গ্রহের গতি পরিবর্তন কী? আক্ষরিক অর্থে গ্রহের গতি পরিবর্তন বা বক্রগতি মানে গ্রহের উল্টো চলন। অর্থাৎ, গ্রহ স্বাভাবিক ভাবে যে অভিমুখে চলে, বক্র গতিকালে তার অভিমুখ পরিবর্তিত হয়। বাস্তবেই কি গ্রহ উল্টো দিকে ঘোরে? গ্রহ কখনও বক্র বা উল্টো দিকে ঘোরে না।
সূর্যের চতুর্দিকে বিভিন্ন কৌণিক দূরত্বে বিভিন্ন গ্রহের অবস্থান রয়েছে। প্রত্যেক গ্রহ সূর্যের থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে, নির্দিষ্ট গতিতে তাকে প্রদক্ষিণ করছে। গ্রহদের এই প্রদক্ষিণ পথকে সমান ১২টি অংশে ভাগ করা হয়। প্রত্যেকটি অংশ হল পৃথক পৃথক রাশি, ৩০ ডিগ্রি। জ্যোতিষশাস্ত্রের হিসাবে রবির থেকে নবম স্থান এবং পঞ্চম স্থানের মধ্যে কিছু অংশে শনি অবস্থান করলে তাকে বক্র গতিপ্রাপ্ত মনে হয়। জ্যোতির্বিদ্যা অনুসারে, সূর্য এবং শনি গ্রহের কৌণিক দূরত্ব ১১৫ ডিগ্রি থেকে ২৪৫ ডিগ্রির মধ্যে অবস্থানকালে শনি গ্রহকে পৃথিবীর সাপেক্ষে বক্র গতিপ্রাপ্ত বা উল্টো দিকে ঘুরছে বলে মনে হয়।
আরও পড়ুন:
পৃথিবীর বহির্ভাগের গ্রহ যখন পৃথিবীর কাছাকাছি আসে তখন তাকে বক্র গতিপ্রাপ্ত মনে হয়। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী গ্রহ বক্র গতিপ্রাপ্ত হলে গ্রহের চেষ্টাবল বৃদ্ধি পায়। পৃথিবীর কাছাকাছি অবস্থান এবং চেষ্টাবল বৃদ্ধির কারণে গ্রহের ফলদানের ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়।
এই বিষয়ে বিভিন্ন গ্রন্থে ভিন্ন ভিন্ন মতামত থাকলেও, একটি বিষয়ে সকল গ্রন্থ একমত যে গ্রহের বক্রগতির কালে গ্রহের ফলদানের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় বা সে অধিক ফল দান করে। শাস্ত্রমতে গ্রহদের দুই ভাগে ভাগ করা হয়। নৈসর্গিক শুভ গ্রহ এবং অশুভ গ্রহ। বক্র গতিতে নৈসর্গিক শুভ গ্রহ অধিক শুভ ফল দান করে এবং অশুভ গ্রহের অশুভ ফল দানের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। শুভ গ্রহ দৈবিক, দৈহিক এবং ভৌতিক— সকল ক্ষেত্রে শুভ ফল দান করলেও, অশুভ গ্রহ কেবল ভৌতিক বিষয়ে অধিক শুভ ফল দান করে। শনি গতি পরিবর্তন করে আগামী ২৭ জুলাই ২০২৬ বক্র গতিপ্রাপ্ত হবে। বক্র গতিতে অবস্থান করবে আগামী ১০ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। ১১ ডিসেম্বর পুনরায় গতি পরিবর্তন করে মার্গী গতিপ্রাপ্ত হবে।