জলের কল খুললেই দুর্গন্ধ। গত কয়েক দিন ধরে এমনটা হচ্ছিল। ক্রমশ জলে দুর্গন্ধ বাড়ছিল। তাই নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছিলেন পড়ুয়ারা। এর মধ্যে একের পর এক পড়ুয়া অসুস্থ। পেটব্যথা, বমির মতো উপসর্গ নিয়ে ভুগছেন তাঁরা। কী থেকে কী হল দেখতে গিয়ে চক্ষু চড়কগাছে কর্তৃপক্ষের। জলের ট্যাঙ্কের ভিতরে মিলল মরা হনুমান! শোরগোল গুয়াহাটির অসম ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে।
জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ৭ নম্বর হস্টেলের আবাসিকেরা একে একে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। অন্তত ৫৪ জন পড়ুয়া গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
কয়েক জন আবাসিক পড়ুয়া জানিয়েছেন, কয়েক দিন ধরে জলে দুর্গন্ধ বেরোচ্ছিল। রবিবার তাঁরা নিজেরাই সমস্যার উৎস খুঁজতে বার হন। ওই ট্যাঙ্কের জল তাঁরা পান করেন। স্নান, শৌচ— সবই ওই ট্যাঙ্কের জলে। জলের পাইপ ইত্যাদি দেখার পরে তাঁরা সমস্যা খুঁজে না পেয়ে হস্টেলের কেয়ারটেকারকে জানান। তার মধ্যে কয়েক জন পড়ুয়া অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
পর পর কয়েক জন পড়ুয়া অসুস্থ হয়ে পড়ার পর হস্টেলের কয়েক জন মিলে জলের ট্যাঙ্ক পরীক্ষা করতে গিয়েছিলেন। দেখা যায় ট্যাঙ্কের ভিতরে একটি হনুমান পড়ে রয়েছে। ওই খবর ছড়িয়ে পড়তেই আতঙ্ক ছড়ায়। অসুস্থতার সংখ্যাও বাড়তে থাকে।
ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের পড়ুয়ারা জানিয়েছেন, পুজোর ছুটি শেষ করে হস্টেলে আসার পর থেকেই জলে দুর্গন্ধ পাচ্ছিলেন তাঁরা। ফলে না জেনে গত কয়েক দিন ধরে দূষিত জল পান করেছেন সকলে।
আরও পড়ুন:
সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষ অমৃতা গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, জলের ট্যাঙ্ক পরিশুদ্ধ করার কাজ শুরু হয়েছে। ওই হস্টেলের সকল আবাসিককে অন্যত্র স্থানান্তরিত করা হয়েছে। যাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অধ্যক্ষ জানান, ৩০-৪০ জন পড়ুয়া অসুস্থ। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন অসম ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ৫৪ জন পড়ুয়ার চিকিৎসা চলছে। ৫৪ জনেরই শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।