চার মাসের টানাপড়েনের পরে অবশেষে পঞ্জাব প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি পদ থেকে সরতে হল অমরিন্দর সিংহ রাজা ওয়ারিংকে। প্রকাশিত কয়েকটি খবরে দাবি, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চরণজিৎ সিংহ চন্নীর নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর দাবি নেমে পঞ্জাবের দায়িত্বপ্রাপ্ত এআইসিসি পর্যবেক্ষক সচিন পাইলট লুধিয়ানার সাংসদ ওয়ারিংকে সরানোর পক্ষেই বার্তা দিয়েছিলেন কংগ্রেস হাইকমান্ডকে। এর পরে কংগ্রেস হাইকমান্ডের নির্দেশ মেনে ইস্তফা দিয়েছেন ওয়ারিং।
কংগ্রেসের একটি সূত্র জানাচ্ছে, পরবর্তী প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে সঙ্গরুরের প্রাক্তন সাংসদ তথা কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদর বিজয় ইন্দর সিংলা এবং গুরদাসপুরের সাংসদ সুখজিন্দর সিংহ রণধাওয়ার নাম। এ ছাড়া, অমৃতসরের সাংসদ গুরজিৎ সিংহ অউজলা, ভারতীয় হকি দলের প্রাক্তন অধিনায়ক তথা জলন্ধর (ক্যান্টনমেন্ট)-এর বিধায়ক পরগত সিংহ এবং রাজা সানসি কেন্দ্রের বিধায়ক সুখবিন্দর সিংহ সরকারিয়ার নাম রয়েছে জল্পনায়। ঘটনাচক্রে এঁরা সকলেই বর্তমানে চন্নীর ঘনিষ্ঠ। বিজয় এবং সুখজিন্দরের সঙ্গে পঞ্জাব বিধানসভার বিরোধী দলনেতা তথা প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি প্রতাপ সিংহ বাজওয়ারও সুসম্পর্ক রয়েছে।
আরও পড়ুন:
গত জুন মাসে চন্নী শিবির অভিযোগ তুলেছিল প্রদেশ সভাপতি হিসেবে ওয়ারিং কংগ্রেসের নেতাদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে ফেলেছেন। এই পরিস্থিতিতে তাঁদের দাবি, হয় রাজা ওয়ারিংকে সরানো হোক। না হলে চণ্ণীকেই মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী ঘোষণা করে তাঁর নেতৃত্বে ভোট হোক। অন্য দিকে, নতুন প্রজন্মের নেতা ওয়ারিংও ‘মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী’ হয়ে উঠতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছিল। প্রসঙ্গত, প্রায় দু’দশক আগে রাহুল গাঁধী এআইসিসি সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন তাঁর ঘনিষ্ঠ যুব কংগ্রেস নেতা হিসেবে উত্থান হয়েছিল ওয়ারিংয়ের। আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে পঞ্জাবে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। কংগ্রেস হাইকমান্ড প্রাথমিক ভাবে ওয়ারিংকে প্রদেশ সভাপতি পদে রেখে ভোটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু চন্নী শিবিরের চাপে পিছু হটতে হচ্ছে রাহুল-মল্লিকার্জুন খড়্গেদের। প্রসঙ্গত, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব সামাল দিতে না পারায় গত মাসে ছত্তীসগঢ়ের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বঘেলকে সরিয়ে সচিনকে পঞ্জাবের ভোটের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।