প্রায় ৪০০ জনের প্রতিনিধিদল নিয়ে ভারতে ব্রিক্স শীর্ষসম্মেলনে যোগ দিতে আসতে পারেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বিদেশ মন্ত্রকের সূত্র উদ্ধৃত করে প্রকাশিত কয়েকটি খবরে মঙ্গলবার এই দাবি করা হয়েছে। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, প্রায় সাত বছর পরে চিনা প্রেসিডেন্টের ভারত সফরে নয়াদিল্লি-বেজিং কূটনৈতিক সম্পর্কের ‘বরফ গলার’ সূচনা হতে পারে।
আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ব্রিক্স শীর্ষসম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। ২০১২, ১৬ এবং ২১-এর পরে এই চতুর্থ বার ভারত ব্রিক্স-এর আয়োজক এবং সভাপতি রাষ্ট্র। সামগ্রিক ভাবে ব্রিক্স-এর মূল বিষয় এ বার উদ্ভাবন, সহযোগিতা, সুস্থিতি বৃদ্ধি। কিন্তু শীর্ষসম্মেলনের পার্শ্ববৈঠকে জিনপিং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে নানা দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে পারেন বিদেশ মন্ত্রকের একটি সূত্র জানাচ্ছে। রয়টার্স প্রকাশিত খবরে দাবি, নয়াদিল্লির চিনা দূতাবাসের আধিকারিকেরা এখন হোটেল ও নিরাপত্তা প্রোটোকল চূড়ান্ত করতে ব্যস্ত। সম্প্রতি, অরুণাচল প্রদেশের কিছু এলাকার নামকরণ নিয়ে নয়াদিল্লি-বেজিং কূটনৈতিক বাদানুবাদ হয়েছে। উত্তেজনার এই আবহেই ভারতে আসছেন জিনপিং।
জিনপিঙের ভারত সফর নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনও ঘোষণা হয়নি বেজিঙের তরফে। দু’দিনের চিন সফরের দ্বিতীয় দিনে মঙ্গলবার সে দেশের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে ‘বিশেষ প্রতিনিধি’ স্তরের বৈঠক করেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। সাক্ষাৎ করেন চিনা ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেঙের সঙ্গেও। সেখানে ব্রিক্স শীর্ষসম্মেলন নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। যদিও তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে চিনা বিদেশ দফতরের মুখপাত্র লিন জিয়ান মঙ্গলবার জিনপিঙের ভারত সফরের সম্ভাবনা নিয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করেননি। প্রসঙ্গত, প্রতিষ্ঠাতা পাঁচ দেশ— ভারত, চিন, রাশিয়া, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়াও ব্রিক্সের বর্তমান সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে রয়েছে মিশর, ইন্দোনেশিয়া, ইথিওপিয়া, ইরান, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। পাকিস্তান ২০২৩ সালের শেষের দিকে ব্রিক্সের সদস্যপদের জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছিল। তবে এখনও পর্যন্ত ইসলামাবাদ ছাড়পত্র পায়নি।
আরও পড়ুন:
২০১৯ সালে শেষ বার ভারতে এসেছিলেন জিনপিং। সে সময় ২০০ জনের চিনা প্রতিনিধিদল ছিল তাঁর সঙ্গী। তামিলনাড়ুর মামাল্লাপুরমে মোদীর সঙ্গে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। ঘটনাচক্রে, তার পরের বছরেই পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) লঙ্ঘনকারী চিনা ফৌজের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে ভারতীয় সেনা। রক্তক্ষয়ী ওই সংগ্রামে এক কর্নেল-সহ ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছিলেন। চিন সরকারি ভাবে তাদের চার সেনার মৃত্যুর কথা স্বীকার করে। যদিও বিভিন্ন সূত্রে দাবি, গালওয়ানে চিনের অন্তত ৩৮ জন জওয়ানের মৃত্যু হয়েছিল। ওই সংঘর্ষের পর থেকেই ভারত এবং চিনের পারস্পরিক সম্পর্কের দ্রুত অবনতি হয়। ‘অপারেশন সিঁদুর’ এবং তৎপরবর্তী ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষে চিন প্রকাশ্যেই পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছিল। তার পরে অবশ্য প্রধানমন্ত্রী মোদী ২০২৫ সালের ৩১ অগস্ট-১ সেপ্টেম্বর চিন সফর করেছিলেন। তিয়ানজ়িনে শাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও) শীর্ষবৈঠকে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি জিনপিঙের সঙ্গে পার্শ্ববৈঠক করেছিলেন তিনি।