রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করে ‘ভোটচুরি’তে অভিযুক্ত মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবি জানাতে বৃহস্পতিবার বিকেলে দিল্লি রওনা হয়েছেন কালীঘাট তৃণমূলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তিনি এবং বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র অন্য নেতারা আদৌ শুক্রবার রাইসিনা হিলসে প্রবেশাধিকার পাবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে এআইসিসির সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল বলেন, ‘‘আমরা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। কিন্তু এখনও রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে কোনও জবাব আসেনি।’’
গত ২৩ সেপ্টেম্বর ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর অন্তর্তদন্তমূলক প্রতিবেদনকে ঘিরে তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই কমিশনার, সুখবীর সিংহ সঁধু এবং বিবেক জোশীর অভিযোগ, তাঁদের অন্ধকারে রেখে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা রক্ষা, বেআইনি ভাবে ৬ নম্বর ফর্মের বয়ান বদল, এসআইআর-এর পর ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া এবং যুক্ত করা সংক্রান্ত একাধিক বিষয় নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন সঁধু এবং জোশী। গত ১০ মাসে ১৪ বার কমিশনের সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছেন তাঁরা। বিতর্কের মুখে কমিশনের ব্যাখ্যা, নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে মতবিরোধ থাকলেও ঐকমত্যের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমিশন এই ব্যাখ্যা দিলেও বিতর্ক থামেনি। উল্টে বিরোধী দলগুলি কমিশনের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে জ্ঞানেশের পদত্যাগ দাবি করেছে।
আরও পড়ুন:
গত ৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠকেই জ্ঞানেশের অপসারণের দাবিতে সর্বাত্মক আন্দোলনের ঘোষণা করা হয়েছিল। মঙ্গলবার বিরোধী জোটের সাংসদেরা নির্বাচন সদন অভিযান করছেন। বুধবারের বিক্ষোভের অভিমুখ ছিল যন্তর মন্তর। আগামী শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে মেগা সমাবেশ রয়েছে ‘ইন্ডিয়া’র। পাশাপাশি, রাষ্ট্রপতির কাছেও জ্ঞানেশের ‘বেআইনি কার্যকলাপ’-এর খতিয়ান পেশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল ৩০ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে। বেণুগোপাল জানিয়েছেন, আগামী ৭ থেকে ৯ অক্টোবরের মধ্যে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সময় চেয়ে আর্জি জানিয়েছিলেন। অর্থাৎ শুক্রবারই (৯ অক্টোবর) সময়সীমা শেষ হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে বেণুগোপাল বলেন, “এখনও পর্যন্ত আমরা কোনও উত্তর পাইনি। আমরা শুক্রবার পর্যন্ত অপেক্ষা করব।”
অন্য দিকে, বৃহস্পতিবার দিল্লি রওনা হওয়ার আগে কলকাতা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে ৫৪ লক্ষ নয়, ৯২ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে। সারা ভারতের ক্ষেত্রে আমরা কী দেখেছি, নির্বাচনে জালিয়াতি করা হয়েছে। প্রতারণা করা হয়েছে দেশের মানুষের সঙ্গে। মানুষকে ভোট দিতে দেয়নি। ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে।’’ আগামী শনিবারের ‘ইন্ডিয়া’র সমাবেশে তিনি যোগ দিচ্ছেন বলে জানান তৃণমূল নেত্রী। আর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ? মমতার জবাব,‘‘সময় চেয়েছে ‘ইন্ডিয়া’। তালিকায় আমার নাম রয়েছে। কাল সময় চাওয়া হয়েছে। আমি যাচ্ছি। যদি সময় দেন, দেখা করব।’’