আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে। ড্রোন অনুপ্রবেশ এবং তার পাল্টা বিমানহানার পর এ বার সীমান্তে সরাসরি সংঘর্ষে জড়াল দু’পক্ষ। শুক্রবার পাকিস্তানের সরকারি সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, বালোচিস্তান প্রদেশের গুলিস্তান সেক্টর দিয়ে পাকিস্তানি ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে একদল আফগান তালিবান। পাক নিরাপত্তারক্ষীরা বাধা দিলে দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র গুলির লড়াই শুরু হয়। পাকিস্তানের দাবি, তাদের বাহিনীর পাল্টা গুলিতে একাধিক আফগান তালিবান যোদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পরেও দু’পক্ষের মধ্যে থেকে থেকে গুলি চলেছে। তবে নিহতের সংখ্যা নিয়ে আফগান তালিবান প্রশাসনের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
সীমান্তে এই সংঘর্ষের ঠিক আগেই আফগানিস্তানের মাটিতে সামরিক অভিযান চালায় পাকিস্তান। পাক তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লা তারার জানান, বৃহস্পতিবার আফগানিস্তানের অন্তত ১০টি ডেরায় নিখুঁত ভাবে ড্রোন ও বিমানহানা চালিয়েছে পাক সেনা। তাঁর দাবি, বুধবার আফগান ভূখণ্ড থেকে বেশ কয়েকটি ড্রোন পাকিস্তানের আকাশসীমায় বেআইনি ভাবে প্রবেশ করেছিল। এর পাল্টা ‘আত্মরক্ষার অধিকার’ প্রয়োগ করেই বৃহস্পতিবার ওই হামলা চালানো হয়েছে। উল্লেখ্য, বুধবার খাইবার পাখতুনখোয়ার তোরখাম ও কোহাট সীমান্তের কাছে আটটি ড্রোন গুলি করে নামানোর দাবি করেছিল পাকিস্তান।
আরও পড়ুন:
আফগানিস্তানের তালিবান সরকার অবশ্য পাকিস্তানে ড্রোন পাঠানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পাক বিমানহানার তীব্র নিন্দা করে তালিবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লা মুজাহিদ দাবি করেছেন, বৃহস্পতিবারের পাক হামলায় চার জন আফগান নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এই ধরনের পদক্ষেপের জন্য পাকিস্তানকে ‘ভয়াবহ পরিণতি’ ভোগ করতে হবে এবং কাবুল এর উপযুক্ত জবাব দেবে।
পাক-আফগান সীমান্তে এই সাম্প্রতিক উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে নিষিদ্ধ সংগঠন ‘তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান’ (টিটিপি)। গত ২১ সেপ্টেম্বর টিটিপি-র গোপন ডেরা লক্ষ্য করে আফগানিস্তানে বিমানহানা চালিয়েছিল পাক সেনা। ইসলামাবাদের দাবি ছিল, ওই হামলায় আত্মঘাতী বোমারু-সহ ২৮ জন জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে। যদিও আফগান প্রশাসন দাবি করে, হামলায় অন্তত তিন সাধারণ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, কাবুলের তালিবান সরকার টিটিপি এবং অন্যান্য সশস্ত্র সংগঠনকে আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলার সুযোগ করে দিচ্ছে। কাবুল অবশ্য নিয়মিত ভাবে এই অভিযোগ খারিজ করে আসছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে টিটিপি-র বিরুদ্ধে ‘গজ়ব লিল হক’ নামে দেশ জুড়ে এক সন্ত্রাসদমন অভিযান শুরু করেছে পাকিস্তান। আর তারই অংশ হিসেবে আফগানিস্তানে এই ধারাবাহিক সামরিক পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলে দাবি ইসলামাবাদের।