ভারতীয় রেল শুক্রবার নতুন যুগে পদার্পণ করল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী হরিয়ানায় জিন্দ রেলওয়ে স্টেশনে সবুজ পতাকা নেড়ে দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনের আনুষ্ঠানিক যাত্রার সূচনা করেন। আর সেই সঙ্গেই হাইড্রোজেন-নির্ভর রেল পরিবহণ ব্যবস্থার শরিক দেশগুলির গোষ্ঠীতে ভারতের অন্তর্ভুক্তি হল।
প্রচলিত ডিএমইউ ট্রেনের মতো এই হাইড্রোজেন ট্রেন ডিজ়েলে চলে না। আবার ইএমইউ (এমু) বা এমইএমইউ (মেমু) ট্রেনের মতো ওভারহেড বৈদ্যুতিক তার থেকেও শক্তি সংগ্রহ করে না। এতে থাকে না কোনও শক্তিশালী ব্যাটারি সেলও। কিন্তু হাইড্রোজেন ট্রেন মূলত একটি বৈদ্যুতিক ট্রেন। তবে এটি হাইড্রোজেন ফুয়েল সেলের মাধ্যমে ট্রেনের ভেতরেই বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে। এই প্রক্রিয়ায় বিদ্যুৎ উৎপন্ন হওয়ার পর বর্জ্য বা উপজাত হিসেবে কেবল জলীয় বাষ্প তৈরি হয়। যার ফলে কার্বন নিঃসরণ বা ধোঁয়া নির্গমন শূন্যের কোঠায় থাকে। অর্থাৎ, হাইড্রোজেন ট্রেন দুষণমুক্ত এবং পরিবেশ বান্ধব।
আরও পড়ুন:
রেল মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য জানাচ্ছে, উচ্চচাপের ট্যাঙ্কে সংরক্ষিত হাইড্রোজেন ফুয়েল সেলের ভিতরে বাতাস থেকে নেওয়া অক্সিজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে। এই তড়িৎ-রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়, যা ট্রেনের বৈদ্যুতিক মোটর চালায়। যেহেতু এখানে কোনও দহন প্রক্রিয়া নেই, তাই এতে কেবল জল (জলীয় বাষ্প) ও তাপ উৎপন্ন হয়। বিজ্ঞানের পরিভাষায় যাকে বলা হয়, ‘জ়িরো টেইলপাইপ-এমিশন’ প্রযুক্তি। রেল মন্ত্রক সূত্রের খবর, হাইড্রোজেন ট্রেনটি তৈরিতে প্রায় ৮০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে এই ধরনের ৩৫টি ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে রেল কর্তৃপক্ষের। মোদীর উদ্বোধন করা প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনটি আপাতত হরিয়ানার জিন্দ এবং সোনিপতের মধ্যে ৮৯ কিলোমিটার পথে যাতায়াত করবে। সর্বোচ্চ গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার। যাত্রাপথে থামবে ১২টি ছোট-বড় স্টেশনে।