বঙ্গোপসাগরের উপর আবার নতুন করে এক নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে সেই নিম্নচাপটি আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের কাছে অবস্থান করছে। ধীরে ধীরে সেই নিম্নচাপ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে অগ্রসর হবে। তবে এই পথ অতিক্রম করার সময় নিম্নচাপটি আরও শক্তি সঞ্চয় করবে। মৌসম ভবন সূত্রে খবর, আগামী ২ নভেম্বর, সোমবার সন্ধ্যা নাগাদ গভীর নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিয়ে অন্ধ্র উপকূলের কাছে পৌঁছোবে! তবে ঠিক কোন সময়ে সেটি স্থলভাগে প্রবেশ করবে, সেই সম্পর্কে এখনও তথ্য দেয়নি মৌসম ভবন।
ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর উপগ্রহচিত্রে ধরা পড়েছে নিম্নচাপের সেই ছবি। কোন পথে নিম্নচাপটি অগ্রসর হচ্ছে, তার উপর নজর রাখা হয়েছে। মৌসম ভবন জানিয়েছে, শুক্রবার এই নিম্নচাপটি দক্ষিণ আন্দামান সাগর ও সংলগ্ন এলাকায় ছিল। নিম্নচাপের অভিমুখ থাকবে পশ্চিম-উত্তর পশ্চিমে। শনিবার ইসরোর ইনস্যাট-৩ডিএস আবহাওয়া উপগ্রহ (স্যাটেলাইট) থেকে তোলা ছবিতে দেখা যাচ্ছে, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ সংলগ্ন এলাকায় সুস্পষ্ট নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরি হয়েছে। আগামী দু’দিনের মধ্যে নিম্নচাপ ক্রমশ শক্তি বাড়িয়ে গভীর নিম্নচাপ হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।
ভুবনেশ্বরের আবহাওয়া দফতরের ডিরেক্টর মনোরমা মোহান্তি বলেন, ‘‘নিম্নচাপটি উত্তর-পশ্চিম এবং পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে এই নিম্নচাপ ওই একই অঞ্চলে আরও শক্তি বাড়াবে।’’ আলিপুর আবহাওয়া দফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিম্নচাপ শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। এর সংলগ্ন ঘূর্ণাবর্তটির উচ্চতা সমুদ্রতল থেকে ৫.৮ কিলোমিটার।
এখনও পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাগরে তৈরি হওয়া নতুন নিম্নচাপের প্রভাব সরাসরি পশ্চিমবঙ্গে পড়বে না। তবে সোমবার অন্ধ্রপ্রদেশের দিকে অগ্রসর হলে এর প্রভাবে সেই রাজ্যে ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শুধু অন্ধ্রপ্রদেশে নয়, ওড়িশাতেও এর প্রভাবে বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। সেই সঙ্গে বইবে ঝোড়ো হাওয়া। মৌসম ভবনের এক কর্তাকে উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, অর্ণবের মতো ততটা প্রভাব না-ও পড়তে পারে।
আরও পড়ুন:
সরাসরি প্রভাব না-পড়লেও এই নিম্নচাপের কারণে পশ্চিমবঙ্গে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। রবিবার সকাল থেকেই দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস। তবে দুই ২৪ পরগনা, কলকাতা, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ায় বৃষ্টির পরিমাণ বাড়বে। সেই সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। সোম ও মঙ্গলবার আবহাওয়া পরিবর্নের সম্ভাবনা কম। তবে বৃষ্টির পরিমাণ কমতে পারে। বুধবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলির আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকবে বলে পূর্বাভাস আলিপুর আবহাওয়া দফতরের।
দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও আগামী চার-পাঁচ দিন ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। রবিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই কমবেশি বৃষ্টির পূর্বাভাস। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও দমকা হাওয়া বইতে পারে। বুধবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের অবশিষ্টাংশের প্রভাব এখনও পুরোপুরি কাটেনি। ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের অবশিষ্টাংশ শক্তি হারিয়ে সাধারণ নিম্নচাপ অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। উত্তর ছত্তীসগঢ় এবং সংলগ্ন পূর্ব মধ্যপ্রদেশের উপর তা অবস্থান করছে। তার মধ্যেই বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া নতুন নিম্নচাপ চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে আবহবিদদের কপালে।