Advertisement
E-Paper

‘দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিকোণ থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে দেখতে হবে’, সীমান্ত সমস্যা নিয়ে ডোভালের বৈঠকে চিনা বার্তা

ঐকমত্যের ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন ডোভাল এবং ওয়াং। অর্থনীতি, রাজনীতি ও বহুপাক্ষিক ফোরামের ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও উন্নত করার বিষয়েও কথা হয়েছে বৈঠকে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৫ অগস্ট ২০২৬ ১৮:২৬
National Security Advisor Ajit Doval held talks with Chinese Foreign Minister Wang Yi in Beijing

(ডান দিকে) অজিত ডোভাল এবং ওয়াং ই (বাঁ দিকে)। —ফাইল চিত্র।

দু’দিনের চিন সফরের দ্বিতীয় দিনে সে দেশের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে ‘বিশেষ প্রতিনিধি’ স্তরের বৈঠক করলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। সাক্ষাৎ করলেন চিনা ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেঙের সঙ্গেও।

মঙ্গলবার ডোভাল এবং ওয়াং ভারত-চিন সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে ২৫তম দ্বিপাক্ষিক বিশেষ প্রতিনিধিস্তরের বৈঠকে যোগ দেন। বেজিঙের ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, ঐকমত্যের ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন দুই নেতা। অর্থনীতি, রাজনীতি ও বহুপাক্ষিক ফোরামের ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও উন্নত করার বিষয়েও কথা হয়েছে বৈঠকে। অন্য দিকে, ডোভালের সঙ্গে বৈঠকের পরে হান বলেন, ‘‘চিন ও ভারতের উচিত কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিকোণ থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে দেখা ও পরিচালনা করা। দ্বিপাক্ষিক গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্যের বিষয়গুলি বাস্তবায়নে একসঙ্গে কাজ করা।’’

আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ব্রিক্‌স শীর্ষসম্মেলনে যোগ দিতে আসতে পারেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তার আগে ডোভালের এই চিন সফর ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ বলে কূটনীতিকদের একাংশ মনে করছেন। ২০১২, ১৬ এবং ২১-এর পরে এই চতুর্থ বার ভারত ব্রিক্‌স-এর আয়োজক এবং সভাপতি রাষ্ট্র। সামগ্রিক ভাবে ব্রিক্‌স-এর মূল বিষয় এ বার উদ্ভাবন, সহযোগিতা, সুস্থিতি বৃদ্ধি। কিন্তু পার্শ্ববৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী চিনের প্রেসিডেন্ট জিংপিঙের মুখোমুখি হতে পারেন বলে বিদেশ মন্ত্রকের একটি সূত্র জানাচ্ছে। যদিও তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে চিনা বিদেশ দফতরের মুখপাত্র লিন জিয়ান মঙ্গলবার জিনপিঙের ভারত সফরের সম্ভাবনা নিয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করেননি। মোদি ও জিনপিং শেষবার ২০২৫ সালের অগস্টে তিয়ানজ়িনে শাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের সময় পার্শ্ববৈঠক করেছিলেন।

ভারত-চিন সীমান্ত সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে ২০০৩ সাল থেকে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনা হয়ে আসছে। বর্তমানে ডোভাল এবং ওয়াং ‘বিশেষ প্রতিনিধি’ হিসেবে আলোচনায় অংশগ্রহণ করছেন। ২০২০ সালের পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকার প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি)-য় দুই সেনার সংঘর্ষ এবং দীর্ঘস্থায়ী সামরিক অচলাবস্থার জেরে নয়াদিল্লি ও বেজিঙের সম্পর্কে তিক্ততা তৈরি হয়েছিল। জইশ-এ-মহম্মদের প্রধান মাসুদ আজহারের ভাই আব্দুল রউফকে আন্তর্জাতিক জঙ্গি তালিকায় অন্তর্ভুক্তি আটকে দেওয়া নিয়েও নয়াদিল্লি-বেজিং কূটনৈতিক সংঘাত সৃষ্টি হয়। তবে এর পরে উভয় পক্ষই সম্পর্ক স্থিতিশীল করার জন্য সক্রিয় হয়েছিল। সীমান্ত সমস্যার সমাধানে সাফল্য না এলেও, এলএসি-তে উত্তেজনা প্রশমনে আস্থাবর্ধক পদক্ষেপ কার্যকর করতে তৎপর হয় দু’পক্ষ। সম্প্রতি অরুণাচল প্রদেশের এলএসি-তে চিনা ফৌজের অনুপ্রবেশের অভিযোগ ঘিরে তৈরি হওয়া উত্তেজনার আবহে তাই বেজিঙের বৈঠকের দিকে আন্তর্জাতিক নজর ছিল বলে জানিয়েছে সংবাদসংস্থা রয়টার্স। চিনা বিদেশ দফতরের মুখপাত্র মঙ্গলবার বলেন, ‘‘বিশেষ প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনাই হল সীমান্ত-প্রশ্নে চিন ও ভারতের মধ্যে মত বিনিময়ের প্রধান মাধ্যম এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলিতে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ।’’

internal security advisor Ajit Doval Wang Yi Beijing Chinese Foreign Ministry LAC India-China Conflict PLA India-China

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy