চতুর্থ বার সেনা অভ্যুত্থানের সম্ভাবনা ঘিরে জল্পনার আবহেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠানোর খোলনলচে বদলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে পাকিস্তানে। সে দেশের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে ইঙ্গিত, পাক সেনা সর্বাধিনায়ক ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নেতৃত্বে সে দেশের সামরিক বাহিনী ১০ বছরের একটি ‘জাতীয় পরিকল্পনা’র খসড়া তৈরির কাজ শুরু করেছে। সাংবিধানিক স্বীকৃতি পেলে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় আনুষ্ঠানিক ও সম্প্রসারিত ভূমিকা দিতে পারে পাক সেনার।
প্রকাশিত খবরে দাবি, প্রস্তাবিত সাংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে প্রেসিডেন্ট পরিচালিত শাসন ব্যবস্থা, নতুন প্রদেশ ও প্রশাসনিক ইউনিট গঠন, এবং কেন্দ্রীয় (ফেডারেল) সরকার ও প্রদেশগুলোর মধ্যে আর্থিক সম্পদ বণ্টনে পরিবর্তন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবটি হল, মূল রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সামরিক বাহিনীকে ‘সমান অংশীদার’ হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি পাবে! ১৯৫৮, ১৯৭৭ এবং ১৯৯৯ সালে তিনটি সামরিক অভ্যুত্থান দেখেছে পাকিস্তান। ফিল্ড মার্শাল আয়ুব খান, জেনারেল ইয়াহিয়া খান, জেনারেল জিয়াউল হক, জেনারেল পারভেজ মুশারফের মতো উর্দিধারী একনায়কদের ক্ষমতা দখল এবং মার্শাল ’ল জারির সাক্ষী থেকেছে সে দেশ। প্রস্তাবিত নতুন সাংবিধানিক কাঠামোয় সরকার ও প্রশাসনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সেনার নিয়ন্ত্রণকেই আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। তা ছাড়া, সংসদীয় গণতন্ত্র থেকে প্রেসিডেন্ট শাসিত মডেলে পরিবর্তন হলে পাকিস্তানে রাজনৈতিক ক্ষমতার সমীকরণও বদলে যাবে।
আরও পড়ুন:
পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ গত নভেম্বরে ২৭তম সংবিধান সংশোধনে কার্যত আইনের ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে গিয়েছেন ফিল্ড মার্শাল মুনিরকে। পাক সেনা সর্বাধিনায়ক আজীবন যে কোনও ফৌজদারি মামলা বা প্রশাসনিক অভিযোগের ক্ষেত্রে আইনগত দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তি পেয়েছেন ওই সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে। এর পরে জুলাই মাসে পরমাণু অস্ত্র পরিচালনার জন্য গঠিত ‘ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক কমান্ড’ (এনএসসি)-এর শীর্ষেও আসীন হয়েছেন তিনি। ফলে পরমাণু অস্ত্রের ‘কমান্ড ও কন্ট্রোল’ ব্যবস্থাও এখন মুনিরের করায়ত্ত। এই আবহে এ বার তিনি পাক সরকারের নিয়ন্ত্রণও হাতে নিয়ে চাইছেন বলে জল্পনা চলছে কিছু দিন ধরেই। সম্প্রতি ‘মুনির ঘনিষ্ঠ’ হিসেবে পরিচিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি বলেছিলেন, ‘‘পাকিস্তানে সরকারি পরিকাঠামো পুরোপুরি ধসে গিয়েছে। প্রশাসনিক শৃঙ্খল জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। সরকার ও সমাজের সর্বস্তরে দুর্নীতি ছেয়ে গিয়েছে। এই সমস্যার মোকাবিলায় শাসনব্যবস্থায় সেনাবাহিনীর আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া উচিত।’’ এ বার কি সেই প্রক্রিয়ার সূচনা হবে পাকিস্তানে?