সকালে উঠে তাড়াহুড়োয় প্রাতরাশ বানানোর সময় নেই! তাই রাতের বেঁচে যাওয়া রুটিটাই কি গরম করে খেয়ে নেন? আপনি একা নন। বাঙালি বাড়ির প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষই এই কাজটা করেন। এখন সমাজমাধ্যম খুললেই দেখবেন একটিই দাবি, টাটকা রুটি নয়, ডায়াবিটিসের জন্য বাসি রুটিই নাকি অমৃত! কেউ বলছেন, বাসি রুটি খেলে সুগার বাড়ে না, কেউ আবার বলছেন, এতে নাকি ওজনও কমে ঝটপট।
কিন্তু প্রশ্ন হল, ১০-১২ ঘণ্টা আগে তৈরি হওয়া, শক্ত হয়ে যাওয়া একটি রুটি সত্যিই কি ডায়াবেটিকদের জন্য উপকারী হতে পারে? না কি এর আড়ালে লুকিয়ে আছে এমন কোনও ঝুঁকি, যা অজান্তেই ক্ষতি করছে শরীরের? পুষ্টিবিদ শ্রেয়া চক্রবর্তী বলেন, ‘‘টাটকা রুটি যখন ঠান্ডা করে ৮-১২ ঘণ্টা ফ্রিজে থাকে, তখন তার মধ্যে থাকা স্টার্চ ‘রেজ়িস্ট্যান্ট স্টার্চ’-এ বদলে যায়। এই রেজ়িস্ট্যান্ট স্টার্চ সাধারণ শর্করার মতো দ্রুত রক্তে মেশে না। অনেকটা ফাইবারের মতো কাজ করে। ফলে হজম হতে সময় লাগে বেশি এবং রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করে বাড়ে না। এই কারণেই বলা হয়, বাসি রুটির গ্লাইসেমিক ইনডেক্স টাটকা রুটির তুলনায় কিছুটা কম।’’
ডায়াবেটিকদের জন্য উপকার কী?
১. ব্লাড সুগার স্পাইক কমায়: রেজ়িস্ট্যান্ট স্টার্চ থাকায় বাসি রুটি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ে।
২. পেট ভরা থাকে: ফাইবার বেশি হওয়ায় অনেকক্ষণ পেট ভরা লাগে, বারবার খিদে পায় না। ওজন নিয়ন্ত্রণে সুবিধা হয়, যা ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য জরুরি।
৩. হজমের জন্য ভাল: অন্ত্রে ভাল ব্যাক্টেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এই রেজ়িস্ট্যান্ট স্টার্চ।
কিন্তু খেলেই হবে না, সাবধানতাও জরুরি।
বাসি রুটি মানেই অমৃত নয়। পুষ্টিবিদেরা বলছেন, ১০-১২ ঘণ্টার বেশি পুরনো, বিশেষ করে গরমকালে খোলা জায়গায় রাখা রুটিতে ব্যাক্টেরিয়া, ছত্রাক জন্মাতে পারে। তাতে ফুড পয়জ়নিং, বদহজমের ঝুঁকি বাড়ে।
২. বাসি রুটি মানেই আপনি বেশি তেল, ঘি বা আলুর তরকারি দিয়ে খাবেন, তা হলে সুগার নিয়ন্ত্রণের লাভটাই নষ্ট।
৩. বাসি রুটি খেলেই সুগার কমবে না। পরিমাণটাই আসল। ১-২টির বেশি নয়।
কী ভাবে খেলে বেশি উপকার?
রাতে তৈরি রুটি এয়ারটাইট কৌটোয় ভরে ফ্রিজে রাখুন। সকালে হালকা গরম করে, সঙ্গে সব্জি, টক দই বা ছোলা-শসার মতো ফাইবার সমৃদ্ধ কিছু দিয়ে খান। আটা মাখার সময়ে সাদা আটার বদলে মাল্টিগ্রেন বা বার্লি, রাগি মিশিয়ে নিলে উপকার আরও বেশি। যাঁদের হজমের গোলমাল আছে, তাঁরা বাসি রুটি এড়িয়ে চলুন।
তবে মনে রাখতে হবে, কিন্তু এটি কোনও ওষুধ নয়। ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে সুষম খাবার, হাঁটাহাঁটি এবং ওষুধ— তিনটিই জরুরি।