Advertisement
E-Paper

আরশোলা আটকাতে দুর্গ দিল্লি! রাজপথে, বাড়ি ঢুকে ধরপাকড় চালাল ৩০ হাজারের বাহিনী, বিমানে উঠে ধরা হল দীপকেদের

দিনের শুরু থেকেই পুলিশের লক্ষ্য ছিল— কোনও মতেই আন্দোলনকারীদের যন্তর মন্তরে পৌঁছোতে দেওয়া যাবে না। সেই লক্ষ্যে প্রথমেই আটক করে নেওয়া হয় আন্দোলনের ‘মাথাদের’।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০২৬ ২২:৩১
শনিবার দিল্লির রাস্তায় পুলিশের টহল।

শনিবার দিল্লির রাস্তায় পুলিশের টহল। ছবি: পিটিআই।

‘ককরোচদের’ ঠেকাতে মধ্য দিল্লি জুড়ে দিনভর দুর্ভেদ্য প্রাচীর তুলে রাখল পুলিশ। যন্তর মন্তর পর্যন্ত পৌঁছোনো তো দূরঅস্ত্, তার ত্রিসীমানায় ঘেঁষতে দিল না কাউকে। শনিবার ভোর থেকে দফায় দফায় চলল ধরপাকড়। নাছোড় আন্দোলনকারীরাও। একটি দল এক জায়গা থেকে আটক হচ্ছে, তো পরক্ষণেই অন্য কোথাও অন্য একটি দল আবার বসার চেষ্টা করছে। সারা দিন ধরে এমন বিভিন্ন বিক্ষিপ্ত ছবি ধরা পড়ল দিল্লিতে। তবে আন্দোলনকারীদের কাউকেই কোথাও থিতু হওয়ার সুযোগ দেয়নি পুলিশ। পিটিআই সূত্রের খবর, ৭০০০-এরও বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। এ দিন বাধা পাওয়ার পরে রবিবার ফের যন্তর মন্তর অভিযানের ডাক দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

গত জুলাইয়ে নিট-প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র আন্দোলন শুরু হয়েছিল যন্তর মন্তর থেকেই। ছাত্র-যুবদের সেই বিক্ষোভে জোর ধাক্কা খেয়েছিল শাসকশিবির। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে হয়েছিল ধর্মেন্দ্র প্রধানকে। আন্দোলনের চাপের মুখে সেই প্রথম পদত্যাগ করতে হয় মোদী সরকারের কোনও মন্ত্রীকে। তবে এ বার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে ‘ককরোচদের’ যন্তর মন্তর অভিযানে অবশ্য আগে থেকেই সজাগ ছিল পুলিশ-প্রশাসন।

আন্দোলনকারীদের প্রতিহত করতে শুক্রবার রাত থেকে শুরু হয়ে যায় ধরপাকড়। দিল্লির বিভিন্ন হস্টেল এবং মেসবাড়িগুলিতে সন্দেহভাজনদের খোঁজে চলে পুলিশি অভিযান। মেট্রো স্টেশনগুলিতে যাতায়াতের উপরেও বাড়ানো হয় নজরদারি। যন্তর মন্তর অভিযান ঠেকাতে এ দিন দিল্লির ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে রাখে প্রশাসন। আন্দোলনকারীরা যাতে যন্তর মন্তর পর্যন্ত পৌঁছোতে না-পারেন, সে জন্য বাতিল করা হয় অন্তত ২৫০টি ট্রেন। এর মধ্যে বহু দূরপাল্লার ট্রেনও রয়েছে।

রাজধানীর কিছু এলাকায়, বিশেষত যন্তর মন্তর লাগোয়া এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারার আওতায় জমায়েতও নিষিদ্ধ করে দেয় পুলিশ। জায়গায় জায়গায় মাইকে তা প্রচার করে। কমিউনিটি সেন্টার, মসজিদ, আবাসনের সংগঠনগুলিকেও প্রচার করতে বলা হয় যে, এই কর্মসূচির অনুমোদন পুলিশ দেয়নি। তাতে যোগ দিলে আটক করা হতে পারে। দিল্লি পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, নিয়ম অনুযায়ী কর্মসূচির জন্য অন্তত ১০ দিন আগে অনুমতি চাওয়া দরকার। কিন্তু এ ক্ষেত্রে পুলিশকে জানানো হয়েছিল গত বুধবার।

আন্দোলনকারী তরুণীকে তুলে নিয়ে যাচ্ছেন দিল্লি পুলিশের মহিলা কর্মীরা।

আন্দোলনকারী তরুণীকে তুলে নিয়ে যাচ্ছেন দিল্লি পুলিশের মহিলা কর্মীরা। ছবি: পিটিআই।

যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার সবগুলি রাস্তায় বসানো হয় পুলিশি ব্যারিকেড। দিল্লির সীমানায় বসে চেকপয়েন্টও। ভিন্‌রাজ্য থেকে প্রতিটি গাড়ির যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে, সন্তুষ্ট হয়ে তবেই দিল্লিতে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়।

গোটা মধ্য দিল্লি জুড়ে এ দিন ছিল শুধু ভারী বুটের টহল। সিজেপির যন্তর মন্তর অভিযান আটকাতে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী মিলিয়ে মোতায়েন ছিল প্রায় ৩০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী। এর মধ্যে ভিন্‌রাজ্য থেকে নিয়ে আসা বাহিনীও রয়েছে বলে সূত্রের খবর।

দিনের শুরু থেকেই পুলিশের লক্ষ্য ছিল— কোনও মতেই আন্দোলনকারীদের যন্তর মন্তরে পৌঁছোতে দেওয়া যাবে না। সেই লক্ষ্যে প্রথমেই আটক করে নেওয়া হয় আন্দোলনের ‘মাথাদের’। সিজেপি-র আন্দোলনে সংহতি জানাতে বিদেশ থেকে ভারতে এসেছেন ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী। বেঙ্গালুরুর পর শনিবার দিল্লির কর্মসূচিতেও থাকার কথা ছিল তাঁর। তবে শনিবার সকালেই গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬-র বাড়ি থেকে ধ্রুবকে আটক করে পুলিশ।

বিমান দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণ করতেই আটক হন সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।

বিমান দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণ করতেই আটক হন সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। ছবি: এক্স।

সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং দুই মুখপাত্র সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা দিল্লির মাটিতে পা ফেলামাত্রই আটক হন। তাঁদের উড়ান দিল্লিতে অবতরণ করতেই বিমানের ভিতরে প্রবেশ করেন পুলিশকর্মীরা। আটক হওয়ার সময়ে দীপকে-কে বলতে শোনা যায়, “আমি তো গ্রেফতার হওয়ার জন্যই এসেছি। আমাকে গ্রেফতার করুন।” বিমানের ভিতর থেকেই আটক করে অজ্ঞাত কোনও স্থানে নিয়ে যাওয়া তাঁদের। পরে সূত্র মারফত জানা যায়, তিন জনকে তিনটি আলাদা জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দুপুরে আটক হন আইসা নেত্রী নেহা বোরাও।

কত জন আন্দোলনকারী দিল্লিতে এসে পৌঁছোবেন, তা নিয়ে স্পষ্ট ধারণা ছিল না পুলিশের কাছেও। তাই আগাম প্রস্তুতি হিসেবে তৈরি রাখা হয়েছিল বহু অস্থায়ী আটকশিবির। আন্দোলনকারীদের বাসে পুরে সেই আটকশিবিরগুলিতে নিয়ে যাওয়া হয়। যন্তর মন্তরের আশপাশের এলাকায় পাঁচ-ছয়, দশ জনের কোনও জমায়েত হতে দেখলেই তাঁদের ধরে ধরে তোলা হয় পুলিশের বাসে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে, দু-তিন জন একসঙ্গে থাকলেও আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এ ছাড়া যাকেই আন্দোলনকারী বলে সন্দেহ হয়েছে পুলিশের, তাঁকেই তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে আটকশিবিরে।

অভিজিৎ দীপকের সঙ্গে একই বিমানে ছিলেন সিজেপি-র মুখপাত্র সৌরভ দাস। আটক হন তিনিও।

অভিজিৎ দীপকের সঙ্গে একই বিমানে ছিলেন সিজেপি-র মুখপাত্র সৌরভ দাস। আটক হন তিনিও। ছবি: এক্স।

বিক্ষোভকারীদের কেউ যাতে ট্যাক্সি ভাড়া করে বিক্ষোভস্থলে পৌঁছোতে না পারেন, সে বিষয়েও সজাগ ছিল পুলিশ। আগাম সতর্ক করে দেওয়া হয় অ্যাপ-ক্যাব চালকদের। সূত্রের খবর, বিক্ষোভস্থলের আশপাশে লোক না-নামানোর জন্য বলা হয় অ্যাপ-ক্যাব চালকদের। যাঁরা খাবার ডেলিভারি দেন, তাঁদেরও সতর্ক করে বলে দেওয়া হয়— যন্তর মন্তরের দিকে বড়সড় কোনও অর্ডারের উপর নজর রাখা হচ্ছে। দিল্লির স্কুলগুলিকেও এ দিনের জন্য অনলাইনে পঠনপাঠন চালাতে বলা হয়। কাউকে ঘর দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয় হোটেল মালিকদেরও।

দিল্লির রাস্তায় আন্দোলনকারীদের ধরপাকড়।

দিল্লির রাস্তায় আন্দোলনকারীদের ধরপাকড়। ছবি: পিটিআই।

যন্তর মন্তরের অদূরে অবস্থিত কন্নট প্লেসে এ দিন সকাল থেকেই চলে পুলিশি অভিযান। দিল্লির অন্যতম জনপ্রিয় এই বাজার এলাকা নিরাপত্তাকর্মী ছাড়া প্রায় জনশূন্যই ছিল। সকাল ৯টার মধ্যে সংসদ মার্গ, কন্নট প্লেস এবং যন্তর মন্তরের আশপাশের অধিকাংশ রাস্তা ব্যারিকেড দিয়ে মুড়ে ফেলা হয়। শুধু সংসদ মার্গ থানার আশপাশেই মোতায়েন হয় প্রায় দুই-তিন হাজার নিরাপত্তাকর্মী। ব্যারিকেডের এক একটি স্তরে মোতায়েন ছিলেন প্রায় একশো পুলিশকর্মী। সন্দেহভাজনদের ধরতে কন্নট প্লেসের কাছে বাংলা সাহিব গুরুদ্বারেও অভিযান চালায় পুলিশ। গুরুদ্বারের বাইরে থেকে আটক করা হয় প্রায় ৭০ জনকে। দিল্লি পুলিশের এক সূত্রের দাবি, গত রাতে ওই গুরুদ্বারেই আশ্রয় নিয়েছিলেন আন্দোলনকারী সন্দেহে আটক হওয়া ব্যক্তিরা।

এ দিন ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ থাকলেও খোলা ছিল পটেলনগর মেট্রো স্টেশন। এখান থেকে দেড় ঘণ্টা হাঁটাপথে পৌঁছোনো যায় যন্তর মন্তরে। আন্দোলনকারীদের ধরতে স্টেশনের ভিতরে সিআইএসএফ এবং বাইরে পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। যমুনা ব্যাঙ্ক মেট্রো স্টেশন থেকে প্রায় দু’ঘণ্টা হেঁটে পৌঁছোন যায় যন্তর মন্তরে। সেখানেও নিরাপত্তার বহর ছিল চোখে পড়ার মতো। দুপুরে রাজীব চক মেট্রো স্টেশনের কাছে ১০০-১৫০ জনের একটি দল জড়ো হয়েছিল। পুলিশ সেই জমায়েত ছত্রভঙ্গ করে দেয়। আটকও করে বেশ কয়েকজনকে। দিন ভর এমন দফায় দফায় চলা টুকরো টুকরো বিক্ষোভে আটক হয়েছেন অন্তত ৭০০০ আন্দোলনকারী।

আন্দোলনকারী যুবককে আটক করে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

আন্দোলনকারী যুবককে আটক করে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। ছবি: পিটিআই।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, গত ১০ মাসে ১৪ বার দুই কমিশনার বিবেক জোশী এবং সুখবীর সিংহ সঁধু লিখিত ভাবে কমিশনের নামে নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও জারি করা নির্দেশ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তবে সেই আপত্তি উপেক্ষা করেই দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার একক ভাবে যে সমস্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ওই প্রতিবেদন শোরগোল ফেলে দেয় গোটা দেশে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তোলে সিজেপি। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, জ্ঞানেশের সিদ্ধান্তের ফলে সুবিধা পেয়েছে শাসকদল বিজেপি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে ধারাবাহিক সুর চড়াচ্ছে তারা।

ছুটির দিনে বসছে সুপ্রিম কোর্ট

সিজেপির কর্মসূচি ঠেকাতে সরকার যে ভাবে গণপরিবহণ নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা নিয়ে মামলা হয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। গত শুক্রবার সেই মামলায় শীর্ষ আদালত বলেছিল, নিরাপত্তার জন্য পরিষেবা থেকে মানুষকে বঞ্চিত করা যায় না। মেট্রো এবং ট্রেন পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ করা যাবে না বলেও জানিয়েছিল আদালত। অভিযোগ, সেই নির্দেশ মানা হয়নি। তা নিয়ে ফের সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। ওই মামলা শোনার জন্য রবিবার ছুটির দিনে সুপ্রিম কোর্টে বসবে দুই বিচারপতির বিশেষ বেঞ্চ।

আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণির আবেদন, ১০ অক্টোবরের বিক্ষোভ চলাকালীন মেট্রো, রেল পরিষেবা যেন পুরোপুরি বন্ধ না-থাকে, তা নিশ্চিত করার জন্য সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল। তবে সেই নির্দেশ সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গণপরিবহণের উপর বিধিনিষেধ অব্যাহত রেখেছিলেন। ওই আইনজীবীর আরও অভিযোগ, মেট্রো স্টেশনগুলি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকা এবং ট্রেন বাতিল হওয়ার কারণে যাত্রীরা ব্যাপক ভাবে সমস্যার সম্মুখীন হন। রাজধানীর জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। ইচ্ছাকৃত ভাবে আদালতের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগও তুলেছেন মামলাকারী।

রবিবার ফের অভিযান

দীপকে আটক হওয়ার পর বর্তমান পরিস্থিতিতে সিজেপির ব্যাটন রয়েছে অজিঙ্ক শিন্দের হাতে। শনিবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, “রবিবার ফের আমরা যন্তর মন্তরে যাব। আমাদের দাবিদাওয়া পূরণ না-হওয়া পর্যন্ত প্রতিবাদ চলবে। আমরা পিছু হটছি না। জ্ঞানেশ কুমার ইস্তফা না দেওয়া পর্যন্ত, আমাদের আন্দোলন চলবে।” অজিঙ্ক জানান, সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা দীপকে বা তাঁর দুই সঙ্গী সৌরভ এবং আশুতোষ কোথায় রয়েছেন, তা-ও সংগঠনের কেউই জানেন না। ঘটনাচক্রে, শনিবারই প্রয়াত হয়েছেন দীপকের ঠাকুরমা। তার পরেও দীপকে-কে তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ সিজেপির। যদিও পুলিশ সূত্রের দাবি, দুঃসংবাদের কথা দীপকে-কে জানানো হয়েছে। তিনি বাড়ি ফিরে যেতে চাইলে সেই ব্যবস্থাও করা হবে বলে দীপকে-কে জানানো হয়েছে বলে দাবি পুলিশ সূত্রের।

‘গণআটকে’ উদ্বেগ রাষ্ট্রপুঞ্জের

দিল্লিতে তরুণদের বিক্ষোভ চলাকালীন আন্দোলনকারীদের ‘গণ হারে আটক’ করা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার বিষয়ক দফতর। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচির অধিকারকে ‘সম্মান জানানোর’ কথা বলেছে তারা। আটক হওয়া ব্যক্তিদের অবিলম্বে মুক্তিরও দাবি জানিয়েছে তারা।

শনিবার রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার বিষয়ক দফতরের মুখপাত্র তামিন আল-খিতান এক বিবৃতিতে জানান, দিল্লিতে এ দিনের বিক্ষোভের আগে এবং বিক্ষোভ চলাকালীন আন্দোলনকারী, নেতা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, আইনজীবী এবং সাংবাদিকদের ‘গণ-আটকের খবরে’ তাঁরা উদ্বিগ্ন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, “শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারকে পূর্ণ সম্মান করার জন্য আমরা অনুরোধ করছি।”

অনেকে মুক্ত, এখনও আটক দীপকেরা

আটক হওয়া আন্দোলনকারীদের মধ্যে অনেককেই ইতিমধ্যে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। কত জনকে আটক করা হয়েছে, তা নিয়ে সরকারি ভাবে কিছু বলেনি বাহিনী। তবে দিল্লি পুলিশের সূত্র উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা এএনআই জানিয়েছে, আটকশিবিরগুলি থেকে ধাপে ধাপে ৩০০০ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে দীপকে, রাঙ্কা বা সৌরভেরা এখনও ছাড়া পাননি।

সংক্ষেপে
  • মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ চেয়ে শনিবার কর্মসূচির ডাক দিয়েছে সিজেপি।
  • সিজেপির কর্মসূচিকে মাথায় রেখে শুক্রবার রাত থেকেই ধরপাকড় শুরু করেছে পুলিশ।
CJP Cockroach Janta Party

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy