পূর্ব মেদিনীপুরের শিল্পশহর হলদিয়ায় ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়ার অস্বাভাবিক মৃত্যু। বৃহস্পতিবার হলদিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির (এইচআইটি) হস্টেলের একটি ঘর থেকে উদ্ধার হল প্রথম বর্ষের এক ছাত্রের ঝুলন্ত দেহ। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ওই ছাত্রের নাম আদিত্য রায় (২০)। তাঁর আদি বাড়ি বিহারের পটনার বুদ্ধ কলোনি এলাকার বাসুদেব ভবনে। তিনি ওই কলেজের অ্যাপ্লায়েড ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড ইনস্ট্রুমেন্টেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। এক তরুণ মেধাবী পড়ুয়ার এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে কলেজ ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জানা গিয়েছে, কলেজের গ্যালিলিও হল অফ রেসিডেন্স (পি২) হস্টেলের ৪২৩ নম্বর ঘরে আরও তিন জন সহপাঠীর সঙ্গে থাকতেন আদিত্য। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয়ার্ধে ওই তিন সহপাঠী ক্লাসে গেলেও, আদিত্য যাননি। তিনি হস্টেলের ঘরেই থেকে যান। পরে ক্লাসশেষে সহপাঠীরা ফিরে এসে দেখেন, ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। জানালার পাল্লাগুলিও আটকানো। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পর সাড়া না মেলায় সন্দেহ হয়। তাঁরা জানালার একটি পাল্লা ভাঙেন। তখনই দেখা যায়, সিলিং ফ্যানের সঙ্গে বিছানার চাদর দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলছেন আদিত্য।
আরও পড়ুন:
তড়িঘড়ি খবর দেওয়া হয় কলেজ কর্তৃপক্ষকে। কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফে হলদিয়া থানায় খবর দেওয়া হলে, পুলিশ এসে ঘরের দরজা ভেঙে ছাত্রটিকে উদ্ধার করে। তাঁকে দ্রুত হলদিয়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। হলদিয়া থানার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পরিবারের তরফে কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। তবে ঠিক কী কারণে ওই ছাত্র আত্মঘাতী হলেন, তার নেপথ্যে পড়াশোনার চাপ না কি অন্য কোনও ব্যক্তিগত কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
হলদিয়ার এই ঘটনা ফের একবার দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে পড়ুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং আত্মহত্যার ক্রমবর্ধমান প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল। কয়েক দিন আগেই মুম্বইয়ের আইআইটি বম্বেতে পরীক্ষায় ‘চ্যাটজিপিটি’ ব্যবহারের অভিযোগে ধরা পড়ার পর রহস্যজনক ভাবে সাহিল ওয়াকোডে নামে এক দলিত ছাত্রের আত্মহত্যার ঘটনা গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। যার জেরে আইআইটি হস্টেলে সিলিং ফ্যান বদলের মতো সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্কও চলছে। আইআইটি বম্বে, রাজস্থানের কোটা থেকে শুরু করে এ বার হলদিয়া— একের পর এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ুয়াদের এই মর্মান্তিক পরিণতি দেশের শিক্ষামহলের কাছে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।