Advertisement
E-Paper

কাশ্মীর প্রসঙ্গে নাক গলানোয় পাকিস্তানের ‘বন্ধুকে’ জবাব ভারতের! কার কতটা অধিকার এবং এক্তিয়ার, বোঝাল তা-ও

আন্তর্জাতিক মঞ্চে কাশ্মীরকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে বরাবরই উল্লেখ করে এসেছে ভারত। এই বিষয়ে কোনও তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা অনভিপ্রেত বলেও নয়াদিল্লি বারবার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:০০
India rejects Turkish President Erdogan\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\'s Kashmir remarks at United Nations General Assembly

(পিছনে বাঁ দিক থেকে) তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেজেপ তাইয়িপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (সামনে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

রাষ্ট্রপুঞ্জের মঞ্চে কাশ্মীর সমস্যা নিয়ে কথা বলা কাঙ্ক্ষিত নয়! তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেজেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করে এমনই জবাব দিল ভারত। কাশ্মীর বিষয়ে তৃতীয় পক্ষের কোনও হস্তক্ষেপ বরদাস্ত নয়, তা-ও বুঝিয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি।

গত সপ্তাহে রাষ্ট্রপুঞ্জের ৮১তম সাধারণ সভায় এরদোয়ান কাশ্মীর প্রসঙ্গ উত্থাপন করে জানান, আলোচনার মাধ্যমেই এই সমস্যার সমাধান করা উচিত! সেই বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সবাল জোর দিয়ে জানান, কাশ্মীরের বিষয়টি ভারতের ‘ভূখণ্ড অখণ্ডতা’ সম্পর্কিত। সেখানে কোনও বহিরাগত পক্ষের ‘দখলদারি’র অধিকার নেই।

রণধীরের কথায়, ‘‘রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় ভারত এবং ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু-কাশ্মীরের বিষয়ে অযাচিত উল্লেখ করেছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। ভারত তাঁর সেই মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করে। কাশ্মীর ভারতের অখণ্ডতা এবং সার্বভৌমত্ব সম্পর্কিত একটি বিষয়। এটা নিয়ে কোনও বহিরাগতের কোনও ধরনের হস্তক্ষেপ বা মন্তব্য করার আইনি অধিকার নেই।’’

কী বলেছিলেন এরদোয়ান? রাষ্ট্রপুঞ্জে নানা বিষয়ে কথা বলার ফাঁকে ফের কাশ্মীর প্রসঙ্গ তুলেছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেছিলেন, দক্ষিণ এশিয়ায়, কাশ্মীর সমস্যা-সহ সকল বিরোধ রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদ এবং প্রাসঙ্গিক প্রস্তাবনা কাঠামোর মধ্যে থেকে আলোচনা করে সমাধান করা গুরুত্বপূর্ণ।’’ তবে কাশ্মীর নিয়ে এরদোয়ান অতীতেও বার বার নাক গলিয়েছেন। বিশ্বমঞ্চে বার বার কাশ্মীর সমস্যা নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি। গত বছর সেপ্টেম্বরে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভাতেও কাশ্মীর সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘‘আমরা আশা করি, কাশ্মীরের ভাই-বোনেদের কল্যাণের জন্য রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রস্তাবনা মেনে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত।’’ সেই সময়ে নয়াদিল্লি তুরস্কের প্রেসিডেন্টের এ-হেন মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল। তার আগে ২০২৩, ২০২২ এবং ২০২০ সালেও রাষ্ট্রপুঞ্জে কাশ্মীর প্রসঙ্গ তুলেছিলেন এরদোয়ান। অতীতে তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘‘স্বাধীনতার ৭৫ বছর পেরিয়ে গেলেও ভারত এবং পাকিস্তান এখনও পর্যন্ত শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। এটা দুর্ভাগ্যজনক। আশা করছি, কাশ্মীরে চিরস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবে দুই দেশ।”

শুধু আন্তর্জাতিক মঞ্চে নয়, এরদোয়ান বার বার পাকিস্তান সফরে এসেও কাশ্মীর নিয়ে সরব হয়েছেন। তবে প্রতি বারই ভারত তাঁর মন্তব্যের বিরোধিতা করেছে। ভারত বরাবর আন্তর্জাতিক মঞ্চে কাশ্মীরকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে উল্লেখ করে এসেছে। এ নিয়ে কোনও তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা অনভিপ্রেত বলেও বারবার হুঁশিয়ারি দিয়েছে নয়াদিল্লি।

তুরস্ক ও পাকিস্তানের ‘বন্ধুত্বের’ কথা কারও অজনা নয়। গত কয়েক বছর ধরে ভারতের বিরুদ্ধে অক্ষশক্তি হিসেবে পাকিস্তানের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে তুরস্ক। গত বছর মে মাসে ‘অপারেশন সিঁদুর’ এবং তাকে কেন্দ্র করে চলা চার দিনের সংঘর্ষের সময়ও পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়ে সুর চড়িয়েছিল তুরস্ক। সংঘাতের সময় পাকিস্তানকে সরাসরি সমর্থন ও সামরিক সহযোগিতা করেছিল তারা। সে সময়ে ঢালাও ড্রোন এবং রকেট সরবরাহ করেছিল ইসলামাবাদকে। সেই ‘বন্ধুত্বের’ সূত্র ধরে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বার বার কাশ্মীর নিয়ে মুখ খোলেন। আর ভারত বরাবরই তা প্রত্যাখ্যান করে। এ বারও একই পথে হাঁটল নরেন্দ্র মোদী সরকার।

Jammu and Kashmir India vs Turkey

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy