১৯৯৮ সালের কোয়েম্বত্তূর ধারাবাহিক বোমা বিস্ফোরণ মামলায় যাবজ্জীবন জেলের সাজাপ্রাপ্ত পাঁচ জন অপারাধীকে ৬০ দিনের প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল তামিলনাড়ু সরকার। আর তা ঘিরেই তৈরি হল রাজনৈতিক চাপানউতর। মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়ের নেতৃত্বাধীন টিভিকে-কংগ্রেস জোটের সরকারের ওই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে বিজেপি।
রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র নারায়ণন তিরুপতি মঙ্গলবার বলেন, ‘‘সন্ত্রাসবাদীদের মুক্তি দেওয়া চলবে না। অবিলম্বে প্যারোল বাতিল করতে হবে।’’ প্রকাশিত খবরে দাবি, প্যারোলে মুক্তিপ্রাপ্তেরা নিষিদ্ধ সংগঠন ‘আল-উম্মা’র সঙ্গে যুক্ত এবং বর্তমানে কোয়েম্বত্তূর সেন্ট্রাল জেলে বন্দি। ওই পাঁচ অপরাধী মহম্মদ আনসারি, মহম্মদ আলি, মোনাপ্পা ওরফে মহম্মদ হাসান, মহম্মদ আজম এবং নবাব খানকে ব্যক্তিগত ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে ৬০ দিনের প্যারোল দেওয়া হয়েছে। তাঁরা প্রত্যেকেই গত আড়াই দশক ধরে জেলে রয়েছেন।
আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, ১৯৯৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তামিলনাড়ুর কোয়েম্বত্তূর একের পর এক বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছিল। প্রবীণ বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আডবাণী সে সময় কোয়েম্বত্তূরে নির্বাচনী প্রচারে গিয়েছিলেন। যে মঞ্চে তাঁর বক্তৃতা করার কথা ছিল, তার অদূরেই বোমা হামলা চালানো হয়। এর পর একে একে শহরের অন্তত ১৪টি জায়গায় ধারাবাহিক ভাবে বোমা বিস্ফোরণ হয়। ওই ঘটনায় ৫৮ জন নিহত হন। আহত হন অন্তত ২৩১ জন। প্রথমে কোয়েম্বত্তূর পুলিশ মামলার তদন্ত শুরু করলেও পরে মামলার গুরুত্ব বুঝে এটি বিশেষ তদন্ত দল (সিট)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পাঁচ জনকে পরবর্তী কালে গ্রেফতার করেছিল সিট। তবে অন্যতম চক্রী তথা বিস্ফোরক সরবরাহে অভিযুক্ত টেলর রাজা ওরফে সাদিক দীর্ঘ ২৯ বছর পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে লুকিয়ে ছিলেন। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ছত্তীসগঢ় থেকে তাঁকে গ্রেফতার করেছিল তামিলনাড়ু পুলিশের সন্ত্রাসদমন স্কোয়া়ড।