অনিয়মের অভিযোগের কারণে ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (জেপিএসসি) এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনে (জেএসএসসি) নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করা হবে বলে সোমবার রাতে জানিয়েছিলেন সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। রাতেই এ সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশিকাও জারি হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার হেমন্ত সরকারের সেই সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ দিল ঝাড়খণ্ড হাই কোর্ট।
ঝাড়খণ্ড হাই কোর্টের এই নির্দেশের ফলে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীরা সাময়িক স্বস্তি পেয়েছেন। তাঁদের অনেকে মঙ্গলবার থেকেই সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাজধানী রাঁচীতে জমায়েত ও বিক্ষোভ করছিলেন। উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীদের তরফে ঝাড়াখণ্ড হাই কোর্টে চারটি পিটিশন দাখিল করা হয়েছিল। সেখানে রাজ্য সরকারের ২২টি নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা হয়। আবেদনকারীদের মধ্যে ১১তম-এবং ১৩তম জেপিএসসি কম্বাইন্ড সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষা, জেপিএসসি (কম্বাইন্ড গ্র্যাজুয়েট লেভেল বা সিজিএল) এবং ফুড সেফটি অফিসার পরীক্ষায় সফল প্রার্থীরাও ছিলেন। তাঁদের যুক্তি ছিল, সরকার উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ না দিয়েই একতরফা ভাবে পরীক্ষা ও নিয়োগ বাতিল করেছে। বেশ কয়েক জন আবেদনকারী ইতিমধ্যেই নির্বাচিত হয়ে সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। তাঁদের অনেকে অন্য চাকরি ছেড়ে এসেছেন। ফলে পরীক্ষা ও নিয়োগ বাতিলের জেরে তাঁদের জীবন ও জীবিকা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আদালত সেই যুক্তির সারবত্তা স্বীকার করেছে।
জেপিএসসি (সিজিএল) এবং জেএসএসসি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনার জেরে ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচীতে পড়ুয়াদের অবস্থান-বিক্ষোভের মধ্যেই সোমবার হেমন্তকে চিঠি লিখেছিলেন সহযোগী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গাঁধী। চিঠিতে বিক্ষোভরত পড়ুয়াদের দাবিদাওয়াকে ‘ন্যায়সঙ্গত’ বলে উল্লেখ করেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। সেই সঙ্গে জোটশরিক হেমন্তকে রাহুলের পরামর্শ, “প্রতিবাদী পড়ুয়াদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিজে কথা বলুন।” রাহুলের চিঠির পরেই নতুন পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেন হেমন্ত। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, ‘‘জেপিএসসি (সিজিএল) এবং জেএসএসসি পরীক্ষা বাতিলের পাশাপাশি ২০১৪ সাল থেকে বিভিন্ন পরীক্ষার ছোট-বড় সমস্ত ত্রুটির অভিযোগের তদন্ত করা হবে।’’
হেমন্তের ওই ঘোষণার পরেই বাতিল হওয়া নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণেরা পাল্টা আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন। প্রসঙ্গত, সরকারি চাকরির পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে চাকরিপ্রার্থীরা গত ২৫ দিন ধরে রাঁচীতে অবস্থান-বিক্ষোভ করছেন। ২-১৭ অগস্ট থেকে অনশন করার পরে তরুণ সমাজসৈনিক দেবেন্দ্রনাথ মাহাতো সরকারের তরফে পরীক্ষা বাতিল ও বিভিন্ন দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পর অনশন ভেঙেছিলেন। কিন্তু এখনও কয়েক জন প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মবিরোধী আন্দোলনকারী অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। এই আবহে ঝাড়খণ্ড হাই কোর্টের নির্দেশে নতুন করে প্রশ্নফাঁস বিরোধী আন্দোলন শুরু হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।