হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে। কিছুটা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়েই হাঁটতে হচ্ছে তাঁকে। চোখে-মুখে সেই কষ্টের ছাপ পড়েছে। তবে দুর্ঘটনা যে তাঁকে থামিয়ে দিতে পারবে না, তা দৃঢ় কণ্ঠে বলে দিলেন তরুণী বাইকার শিবানী চৌহন ওরফে সিয়া। তাঁর সংকল্প, ‘‘এই পথ ছেড়ে কখনওই যাব না। খুব শীঘ্রই আবার ফিরব।’’
বাইক তাঁর কাছে প্রাণের চেয়েও প্রিয়। বাইকে বসলেই যেন আলাদা শক্তি খুঁজে পান গুরুগ্রামের সিয়া। হাজার হাজার মহিলা বাইকারের কাছে এখন তিনি অনুপ্রেরণা। তাঁর শখ, ভালবাসা— এ ভাবে একটা দুর্ঘটনা থমকে দিতে পারে না, তা বার বার কথাবার্তায় বুঝিয়েছেন সিয়া। ওই দুর্ঘটনার স্মৃতি আঁকড়ে সারা জীবন বাইক থেকে দূরে থাকতে নারাজ তিনি। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিয়া বলেন, ‘‘জানি না আবার কবে বাইক চালানোর জন্য মানসিক ভাবে প্রস্তুত হব! তবে হাল ছাড়ব না।’’ দুর্ঘটনা শুধু তাঁকে শারীরিক ভাবে আহত করেনি, ভেঙে পড়েছেন মানসিক ভাবেও। যদিও মানসিক দৃঢ়তা আবার ফিরে পেতে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, জানালেন সিয়া।
দুর্ঘটনার কথা ভাবতে গিয়ে এখনও কেঁপে কেঁপে উঠছেন সিয়া। তাঁর কথায়, ‘‘ওরা আমাকে থামার জন্য ইশারা করছিল। ওদের উদ্দেশ্য নিয়ে আমার সন্দেহ ছিল। তাই আমি থামিনি।’’ ওই গাড়ির থেকে যতটা দূরে যাওয়া যায়, সেই চেষ্টায় বাইকের গতি বাড়িয়েছিলেন বলে জানান সিয়া। তাঁর কথায়, ‘‘আমি ভেবেছিলাম ওরা বুঝতে পারবে যে, আমি বিষয়টায় স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছি না। আর সেটা বুঝেই আর পিছু নেবে না। কিন্তু তা করেনি তারা। গাড়ি নিয়ে এক টানা আমার পিছু নিচ্ছিল।’’ তার পরে যেটা ঘটল, তা কল্পনার অতীত ছিল সিয়ার কাছে।
গত রবিবার গুরুগ্রামের গল্ফ কোর্স রোডে একটি সাদা রঙের সেডান গাড়ি ধাক্কা মারে সিয়াকে। এপ্রিলিয়া আরএস ৪৫৭ স্পোর্টস বাইক থেকে রাস্তায় আছড়ে পড়েন তরুণী। রাস্তার উপর ঘষটে ঘষটে আরও কিছুটা সামনের দিকে এগিয়ে যায় বাইকটি। সংঘর্ষের অভিঘাতে বাইক থেকে আগুনের স্ফুলিঙ্গও বেরোতে থাকে। সেই দুর্ঘটনার স্মৃতি তাড়া করছে সিয়াকে। তবে সেই স্মৃতি নিয়েই আবার বাইক নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়তে চান তিনি।
আরও পড়ুন:
বাইকার হিসেবে বাইক চালানোর সময় তাঁর যা যা প্রস্তুতি বা সাবধানতা অবলম্বনের প্রয়োজন, দুর্ঘটনার দিন সেগুলি পুরোপুপরি সঠিক ছিল না বলে জানান সিয়া। রাইডিং জ্যাকেট গায়ে ছিল না তাঁর। সেই ভুলের কথা স্বীকার করে নিয়েও সিয়ার দাবি, ‘‘যদি কারও কোনও খারাপ উদ্দেশ্য থাকে, তবে আপনি যতই সাবধানতা অবলম্বন করেন না কেন, দুর্ঘটনা এড়াতে পারবেন না।’’
অভিযুক্ত কল্যাণ বইঁসলার কিছু বক্তব্য ইতিমধ্যে প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে তিনি দাবি করছেন, বাইকটির গতি কখনও বাড়ছিল, কখনও কমছিল। বাইকটি যে কোনও মহিলা চালাচ্ছেন, তা-ও তিনি জানতেন না। গুরুগ্রাম পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করে। অভিযুক্ত গাড়িচালক কল্যাণকে শনাক্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করে। পুলিশ ইতিমধ্যেই কল্যাণ এবং তাঁর বন্ধু লভনীশ গুর্জরকে গ্রেফতার করেছে। কেন গ্রেফতার দেরিতে হল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সিয়া।