শিশুদের যৌন নিগ্রহের ‘কনটেন্ট’-এর বিরুদ্ধে কড়াকড়ি শুরু করেছে কেন্দ্র। এ নিয়ে ‘মেটা’কে নোটিসও পাঠানো হয়। কেন্দ্রের এই কড়াকড়ির মাঝে এ বার পদক্ষেপ করল মেটা। শিশুদের উপর যৌন নির্যাতন বা তাদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলি এ বার থেকে পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাবে মেটা। তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক সূত্রে খবর, এই বিষয়গুলি নজরে এলে তা পুলিশকে জানাতে রাজি হয়েছে মেটা।
ইনস্টাগ্রামে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে শিশুদের যৌন হেনস্থা সংক্রান্ত ‘কনটেন্ট’ প্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত জুলাই মাসে মেটা কর্তৃপক্ষকে নোটিস পাঠায় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক। ওই ধরনের বিজ্ঞাপনগুলি দ্রুত সরিয়ে নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়। যদিও বিবিসির এক প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, গত অগস্টেও ২৫০-র বেশি এই ধরনের বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়েছে সমাজমাধ্যমে। এই বিতর্কের মাঝে এ বার শিশুদের যৌন হেনস্থা সংক্রান্ত ‘কনটেন্ট’ পুলিশকে জানানোর বিষয়ে রাজি হল মেটা। তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের সূত্র উদ্ধৃত করে পিটিআই জানাচ্ছে, যে সব সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম শিশুদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত ক্ষেত্রে সক্রিয় পদক্ষেপ করবে না, তাদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নেবে। অনলাইনে শিশুদের নিরাপত্তার সঙ্গে যে কোনও আপস করা হবে না, তা-ও স্পষ্ট করেছে মন্ত্রকের ওই সূত্র।
কয়েক মাস আগে বিবিসি-র এক অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইনস্টাগ্রামে অর্থের বিনিময়ে দেওয়া বিজ্ঞাপনে ‘রেপ ভিডিয়ো’ ও ‘চাইল্ড ভিডিয়ো’-র মতো শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছিল। সেই বিজ্ঞাপনে ক্লিক করলেই সরাসরি খুলছিল কিছু টেলিগ্রাম চ্যানেল। যাতে ৯৯ টাকার বিনিময়ে এই ধরনের বেআইনি পরিষেবা কেনা যাচ্ছিল। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী যথাযথ যাচাই প্রক্রিয়া পেরিয়ে বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হওয়ার কথা।
আরও পড়ুন:
সূত্রের খবর, বিবিসি-র সেই প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসার পরই কেন্দ্রের তরফে মেটার কাছে জানতে চাওয়া হয়, কী ভাবে এই ধরনের বিজ্ঞাপনে ছাড় দিচ্ছে তারা। এ নিয়ে কেন্দ্রের চাপের মুখে অবশেষে পদক্ষেপ করল মেটা।
এ বিষয়ে মেটা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, তাঁরা এখন থেকে ‘ইন্ডিয়ান সাইবারক্রাইম কোঅর্ডিনেশন সেন্টার’ (আইফোরসি) পরিচালিত সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত পোর্টালে অভিযোগ জানাবেন। বস্তুত, এই পোর্টালটি বিভিন্ন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পাশাপাশি রাজ্যের পুলিশ এবং তদন্তকারী সংস্থাও ব্যবহার করে। মেটার এক মুখপাত্র বলেন, “সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”