‘ভোটচুরি’, এসআইআর-অনিয়ম এবং স্বেচ্ছাচারী কার্যকলাপের অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সরাতে ফের সংসদে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনতে চলেছে বিরোধী শিবির। বৃহস্পতিবার এ প্রসঙ্গে সম্ভাব্য পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা বলেন, ‘‘ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সাংবিধানিক পদ্ধতি রয়েছে। সংসদে প্রস্তাব জমা পড়লে সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হবে।’’
এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাসে এসআইআর প্রক্রিয়ায় পক্ষপাতদুষ্ট কার্যকলাপের অভিযোগে জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে অপসারণের প্রস্তাব আনা হয়েছিল লোকসভা এবং রাজ্যসভায়। কিন্তু লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণণ বিরোধী সাংসদদের আনা সেই ইমপিচমেন্ট নোটিস ‘বিচার (তদন্ত) আইন, ১৯৬৮’ এবং সংবিধানের ৩২৪(৫) ধারা অনুযায়ী খতিয়ে দেখার পরে খারিজ করে দিয়েছিলেন।
আবার বিরোধী শিবির ইমপিচমেন্ট নোটিস দিলে তা খারিজ করা হবে কি না, জানতে চাওয়া হলে নির্দিষ্ট সাংবিধানিক পদ্ধতি মেনে পদক্ষেপের কথা জানান স্পিকার। প্রসঙ্গত, গত ২৩ সেপ্টেম্বর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর জ্ঞানেশের ভূমিকা এবং নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তাঁকে কেন্দ্র করে অন্তর্কলহের বিষয়টি আলোচনায় উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে দাবি, গত ১০ মাসে জ্ঞানেশের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অন্তত ১৪ বার বাকি দুই নির্বাচন কমিশনার বিবেক জোশী এবং সুখবীর সিংহ সঁধু আপত্তি জানিয়েছিলেন। কিন্তু আপত্তি না-মেনে, তাঁদের অন্ধকারে রেখে একক ভাবে জ্ঞানেশ একের পর এক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই রিপোর্টের ভিত্তিতেই বিরোধী শিবির কোমর বেঁধেছে।
আরও পড়ুন:
বুধবার ইন্ডিয়া টুডে-তে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আরটিআই-আবেদনের জবাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশকে এড়িয়েই দুই নির্বাচন কমিশনার, সুখবীর সিংহ সঁধু এবং বিবেক জোশী চিঠি পাঠিয়েছিলেন ক্যাবিনেট সচিবকে। দুই নির্বাচন কমিশনারের চিঠিগুলি পাওয়ার পর ক্যাবিনেট সচিবালয় সেগুলির জবাব সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশের দফতরে পাঠিয়ে দিয়েছিল বলেও জানানো হয়েছে আরটিআই আইনে করা প্রশ্নের জবাবে। দুই নির্বাচন কমিশনারের লেখা চিঠির পূর্ণাঙ্গ তথ্য আরটিআই-আবেদনে মেলেনি। তবে জানানো হয়েছে, একটি বিতর্কিত কাজের নির্দেশ এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপের বিষয়ে মতপার্থক্য নিয়ে দুই নির্বাচন কমিশনার চলতি বছরের ২৬ জুলাই দু’টি পৃথক চিঠি লিখেছিলেন ক্যাবিনেট সচিবকে।
এর ফলে জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে ‘স্বেচ্ছাচারিতা’র অভিযোগ আরও জোরালো হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। চিঠি দু’টি ক্যাবিনেট সচিবালয়ে পৌঁছোনোর পর ৩০ জুলাই ২০২৬ তারিখে সেখানে আনুষ্ঠানিক ভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছিল। এর পর ৫ অগস্ট ক্যাবিনেট সচিবালয়ের পক্ষ থেকে চিঠি দু’টির উত্তর এবং এ সংক্রান্ত নির্দেশিকা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে ঘিরে বিতর্কের মুখে কমিশন ব্যাখ্যা দিয়েছিল, নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে মতবিরোধ থাকলেও ঐকমত্যের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমিশন এই ব্যাখ্যা দিলেও বিতর্ক থামেনি। উল্টে বিভিন্ন বিরোধী দল এবং ককরোচ জনতা পার্টির মতো সংগঠন কমিশনের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে জ্ঞানেশের পদত্যাগ দাবি করেছে। এই পরিস্থিতিতে আরটিআই-তথ্য জ্ঞানেশ এবং শাসক শিবিরের অস্বস্তি বাড়াবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ চেয়ে শনিবার কর্মসূচির ডাক দিয়েছে সিজেপি।
- সিজেপির কর্মসূচিকে মাথায় রেখে শুক্রবার রাত থেকেই ধরপাকড় শুরু করেছে পুলিশ।
-
শেষমুহূর্তে স্থগিত জ্ঞানেশের অপসারণে ‘নকল সংসদ’! নাম ও পদ্ধতি পাল্টেছিল আগেই, নেপথ্যে কোন কোন কারণ?
-
ছাড়া পেলেন আইসা নেত্রী নেহা, এখনও ‘অজানা’ জায়গায় আটক সিজেপি প্রধান দিপকে, দাবি সঙ্গীদের
-
তেরঙা যাত্রার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েই আটক দিপকে! যন্তর মন্তরের কাছ থেকে নেহাকেও আটক করল দিল্লি পুলিশ
-
‘তেরঙা যাত্রা বাতিল করুন!’ বাড়ি গিয়ে দিপকেকে নোটিস দিল পুলিশ, তবে নিষেধাজ্ঞা জারি করল না সুপ্রিম কোর্টও
-
বিরোধী ঐক্যের ডাক দিপকের! তেরঙা অভিযান নিয়ে হুঁশিয়ারি দিল্লি পুলিশের, মার্কিন নাগরিক ইমরানকে দেশ ছাড়ার নোটিস