুক্ত।
কখন খাবেন না
একদম খালি পেটে: সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে এই চা খাওয়া একেবারেই উচিত নয়।
রাত্রে ঘুমানোর আগে: রাতে দুধ-মশলা চা খেলে হজমের গোলমাল হয়ে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
ভারী খাবার খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে: যেকোনো মূল খাবারের পরপরই চা খেলে পুষ্টি শোষণে বাধা তৈরি হয়। গ্যাসেরও সমস্যা হতে পারে।
সতর্কতা
আপনার যদি আগে থেকেই তীব্র গ্যাস্ট্রিক বা আলসারের সমস্যা থাকে, তবে দুধে ফোটানো মশলা চা না খেয়ে লিকার চায়ে সামান্য আদা ও এলাচ মিশিয়ে খাওয়া অনেক বেশি নিরাপদ।