তরুণী বাইকার সিয়াকে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনায় বিশেষ তদন্তকারী দল গড়েছে গুরুগ্রাম পুলিশ। গাড়িচালক কল্যাণ বইঁসলার পাশাপাশি গ্রেফতার হয়েছেন তাঁর বন্ধু লভনীশ গুর্জরও। তিনিও ওই গাড়িতেই ছিলেন। পুলিশ সূত্রে এনডিটিভি জানাচ্ছে, দুর্ঘটনার দিন সিয়াকে প্রায় দুই কিলোমিটার পথ ধাওয়া করছিলেন কল্যাণ।
ওই সূত্রের দাবি, কল্যাণ এবং তাঁর তিন বন্ধু গুরুগ্রামের একটি ক্লাবে পার্টি করতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পথেই ধাক্কা দেন বাইকার শিবানী চৌহান ওরফে সিয়াকে। তদন্তে এমনটাই উঠে এসেছে বলে খবর। ঘটনার দিনের যে ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে গাড়ির জানালার কাচ নামিয়ে সিয়ার উদ্দেশে কিছু বলছেন কল্যাণ। তাঁকে জবাব দিচ্ছেন সিয়াও। তদন্তে উঠে এসেছে, গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৩ মেট্রো স্টেশনের কাছে ওই তরুণীর সঙ্গে প্রথম কথা হয় কল্যাণের। সংক্ষিপ্ত ওই কথা কাটাকাটির পর সিয়ার বাইককে প্রায় দুই কিলোমিটার ধাওয়া করে কল্যাণদের গাড়ি।
পুলিশ সূত্রে খবর, ওই সময়ে ধৃত লভনীশও গাড়িতেই ছিলেন। তরুণীকে ধাওয়া করার জন্য তিনিই কল্যাণকে উস্কানি দেন বলে দাবি ওই সূত্রের। কল্যাণ এবং লভনীশকে জেরা করে দুর্ঘটনার বিষয়ে আরও বিশদ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। গত রবিবারের দুর্ঘটনার সময়ে গাড়িতে আরও দু’জন ছিলেন। তাঁদেরও ইতিমধ্যে নোটিস পাঠিয়েছে পুলিশ। সূত্রের খবর, তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং উভয়েরই বয়ান রেকর্ড করা হবে। বিশেষ তদন্তকারী দলের কাছে ইতিমধ্যে যে তথ্যগুলি রয়েছে, তার সঙ্গে ওই দু’জনের বয়ান মিলিয়ে দেখা হবে।
আরও পড়ুন:
সিয়ার অভিযোগ, ঘটনার সময়ে ওই গাড়িতে সকলে মত্ত অবস্থায় ছিলেন। যদিও এ বিষয়ে পুলিশ এখনও নির্দিষ্ট ভাবে কিছু জানায়নি। তবে কল্যাণ মত্ত ছিলেন কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট হওয়ার জন্য তাঁর রক্ত এবং মূত্রের নমুনা সংগ্রহ করছে পুলিশ।
গত রবিবার গুরুগ্রামের গল্ফ কোর্স রোডে একটি সাদা রঙের সেডান গাড়ি ধাক্কা মারে সিয়াকে। এপ্রিলিয়া আরএস ৪৫৭ স্পোর্টস বাইক থেকে রাস্তায় আছড়ে পড়েন তরুণী। রাস্তার উপর ঘষটে ঘষটে আরও কিছুটা সামনের দিকে এগিয়ে যায় বাইকটি। সংঘর্ষের অভিঘাতে বাইক থেকে আগুনের স্ফুলিঙ্গও বেরোতে থাকে।
সোমবার সকালে ওই দুর্ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেন কর্তৃপক্ষ। গুরুগ্রাম পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করে। অভিযুক্ত গাড়িচালক কল্যাণকে শনাক্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করে। গত মঙ্গলবার রাজস্থান থেকে গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্ত গাড়িচালক কল্যাণকে। পরে রাজস্থান থেকেই গ্রেফতার হন তাঁর বন্ধু লভনীশ।