Advertisement
E-Paper

‘পদ ছাড়তেই হবে জ্ঞানেশকে, রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধে বিচারও হওয়া উচিত!’ নকল সংসদে ছ’দফা দাবি বিরোধী জোটের

শনিবার বিকেলে রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা খড়্গের ১০ রাজাজি মার্গের সরকারি বাংলোয় শুরু হয় ‘পিপলস ইমপিচমেন্ট’। সংসদের অধিবেশনের ধাঁচেই এই কর্মসূচি সাজানো হয়েছিল।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ২০:৩৪
Mallikarjun Kharge accuses CEC Gyanesh Kumar of treason

বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র ‘প্রতীকী ইমপিচমেন্ট’ কর্মসূচি। ছবি: পিটিআই।

রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে বিচার হওয়া উচিত দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের! শনিবার বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র ‘পিপলস ইমপিচমেন্ট’ (জন মহাভিযোগ)-এ এমনই দাবি জানালেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে। তাঁর অভিযোগ, ভোটচুরিকে সাহায্য করেছেন জ্ঞানেশ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশে কাজ করার অভিযোগ তুলেছেন জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে। বিরোধী শিবির মনে করে, সেই সব কারণে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ ছাড়তেই হবে জ্ঞানেশকে। শনিবারের কর্মসূচিতে জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে ছ’দফা অভিযোগের প্রস্তাব পাঠ করা হয়।

শনিবার বিকেলে রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা খড়্গের ১০ রাজাজি মার্গের সরকারি বাংলোয় শুরু হয় ‘পিপলস ইমপিচমেন্ট’। সংসদের অধিবেশনের ধাঁচেই এই কর্মসূচি সাজানো হয়েছিল। গোটা কর্মসূচিতে পরিচালনা (স্পিকারের ধাঁচে) করেন লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার মীরা কুমার। আলোচনাপর্বে জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে ছ’টি অভিযোগ প্রকাশ্যে এনেছে বিরোধীরা।

কী সেই ছয় অভিযোগ?

ভোটচুরির ষড়যন্ত্র: জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে নির্বাচনে কারচুপিতে সাহায্য করার অভিযোগ তুলেছে বিরোধী শিবির।

১৩.২ কোটি ভোটার বাদ: বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র অভিযোগ ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের নামে ১৩ কোটি ২০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

সংসদকে দূরে রেখে ফর্ম ৬: এসআইআর আবহে বর্তমান ফর্ম ৬-এ থাকা ঘোষণাপত্র ঘিরে বিতর্ক রয়েছে। যেখানে আবেদনকারীদের উল্লেখ করতে হয় যে তিনি প্রথম বার ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করছেন। সাধারণত ভোটার হিসেবে প্রথম বার নাম নথিভুক্ত করার জন্য আবেদনকারীরা ফর্ম ৬ ব্যবহার করেন। বিরোধীদের অভিযোগ, সংসদীয় অনুমোদন ছাড়াই ফর্ম ৬ বদলে ফেলেছেন জ্ঞানেশ।

ইসিআইনেট-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা বাজেয়াপ্ত: বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন ইসিআইনেট প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ভোটার তালিকা নিয়ন্ত্রণ করেছে। আর সেটা সবটাই হয়েছে জ্ঞানেশের অঙ্গুলিহেলনে।

অন্ধকারে অন্য দুই কমিশনার: কোনও কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে জ্ঞানেশ দেশের অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সঁধু এবং বিবেক জোশীকে ‘অন্ধকারে’ রেখেছিলেন।

মোদী-শাহের নির্দেশে কাজ: প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশেই কাজ করেছেন জ্ঞানেশ।

কর্মসূচির শুরুতেই ভাষণ করতে গিয়ে খড়্গে এই ছ’দফা অভিযোগের প্রস্তাব পড়ে শোনান। তাঁর কথায়, ‘‘মাস সাতেক আগে ১৯৩ জন বিরোধী সাংসদ মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অপসারণের দাবিতে সংসদের উভয় কক্ষে একটি প্রস্তাব এনেছিল। কিন্তু আমাদের নোটিস খারিজ করে দেওয়া হয়। আমাদের অভিযোগে কোনও আমলই দেওয়া হয়নি। একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের (সংসদ) মর্যাদা রক্ষার লক্ষ্যেই আমরা এই প্রস্তাব আনলাম।’’ তিনি এ-ও স্পষ্ট করেন, জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে বিরোধীদের কোনও ব্যক্তিগত বিদ্বেষ নেই। তারা চায় কমিশন সংবিধান মেনে নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করুক, যাতে সাধারণ মানুষের আস্থা থাকে। ২০১৪ সাল থেকে রাজনৈতিক ক্ষমতা হস্তগত করে রাখতে বিজেপি বিভিন্ন পন্থা নিয়েছে, ষড়যন্ত্র করেছে বলে অভিযোগ বিরোধী শিবিরের।

INDIA Block Gyanesh Kumar

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy