অশান্তির আগুন কিছুতেই নিভছে না মণিপুরে। নতুন করে হিংসা এবং প্রাণহানির ঘটনার মধ্যেই শুক্রবার মণিপুরে ‘সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন’ বা ‘আফস্পা’-র (আর্মড ফোর্সেস স্পেশ্যাল পাওয়ার অ্যাক্ট) মেয়াদ বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ১ অক্টোবর (২০২৬) থেকে আরও ছ’মাসের জন্য রাজ্যের ১৩টি নির্দিষ্ট থানা এলাকা বাদে গোটা মণিপুরকেই ‘উপদ্রুত এলাকা’ বা ‘ডিস্টার্বড্ এরিয়া’ হিসেবে গণ্য করা হবে। ২০২৩ সাল থেকেই মণিপুরে এই আইন জারি রয়েছে, যার মেয়াদ পরিস্থিতি অনুযায়ী দফায় দফায় বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
‘আফস্পা’-র (১৯৫৮) ৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী, কোনও রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হলে এবং অসামরিক প্রশাসনকে সাহায্য করতে সশস্ত্র বাহিনীর প্রয়োজন হলে, কেন্দ্র বা রাজ্যপাল গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সেই এলাকাকে ‘উপদ্রুত’ ঘোষণা করতে পারে।
আরও পড়ুন:
কেন্দ্রের এই মেয়াদ বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের ঠিক আগেই শুক্রবার মণিপুরের কামজং জেলায় নতুন করে হিংসার ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। মায়ানমার সীমান্ত লাগোয়া প্রত্যন্ত পিলং গ্রামে সন্দেহভাজন জঙ্গিদের গুলিতে নিহত হন চার জন। তাঁদের শরীরে একাধিক গুলির ক্ষত মিলেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার মায়ানমার থেকে একদল জঙ্গি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করে পাঁচ জন গ্রামবাসীর ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। তাঁদের মধ্যে এক জন কোনওরকমে পালিয়ে এসে স্থানীয় প্রশাসনকে খবর দেন। এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা করেছেন মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিংহ। তিনি বলেন, “আমাদের সমাজে এ ধরনের হিংসার কোনও স্থান নেই এবং তা বরদাস্ত করা হবে না।” নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনাও জানিয়েছেন তিনি।
২০২৩ সাল থেকে মেইতেই এবং কুকি-জো সম্প্রদায়ের মধ্যে জাতিগত সংঘর্ষে মণিপুর কার্যত যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি কুকি সম্প্রদায়ের তিন জনের মৃত্যুর বদলা নিতে কাংপোকপিতে তিনটি গ্রামে হামলা চালায় সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা। এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর তামেংলং জেলায় জোড়া হামলায় এক দম্পতি-সহ চার জনের মৃত্যু হয় এবং বছর ছয়েকের এক বালক আহত হয়। তার ঠিক এক সপ্তাহ পরেই ওই একই জেলায় ১৭ বছরের এক কিশোরকে গুলি করে খুন করা হয়।
সরকারি আধিকারিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুধু মেইতেই-কুকি সংঘাতই নয়, গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে নাগা ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে শুরু হওয়া সংঘাতেও এখনও পর্যন্ত অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ‘আফস্পা’-র মেয়াদ বৃদ্ধি করা ছাড়া কেন্দ্রের কাছে অন্য কোনও পথ খোলা ছিল না বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।