সামরিক পরিভাষায় নাম, ‘হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকল্’ (এইচজিভি)। আদতে উড়ন্ত অবস্থায় শব্দের চেয়ে পাঁচ গুণের বেশি গতিবেগসম্পন্ন ‘আকাশ থেকে আকাশ’ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকারী ব্যবস্থা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের সূত্র উদ্ধৃত করে এনডিটিভি প্রকাশিত একটি খবরে দাবি, বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণযোগ্য, হাজার কিলোমিটার পাল্লার সেই প্রযুক্তি করায়ত্ত করে ফেলেছে চিন।
এর ফলে আমেরিকার আকাশসীমায় থাকা যুদ্ধবিমান, রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কার (আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান), কমান্ড পোস্ট চিনা পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)-র পাল্লায় চলে এল বলে প্রকাশিত খবরে জানানো হয়েছে। সাধারণ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ আগে থেকে অনুমান করা গেলেও, চিনের নয়া হাইপারসনিক প্রযুক্তিতে উৎক্ষেপণ করা ক্ষেপণাস্ত্র উড়ন্ত অবস্থাতেই গতিপথ ও দিক পরিবর্তন করতে পারে। ফলে প্রচলিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দ্বারা এর মোকাবিলা করা কঠিন।
সাধারণ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মতো এটি মহাকাশে গিয়ে পূর্বনির্দিষ্ট ধনুকের মতো (প্যারাবোলিক) গতিপথ ধরে নীচে নেমে আসে না। এইচজিভি প্রথমে রকেটের সাহায্যে হাইপারসনিক গতিতে বায়ুমণ্ডলের উপরের স্তরে পৌঁছয়। এর পর এটি থেকে উৎক্ষেপণ করা হয় ক্ষেপণাস্ত্র। সেটি তীব্র গতিতে লক্ষ্যবস্তুর দিকে এগিয়ে যায়।
ইরান যুদ্ধের আবহে মার্কিন বিমানবাহিনীর ‘ই-৪বি নাইটওয়াচ’ ফ্লাইং কমান্ড পোস্ট, ‘এয়ারবোর্ন আর্লি-ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল’ (অ্যাওয়াক্স) জেটের মতো মূল্যবান বিমানগুলির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এইচজিভি-তে ব্যবহারযোগ্য চিনা ‘ডিএফ-১৭’ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার। যা প্রশান্ত মহাসাগরের মার্কিন সামরিক ঘাঁটি গুয়ামের আকাশে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুকে নিশানা করতে পারে। এর উন্নততর সংস্করণ ডিএফ-২৭ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় ৮০০০ কিলোমিটার। যার আওতায় রয়েছে আমেরিকার হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ। পেন্টাগনের হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে চিনের কাছে ৩ হাজার ১৫০টির বেশি ব্যালিস্টিক ও ৩০০টির বেশি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। অন্য দিকে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে চলা সামরিক অভিযানের কারণে গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি তৈরি হয়েছে মার্কিন বাহিনীতে।