বর্ষার মরসুম মানেই অসুখের মাস। জমা জলে মশককুলের বাড়বৃদ্ধি থেকে ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়ার ভয়। রাস্তাঘাটে অপরিচ্ছন্ন স্থান থেকে খাবার খেলে পেটের অসুখের ভয়। বৃষ্টিতে ভিজলে ঠান্ডা লেগে হাঁচি-কাশির ঝুঁকি।
তবে এমন মরসুমে নানা অসুখ ছড়াতে পারে অফিস থেকেও। অফিসে পাশাপাশি বসা, মিটিং, টিফিন ভাগ করে খাওয়া, হাত না ধুয়ে মুখে-চোখে হাত দেওয়া— এমন নানা কারণে কিছু কিছু অসুখ ছড়িয়ে পড়তে পারে। নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন কী ভাবে?
ইনফ্লুয়েঞ্জা
বর্ষার মরসুমে জ্বর, হাঁচি, কাশি খুব সাধারণ বিষয়। বদ্ধ ঘর, একই ডেস্কে পাশাপাশি বসলে হাঁচি, কাশি বাহিত জলকণা থেকে এই ধরনের অসুখ এক জনের থেকে অন্য জনের শরীরে ছড়াতে পারে। কেউ হাঁচলে ড্রপলেট পড়তে পারে ডেস্কে। তা চোখে দেখাও যায় না। সেই স্থানে অন্য কেউ হাত দিয়ে, সেই হাতটি মুখে, চোখে দিলে বা অপরিচ্ছন্ন হাতে খেলে অসুখ ছড়াতে পারে।
চিকিৎসকেরা বলছেন, হাঁচি-কাশি হলে মুখে মাস্ক ব্যবহার করা যেতে পারে। জ্বর হলে বাড়িতে থাকাই ভাল। ঘন ঘন সাবান দিয়ে হাত ধুলেও সংক্রমণ অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব।
ভাইরাল কনজাঙ্কটিভাইটিস
চোখ লাল হয়ে কড়কড় করার মতো উপসর্গের সঙ্গে অনেকেই পরিচিত। একেই বলে কনজাঙ্কটিভাইটিস। বর্ষায় বাতাসের জলীয় কণায় ভর করে ভেসে বেড়ায় অনেক ভাইরাস। সেই ভাইরাস কনজাঙ্কটিভায় (চোখের উপরের আস্তরণ) আক্রমণ করলে এই অসুখ হয়। ভাইরাল কনজাঙ্কটিভাইটিস অত্যন্ত ছোঁয়াচে। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে থাকলে, পাশাপাশি বসলে, সংক্রমণের ভয় কয়েক গুণ বেড়ে যায়। আক্রান্ত ব্যক্তি চোখ মুছে সেই হাত বা রুমাল অফিসের চেয়ার, ডেস্ক কোথাও রাখলে, সেখান থেকে ভাইরাস অন্যের চোখেও ছড়াতে পারে।
আক্রান্ত ব্যক্তির কয়েক দিনের জন্য বাড়িতে থাকা ভাল। সহকর্মীর চোখ লাল হলে, ব্যথা হলে, অনবরত জল পড়লে তাঁর থেকে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখুন। সুরক্ষিত থাকার একমাত্র উপায় বার বার হাত সাবান দিয়ে ধোয়া এবং চোখ, মুখে হাত না দেওয়া।
ভাইরাল গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস
পেটব্যথা, বমি, পেটখারাপ, জ্বর— এমন উপসর্গ হতে পারে ভাইরাল গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিসের কারণে। নেরোভাইরাস-সহ বেশ কিছু ভাইরাসের প্রভাবে অন্ত্রে বা পেটে সংক্রমণ হয়। আক্রান্ত ব্যাক্তির এঁটো খাবার খেলে বা একই টিফিন ভাগ করে খেলে, অপরিচ্ছন্ন হাতে খাবার খেলে এমনটা হতে পারে। ক্যান্টিনে যদি বা কারও বাড়িতে যদি অপরিচ্ছন্ন ভাবে রান্না করা হয় বা অপরিষ্কার পাত্রে খাবার পরিবেশন করা হয়, এই ধরনের অসুখ ছড়াতে পারে।
সুরক্ষিত থাকার উপায় হল— টিফিন খাওয়ার সময়ে সতর্ক থাকা, টিফিন বাক্স ভাল করে মেজে, ধুয়ে শুকিয়ে নেওয়া এবং অতি অবশ্যই হাত ধুয়ে খাওয়া।
ছত্রাকজনিত ত্বকের সংক্রমণ
বর্ষার উষ্ণ এবং আর্দ্র আবহাওয়ায় ছত্রাকজনিত সংক্রমণ বাড়ে। ঘাম বসে বা বৃষ্টির অপরিচ্ছন্ন জল ত্বকে দীর্ঘক্ষণ বসলে এমনটা হতে পারে। এই ধরনের সংক্রমণ কখনও কখনও অন্যের থেকে ছড়াতে পারে। সুরক্ষিত থাকার উপায় হল, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, নিয়মিত মোজা পাল্টানো, পায়ে রাস্তার জমা জল লাগলে দ্রুত পরিষ্কার জল দিয়ে তা ধুয়ে পা শুকিয়ে নেওয়া।
কী কী ভাবে নিজে সতর্ক হওয়া যায়
· একসঙ্গে টিফিন খাওয়ার সময়ে সতর্কতা জরুরি (একই চামচ ব্যবহার না করা ভাল)।
· কারও জ্বর, সর্দি, কাশি হলে তিনি যদি মাস্ক না পরেন, সুরক্ষার স্বার্থে তাঁর পাশের জন পরতে পারেন।
· বার বার হাতে সাবান দেওয়া প্রয়োজন, খাওয়ার আগে হাত ধোয়া দরকার।
· জ্বর, কাশি হলে অফিস থেকে ছুটি নেওয়া ভাল।