Advertisement
E-Paper

অরুণাচলের ‘জবাব’ তিব্বত সীমান্তে! এলএসি সংলগ্ন ২৭টি গ্রাম, গিরিপথ এবং হ্রদের নতুন নামকরণ করল ভারত

চিন অধিকৃত তিব্বত এবং অরুণাচল প্রদেশের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) বরাবর ২৭টি জায়গার ‘নাম বদলের’ প্রস্তাব আনুষ্ঠানিক ভাবে কার্যকর করল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৮ অগস্ট ২০২৬ ০৯:৫১
ভারত-চিন প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা।

ভারত-চিন প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা। — ফাইল চিত্র।

চিনের পথে হেঁটেই নামকরণ-রণকৌশলের জবাব দিল ভারত। চিন অধিকৃত তিব্বত এবং অরুণাচল প্রদেশের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) বরাবর ২৭টি জায়গার ‘নাম বদলের’ প্রস্তাব আনুষ্ঠানিক ভাবে কার্যকর হল এ বার। সার্ভে অফ ইন্ডিয়া-র প্রকাশিত অরুণাচল প্রদেশের মানচিত্রে ওই নামগুলি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ওই ২৭টি জায়গার মধ্যে রয়েছে এলএসি সংলগ্ন ‘বিতর্কিত’ গ্রাম লংজু, যা ১৯৫৯ সাল থেকে চিনের দখলে রয়েছে, কিন্তু নয়াদিল্লির দাবি ওই গ্রাম ভারতীয় ভূখণ্ডের অন্তর্গত। কূটনীতি বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারের এমন পদক্ষেপের লক্ষ্য হল ওই এলাকাগুলির উপর ভারতের দাবি আরও জোরদার করা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘অরুণাচল প্রদেশ সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে ভারত সরকার সার্ভে অব ইন্ডিয়া প্রকাশিত অরুণাচল প্রদেশের মানচিত্রে সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে মোট ২৭টি স্থান বা বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেছে।’’

কিন্তু হঠাৎ কেন এমন পদক্ষেপ? স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘অরুণাচল প্রদেশের সার্ভে অব ইন্ডিয়ার মানচিত্রে আনুষ্ঠানিক ভাবে এগুলি চিহ্নিত করার লক্ষ্য হল, সঠিক স্বীকৃতি সহজতর করা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আরও ভাল সচেতনতা তৈরি করা।’’ প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের এপ্রিলে ভারতের আপত্তি উড়িয়ে অরুণাচল প্রদেশের উপর নিজেদের ‘অধিকার দর্শাতে’ এলএসি বরাবর রাজ্যটির ৩০টি জায়গার ‘নাম বদলে’ চিনা নাম রেখেছিল বেজিং। নাম বদলের তালিকায় ‘জাংমান প্রদেশ’ (অরুণাচল প্রদেশকে এই নামেই ডাকে চিন সরকার)-এর ১১টি আবাসিক এলাকা, ১২টি পাহাড়, চারটি নদী, একটি হ্রদ, একটি গিরিপথ এবং একটি উপত্যকা ছিল।

এ বার চিন অধিকৃত তিব্বতে শি জিনপিং সরকারকে জবাব দিল নয়াদিল্লি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, সার্ভে অব ইন্ডিয়ার মানচিত্রে চিহ্নিত স্থানগুলোর মধ্যে ২১টি আবাসিক ভূমি, চারটি গিরিপথ, একটি হ্রদ এবং একটি স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে। ভূমি এলাকাগুলি হল লংজু, মাজা, বিসা, বড়া কুন্দুন, ছোটো কুন্দুন, ধান বাড়ি, প্রীতনগর, বুদ্ধমন্দির, জয়রামপুর, তেরিতনগর, রামনগর, যশবন্ত গড়, সাগর, পদ্মা, জ্যোতিনগর, বৈশাখী, ছোটো রোপুক, বড়া রোপুক, শিবাজি নগর, সুনপুরা এবং কামলাং নগর। প্রসঙ্গত, পঞ্চাশের দশকে চেয়ারম্যান মাও জে দংয়ের নির্দেশে চিনা পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র তিব্বত দখল করেছিল। এর পরেই শুরু হয় স্বাধীনতাকামী তিব্বতিদের উপর দমনপীড়ন। পরবর্তী সময়ে চিনা অত্যাচারের আশঙ্কায় কয়েক লক্ষ অনুগামী-সহ ভারতে চলে এসেছিলেন তিব্বতি বৌদ্ধদের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু দলাই লামা। ভারত তাঁকে আশ্রয় দিয়েছিল। গত ছ’দশক ধরে তিব্বতের স্বাধীনতার দাবিতে বিশ্ব জুড়ে প্রচার করে চলেছেন দলাই অনুগামী বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা। চিনা দখলদারির প্রতিবাদে আন্দোলন চালাচ্ছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। অরুণাচল প্রদেশের বাসিন্দাদের মধ্যেও রয়েছেন বহু তিব্বতি।

Arunachal Pradesh Tibet India-China Conflict PLA LAC ITBP

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy