পশ্চিম এশিয়া সফরে গিয়ে আবার সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি সই করতে চলেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ। তবে এ বার আমেরিকার নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট নেটোর সদস্য তুরস্ককে সঙ্গে নিয়ে। ‘ত্রিপাক্ষিক’ অবয়বে।
‘অপারেশন সিঁদুর’-এর চার মাস পরে গত সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবের যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ‘পারস্পরিক কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সই করেছিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী শরিফ। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, পাকিস্তান এবং সৌদি আরবের মধ্যে কোনও একটি দেশ তৃতীয় কোনও দেশের আগ্রাসনের শিকার হলে তা দুই দেশের উপর অভিন্ন আঘাত হিসাবে দেখা হবে। ওই চুক্তি সম্পর্কে শীতল প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল নয়াদিল্লি। ঘটনাচক্রে, এ বার সিঁদুর অভিযানপর্বে ইসলামাবাদের দিকে প্রত্যক্ষ সামরিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া তুরস্ককে সঙ্গে নিয়ে ত্রিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি সই করতে চলেছেন শরিফ।
সৌদি আরবের মক্কায় শুক্রবার চুক্তি সই কর্মসূচিতে শরিফ এবং সলমনের পাশাপাশি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিচেপ তায়িপ এর্ডোগান এবং পাক সেনা সর্বাধিনায়ক ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরও হাজির থাকবেন বলে সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে। নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি সইয়ের ক্ষেত্রে ইয়েমেনের শিয়া বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি বাহিনীর হাত থেকে ‘লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার’ বাব এল-মান্দেব প্রণালীকে রক্ষা করা অন্যতম উদ্দেশ্য বলে মনে করা হচ্ছে। ইরানের মদতে পুষ্ট ওই বাহিনী ইতিমধ্যেই সেখানে তেলবাহী সৌদি জাহাজে রকেট হামলা চালিয়েছে। বৃহস্পতিবার ইয়েমেনে সৌদির সেনাঘাঁটি এমনকি, সৌদি ভূখণ্ডেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুথি। লোহিত সাগর, এডেন উপসাগর-সহ পশ্চিম এশিয়ার জলপথগুলির সুরক্ষার স্বার্থে সম্প্রতি সামুদ্রিক নিরাপত্তাবলয় গড়তেও সক্রিয় হয়েছে সৌদি। পাকিস্তান, বাংলাদেশ-সহ ১৩টি দেশকে নিয়ে তারা গড়েছে নতুন জোট— ‘মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’!