আমরা বিভিন্ন পুজোয় কেবলই অনুষ্ঠান বা আয়োজনের আনন্দে মাতি। নির্দিষ্ট দেবদেবীর পুজোর সময়ে আনন্দে মেতে ওঠার পাশাপাশি যদি সঠিক ভাবে সেই দেবদেবীর পুজো, আরাধনা এবং কিছু নিয়ম পালন করতে পারি, তবে নির্দিষ্ট কিছু অশুভ যোগ, দোষ বা অশুভ গ্রহের প্রতিকার করতে পারি। যা লক্ষ লক্ষ টাকার গ্রহরত্ন ধারণ করেও সম্ভব না।
যে কোনও শাস্ত্র, পৌরাণিক কাহিনি বা দেবদেবীর কাহিনি পড়লে বা তা শোনার সময় খুব সূক্ষভাবে চিন্তা করা উচিত। প্রত্যেক কাহিনিতে কিছু না কিছু গুরুত্বপূর্ণ গোপন বার্তা থাকে, যা সূক্ষ চিন্তাভাবনা ছাড়া পাঠোদ্ধার করা সম্ভব নয়।
যেমন অসুরনাশিনী দেবী দুর্গা অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে শুভ শক্তি দান করেন। একই সঙ্গে, তিনি নাশ করেন অসংখ্য ভয়ঙ্কর অশুভ যোগ বা দোষ। নাশ বা হ্রাস করেন ভয়ঙ্কর অশুভ গ্রহের কুপ্রভাব।
দেবী দুর্গা যেমন অসুর নিধন করেন, ত্রিশূল বিদ্ধ করে অসুরকে অশুভ কর্ম থেকে বিরত রাখেন, তেমনই জ্যোতিষশাস্ত্রের অসুর গ্রহ রাহুকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন দেবী দুর্গা। দেবী দুর্গার আরাধনা রাহুর কুপ্রভাব থেকে রক্ষা করে। রাহুর প্রভাবে সৃষ্টি হওয়া একটি ভয়ঙ্কর অশুভ যোগ হল গুরুচণ্ডাল যোগ। যা দেবী দুর্গার আরাধনায় হ্রাস বা নাশ করা সম্ভব। গুরুচণ্ডাল যোগ ছাড়াও রাহুর যে কোনও অশুভ প্রভাব হ্রাস বা নাশ করে দেবী দুর্গার আরাধনা।
রাহুকে কেন এত ভয়? রাহু ভ্রান্তিদায়ক গ্রহ। নেশা আসক্তি, কুসঙ্গ, উদ্ভ্রান্ত, অবাস্তব চিন্তা ইত্যাদি সংগঠিত করে তামসিকতা বৃদ্ধি করে। জন্মছকে রাহুর অবস্থান এমন এক স্থান, যার সাথে শুক্র ছাড়া অন্য যে কোনও শুভ গ্রহ অবস্থান করলে তা শুভ ফল দান করতে ব্যর্থ হয়। যেমন গুরুচণ্ডাল যোগ বা দোষ।
গুরুচণ্ডাল যোগে রাহুর প্রভাবে প্রভাবিত হওয়ার এবং বৃহস্পতির প্রভাব হ্রাসের কারণে সুস্থ চিন্তা, সুস্থ জীবনধারা ব্যহত হয় এবং ভ্রান্তির কারণে কুপথে চালিত হয়। নাড়ীজ্যোতিষ মতে এই দোষ আয়ুর উপরও প্রভাব দান করে। বৈদিকজ্যোতিষ মতে, গুরুচণ্ডাল যোগে রাহুর দশা, অন্তঃদশা, প্রত্যন্ত দশাকালে বিশেষ সচেতনতা অবলম্বন জরুরি। সেই সময়কালে দেবী দুর্গার পুজো খুবই সুফল দান করে।
শুধু মাত্র রাহু-বৃহস্পতি নয়, রাহুর সঙ্গে যে কোনও গ্রহ অবস্থান করলে রাহুর অশুভ ফল হ্রাস বা নাশ করতে দেবী দুর্গার পুজো-আরাধনায় সুফল প্রাপ্তি হয়। এ ছাড়া দেবী দুর্গার নব (নয়টি) রূপের আরাধনায় নয়টি গ্রহের প্রতিকার সম্ভব।