Advertisement
E-Paper

‘ভারত ও পাকিস্তানের নেতাদের ২৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারি দিয়ে যুদ্ধ থামিয়েছি’, ফের দাবি করলেন ট্রাম্প

২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসবাদী হামলার পর ২০২৫ সালের ৭ মে ভারতীয় বায়ুসেনা পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর এবং পাকিস্তানের ভূখণ্ডে ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালিয়েছিল।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:৩৫
(বাঁদিক থেকে) নরেন্দ্র মোদী, ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং শাহবাজ় শরিফ।

(বাঁদিক থেকে) নরেন্দ্র মোদী, ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং শাহবাজ় শরিফ। —ফাইল চিত্র।

ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষ থামানোর উদ্দেশ্যেই তিনি দুই দেশের উপর ২৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন বলে ফের দাবি করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সেই হুঁশিয়ারির জেরেই ‘অপারেশন সিঁদুর’-পর্বে দক্ষিণ এশিয়ার দুই পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রের সংঘাত থেকে গিয়েছিল বলে দাবি মার্কিন প্রেসিডেন্টের।

ট্রাম্প শুক্রবার ফ্লরিডার একটি নির্বাচনী সমাবেশে বলেন, ‘‘আমি ভারত ও পাকিস্তানের নেতাদের সতর্ক করে বলেছিলাম— তাঁরা যদি লড়াই বন্ধ না করেন, তবে আমেরিকার সঙ্গে কোনও বাণিজ্য করতে পারবেন না এবং তাঁদের উপর ২৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানো হবে।’’ তাঁর ওই হুমকির মুখেই নরেন্দ্র মোদী, শাহবাজ় শরিফেরা সংঘর্ষে ইতি টানতে সম্মত হন বলে ট্রাম্প দাবি করেন।

এ ছাড়া ২০২৫ সালের ৭-১০ মে-র সামরিক সংঘাতে ১১টি বিমান ধ্বংস হয়েছিল বলেও ফের দাবি করেন ট্রাম্প। প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসবাদী হামলার পর ২০২৫ সালের ৭ মে ভারতীয় বায়ুসেনা পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর এবং পাকিস্তানের ভূখণ্ডে ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালায়। তার পরেই সংঘর্ষে জড়ায় দু’দেশ। যদিও দিন তিনেকের মধ্যেই নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদ সংঘর্ষবিরতির সিদ্ধান্ত নেয়। তখন থেকেই ট্রাম্প দাবি করে আসছেন যে, তিনিই সংঘর্ষ বন্ধ করিয়েছেন! যদিও নয়াদিল্লি কখনওই ট্রাম্পের সেই দাবিকে মান্যতা দেয়নি। কিন্তু ইসলামাবাদের তরফে মধ্যস্থকারী হিসেবে ট্রাম্পের ভূমিকার কথা খোলাখুলি স্বীকার করা হয়েছে।

১০ মে ২০২৫-এ ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রি জানিয়েছিলেন, পাকিস্তানের ডিজিএমও-র তরফে ভারতীয় ডিজিএমও-র সঙ্গে যোগাযোগ করে সংঘর্ষবিরতির অনুরোধ করা হয়েছিল। এর পরে দুই দেশের মধ্যে স্থল, আকাশ ও সমুদ্রে সামরিক অভিযান বন্ধ করার বিষয়ে সমঝোতা হয়।

অন্য দিকে, ১০ মে ২০২৫-এ মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়োও জানিয়েছিলেন, আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও তিনি ভারত এবং পাকিস্তানের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। অর্থাৎ, মার্কিন কূটনৈতিক যোগাযোগের তথ্য রয়েছে, কিন্তু সেই যোগাযোগ হয়েছিল বলেই ২৫০ শতাংশ শুল্কের হুমকি সংঘর্ষবিরতির নির্ণায়ক কারণ ছিল— এ কথা প্রমাণিত হয় না।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লোকসভার অধিবেশনে জানিয়েছিলেন, বিশ্বের কোনও রাষ্ট্রনেতার কথায় সংঘর্ষ থামেনি। কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, পাকিস্তানই সংঘর্ষবিরতি চেয়েছিল। ভারত তাতে রাজি হয়েছে। কিন্তু তার পরেও ট্রাম্প একাধিক বার দাবি করে গিয়েছেন, তাঁর কারণেই ভারত-পাক সংঘর্ষ থেমেছে। গত বছর দক্ষিণ কোরিয়ায় গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছিলেন, তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং পাকিস্তানের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন সেই সময়। ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমি বলেছিলাম, আমি কিন্তু দু’দেশের উপরেই ২৫০ শতাংশ শুল্ক চাপাব। তার মানে ওরা আর কখনও বাণিজ্য করতে পারবে না।’’ শুক্রবার ফ্লরিডায় মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারসভায় প্রবীণ রিপাবলিকান নেতার মন্তব্য— “আমি বলেছিলাম, ‘বন্ধুরা, তোমরা যদি এমনটা করতে যাও, তাহলে আমেরিকার সঙ্গে তোমরা আর ব্যবসা করতে পারবে না। আমি তোমাদের দু’জনের উপরই বিশাল শুল্ক আরোপ করব— ২৫০ শতাংশ, যাতে তোমরা কোনও ব্যবসাই করতে না পারো। আর তাতেই কাজ হয়েছিল।’’

সংক্ষেপে
  • সংঘর্ষবিরতিতে রাজি ভারত এবং পাকিস্তান। গত ১০ মে প্রথম এই বিষয় জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরে দুই দেশের সরকারের তরফেও সংঘর্ষবিরতির কথা জানানো হয়।
  • সংঘর্ষবিরতি ঘোষণার পরেও ১০ মে রাতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গোলাবর্ষণের অভিযোগ ওঠে। পাল্টা জবাব দেয় ভারতও। ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। তবে ১১ মে সকাল থেকে ভারত-পাক সীমান্তবর্তী এলাকার ছবি পাল্টেছে।
Operation Sindoor 2025 Donald Trump Operation Sindoor Pahelgam Terror Attack India-Pakistan Conflicts ceasefire

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy