উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা এখন ঘরে ঘরে। মানসিক চাপ, কর্মব্যস্ততা, ঘুমের ঘাটতি ইত্যাদি নানা কারণে অল্পবয়সিদের মধ্যেও দেখা দিচ্ছে এই সমস্যা। আর এই রোগের হাত ধরেই শরীরে হানা দিচ্ছে হার্ট অ্যাটাকের মতো কঠিন অসুখ। তবে এই রোগ বশে রাখতে হলে কেবল ওষুধ খেলেই চলবে না, নিয়মিত পর্যবেক্ষণও জরুরি। অনেকেই এখন বাড়িতে রক্তচাপ পরিমাপ করার যন্ত্র কিনে ফেলেছেন। নিজেদের সময়-সুযোগ বুঝে দিনের কোনও এক সময়ে মেপে ফেললেই হল। তবে কোন হাতে রক্তচাপ মাপলে সঠিক ফলাফল পাওয়া যাবে, সে নিয়ে একটা সংশয় থেকেই যায়। অনেকেই মনে করেন, বাঁ দিকে যেহেতু হৃদ্যন্ত্র থাকে, বাঁ হাতে রক্তচাপ মাপলে বুঝি সঠিক ফলাফল আসবে! এই ধারণা কতটা ঠিক, কী বলছেন চিকিৎসক?
চিকিৎসক এস এ মল্লিকের মতে, রক্তচাপ মাপা নিয়ে অনেক রোগীর মনেই নানারকম প্রশ্ন জাগে। রক্তচাপে সিস্টোলিক ও ডায়াস্টোলিক প্রেসার ১২০/৮০ থাকাকে স্বাভাবিক বলে ধরা হয়। তবে রক্তচাপ যদি এর চেয়ে অনেকটা কম বা বেশি হয়ে যায়, তখনই বিপদের সম্ভাবনা দেখা দেয়। চিকিৎসক বলেন, ‘‘প্রথম বার সিস্টোলিক রক্তচাপ মাপার সময়ে সঠিক নিয়ম হল দু’হাতেই রক্তচাপ মাপা। যে হাতে রক্তচাপ বেশি আসবে সেটাই বুঝবেন সঠিক ফলাফল। যদি দু’হাতের রক্তচাপের রিডিং ১০ মিলিমিটার অফ মার্কারির আশপাশে থাকে তা হলে যে কোনও হাতেই রক্তচাপ মাপা যেতে পারে। কিন্তু যদি দু’হাতে রক্তচাপের ফারাক ১৫ মিলিমিটার অফ মার্কারির বেশি হয়, তা হলে কিন্তু যে হাতে রক্তচাপ বেশি আসছে সেই হাতেই বরাবর মাপতে হবে।’’
রক্তচাপ মাপার সময়ে কী কী মাথায় রাখবেন?
১) হাত হাওয়ায় রেখে রক্তচাপ মাপলে হবে না। বাহুর অংশ কোথাও রেখে তার পর মাপুন।
২) পায়ের উপর পা তুলে বসে রক্তচাপ মাপলে ফলাফল ভুল আসতে পারে।
৩) স্বাভাবিক ভাবে শ্বাস নিতে হবে।
৪) কথা বলা যাবে না।
৫) মূত্রত্যাগের বেগ থাকলে মূত্রত্যাগ করে প্রেশার মাপুন।
৬) ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে ধূমপানের অনন্ত দু’ঘণ্টা পরে রক্তচাপ মাপুন।
৭) মদ্যপান করে রক্তচাপ না মাপাই ভাল, একান্ত প্রয়োজন হলে মদ্যপানের ৪ ঘণ্টা পরেই রক্তচাপ মাপা যেতে পারে।