Advertisement
E-Paper

বন্দে মাতরমের পর ইউপিআই! কংগ্রেসের বিপরীতে হেঁটে ওমর সমর্থন করলেন কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত, দুই ‘বন্ধুর’ সংঘাত ফের প্রকাশ্যে

ইউপিআই-মাশুলের বিজ্ঞপ্তি অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি তুলেছেন রাহুল। সমালোচনায় বিঁধেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদীকে। তবে ওমর পাশে দাঁড়াচ্ছেন কেন্দ্রের। ইউপিআই ব্যবস্থা সচল রাখতে প্রচুর খরচ হয় বলেও জানাচ্ছেন তিনি।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:০৭
(বাঁ দিকে) রাহুল গাঁধী এবং ওমর আবদুল্লা (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) রাহুল গাঁধী এবং ওমর আবদুল্লা (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বন্দে মাতরম্‌ কতটা গাওয়া হবে, তা নিয়ে মতবিরোধ আগেই প্রকাশ্যে এসেছে। এ বার ইউপিআই লেনদেন বিতর্কেও ফের এক বার প্রকট হল দুই ‘বন্ধুর’ সংঘাত। ইউপিআই-এ দু’হাজার টাকার বেশি ব্যবসায়িক লেনদেনে মাশুল বসানোয় ঘোর আপত্তি কংগ্রেসের। সেখানে ‘ইন্ডিয়া’র শরিক তথা জম্মু ও কাশ্মীরের শাসকদল ন্যাশনাল কনফারেন্স প্রকাশ্যে সমর্থন জানাল কেন্দ্রকে।

নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে অনলাইন লেনদেনে মাশুল বসানো নিয়ে কেন্দ্রের পাশে দাঁড়ালেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। এই মাশুল যে সকলের উপর প্রযোজ্য হবে না, তা-ও উল্লেখ করেন তিনি। ওমর বলেন, “এই মাশুল তো সকলের উপর চাপানো হচ্ছে না। একজন ব্যক্তি অন্যকে টাকা পাঠালে কোনও চার্জ কাটা হবে না। তা ছাড়া, নির্দিষ্ট একটি সীমা পার না করলে লেনদেনে কোনও মাশুল দিতে হবে না।”

ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতার বক্তব্য, ইউপিআই ব্যবস্থা সচল রাখা এবং এর রক্ষণাবেক্ষণে প্রচুর খরচ হয়। তবে সাধারণ নাগরিকদের যাতে কোনও মাশুল দিতে না হয়, সে বিষয়েও কেন্দ্রের কাছে আর্জি জানান তিনি। “কোনও পরিষেবা সম্পূর্ণ বিনা খরচে পেয়ে গেলে আমরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তার গুরুত্ব বুঝি না। তবে সাধারণ নাগরিকদের থেকে যেন মাশুল কাটা না হয়। কোম্পানিগুলির উপরে চার্জ বসালে আমার কোনও আপত্তি নেই। তারা ইউপিআই-এর মাধ্যমে এমনিতেই অনেক লাভবান হয়,” বলেন ওমর।

আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে ইউপিআইয়ের নির্দিষ্ট কিছু ব্যবসায়িক লেনদেনে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর বসানোর কথা বলেছে কেন্দ্র। নির্দিষ্ট দু’হাজার টাকার বেশি মার্চেন্ট ইউপিআই লেনদেনে ০.৪ শতাংশ হারে এমডিআর প্রযোজ্য হবে। এই ঘোষণার পরেই তোলপাড় শুরু হয় গোটা দেশে। কেন্দ্র আশ্বস্ত করেছে, সাধারণ গ্রাহকেরা এই মাশুলের আওতায় আসবেন না। ইউপিআইয়ের মাধ্যমে ২০০০ টাকা পর্যন্ত লেনদেনে গ্রাহকদের থেকে মাশুল নিতে পারবে না ব্যাঙ্ক এবং সংস্থাগুলি।

তবে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা শুরু করেছে কংগ্রেস। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধীর অভিযোগ, এই সিদ্ধান্ত আমেরিকার চাপের কাছে নতিস্বীকারের প্রতিফলন। তাঁর দাবি, এ ভাবে আসলে আমেরিকার হাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ তুলে দেওয়া হচ্ছে। বুধবার এক ভিডিয়োবার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে বিঁধে রাহুল বলেন, “ইউপিআই-এর উপর মাশুল চাপিয়ে উনি প্রত্যেক ভারতবাসীর উপর কর বসিয়েছেন আর আমেরিকার হাতে বিপুল অর্থ তুলে দিচ্ছেন।’’ প্রধানমন্ত্রীকে ‘মেরুদণ্ড সোজা করে’ দাঁড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন রাহুল। লোকসভার বিরোধী দলনেতার দাবি, অবিলম্বে ইউপিআই-এর মাশুল সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করা হোক। তবে কেন্দ্র এই সিদ্ধান্তের পিছনে কোনও বিদেশি চাপের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

কংগ্রেস যখন ইউপিআই বিতর্কে কেন্দ্রের উপর চাপ তৈরি করছে, সেই সময়ে ওমরের এই অবস্থান তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি জাতীয় গান বন্দে মাতরম্‌ নিয়েও ‘ইন্ডিয়া’র দুই শরিকের মধ্যে ঠোকাঠুকি প্রকাশ্যে আসে। জম্মু ও কাশ্মীর জাতীয় চলচ্চিত্র অনুষ্ঠানে সম্প্রতি সম্পূর্ণ জাতীয় গান (যেমনটা কেন্দ্র সিদ্ধান্ত নিয়েছে) পরিবেশিত হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ওমরও। কিন্তু কংগ্রেস নিজেদের দলীয় কর্মসূচিতে জাতীয় গানের প্রথম দু’টি স্তবকই গাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সে ক্ষেত্রে ‘বন্ধু’ দলের এমন অবস্থানে আপত্তি জানায় কংগ্রেস। পাল্টা ওমরের দলও বলে দেয়, তারা কী গাইবে, কতটা গাইবে তা কোনও জোটসঙ্গী স্থির করে দিতে পারে না। এ বার ইউপিআই-মাশুল ঘিরেও প্রকাশ্যে এল দুই দলের মতবিরোধ।

Omar Abdullah UPI Congress Rahul Gandhi

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy