ওজন কমানোর জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা পরিশ্রম করতে হবে! মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হবে! ভারী, দামি সর়ঞ্জাম ছাড়া চলবে না! এমন নানা ধারণা আজও পোষণ করে থাকেন অনেকে। তাই আর ফিটনেসের রুটিন শুরুই করে ওঠা হয় না অনেকের। বরং একটি যন্ত্র ব্যবহার করে যে দ্রুত ওজন কমানো সম্ভব, তা দেখিয়ে দিলেন মুম্বই নিবাসী নেটপ্রভাবী, যোগপ্রশিক্ষক শ্রদ্ধা।
হাঁটার মধ্যেই যদি সামান্য বদল আনা যায়, তা হলে শারীরচর্চার মাত্রা অনেকটাই বাড়তে পারে। সম্প্রতি সেই নেটপ্রভাবী জানালেন, ট্রেডমিলে ইনক্লাইন ওয়াক করে প্রায় ৩৩ কেজি ওজন কমেছে তাঁর। শ্রদ্ধার দাবি, ট্রেডমিলে কম গতিতে বেশি ঢালে হাঁটা এবং খাবারের দিকে নজর রাখা তাঁর ওজন কমানোর যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল।
১০ মাস আগে ওজন কমানো শুরু করেছিলেন শ্রদ্ধা। তখন তাঁর ওজন ছিল ৯৫ কেজি। আর আজ তিনি ৬৬ কেজি ওজনে পৌঁছে গিয়েছেন ইনক্লাইন ওয়াকের দৌলতে। তাঁর দেওয়া রুটিনে ৩০ মিনিট হাঁটার কথা বলা হয়েছে। যাঁরা সবে শুরু করছেন, তাঁদের জন্য ঢাল ৫ এবং গতি ৩-এ রাখতে পারেন। মাঝারি স্তরে ঢাল ১০ এবং গতি ৩.৩-এ রাখতে পারেন। আর যাঁরা অভ্যস্ত, তাঁদের জন্য ঢাল ১৫ এবং গতি ৩.৫ রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে এই নির্দিষ্ট মাত্রাগুলি সকলের জন্য প্রযোজ্য নয়— এই জায়গাতেই গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা রয়েছেন। প্রথম দিনেই বেশি ঢাল বেছে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। নিজের শারীরিক ক্ষমতা অনুযায়ী হালকা ঢাল ও স্বচ্ছন্দ গতিতে শুরু করা যেতে পারে। কোনও ব্যথা বা অস্বস্তি না হলে ধীরে ধীরে হাঁটার সময় এবং ঢাল, দুই-ই বাড়ানো যায়। বয়স, ওজন, শারীরচর্চার অভ্যাস এবং হাঁটু বা অন্য সন্ধির অবস্থা, হৃদ্যন্ত্রের রোগ বা অন্য কোনও অসুখ— সব কিছুর উপর নির্ভর করে রুটিন বদলানো প্রয়োজন। তাই সবার জন্য একই ঢাল বা গতি ঠিক করে দেওয়া যায় না।
ট্রেডমিলের ঢাল বাড়ালে সমতলে হাঁটার তুলনায় শরীরকে মাধ্যাকর্ষণের বিরুদ্ধে বেশি কাজ করতে হয়। ফলে পায়ের বিভিন্ন পেশিতে বেশি চাপ পড়ে এবং শারীরচর্চার তীব্রতাও বাড়ে। না দৌড়েও হাঁটাকে তুলনায় বেশি পরিশ্রমের করে তোলা সম্ভব এই ব্যায়ামে। ফলে ক্যালোরি বেশি ঝরে এ ক্ষেত্রে। নিজের ক্ষমতা বুঝে, ধীরে ধীরে তীব্রতা বাড়িয়ে এবং সুষম খাবার খেয়ে এই শারীরচর্চা করলে আপনারও হয়তো ওজন ঝরতে পারে শ্রদ্ধার মতো।