গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তেলঙ্গানা রাজ্য সড়ক পরিবহণ কর্পোরেশনের (টিজিএসআরটিসি) এক মহিলা কন্ডাক্টর। মঙ্গলবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। ২৫ অক্টোবর টিকিট সংক্রান্ত বচসার জেরে ২৪ বছরের গুন্ডলা প্রবালিকাকে বাস থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়েছিলেন এক মহিলা যাত্রী। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
মণুগুরু সড়ক পরিবহণ কর্পোরেশনের (আরটিসি) কর্মী ছিলেন প্রবালিকা। তাঁর বাড়ি মণুগুরুর আদর্শ নগরে। ঘটনার দিন মণুগুরু থেকে ভদ্রাচলমগামী একটি বাসে কন্ডাক্টরের দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। পুলিশ সূত্রে খবর, বনোত মৌনিকা নামের এক মহিলা যাত্রী মিত্তাগুদেম থেকে সেই বাসে ওঠেন। সঙ্গে ছিল তাঁর ছেলে। তিনি প্রবালিকাকে ১০ টাকা ভাড়ার জন্য একটি ১০০ টাকার নোট দেন। প্রবালিকা জানান, তাঁর কাছে খুচরো বেশি নেই। বাকিটা পরে ফেরত দেবেন। মৌনিকার গন্তব্য এগিয়ে আসায় তিনি বারবার খুচরো ফেরত চান। সেই নিয়ে প্রবালিকার সঙ্গে তাঁর কথা কাটাকাটি হয়। বচসা তুঙ্গে পৌঁছোলে প্রবালিকাকে ধাক্কা মারেন তিনি। প্রবালিকা চলন্ত বাসের খোলা দরজা দিয়ে নীচে পড়ে যান। বাসের পিছনের একটি চাকা তাঁর দু’পায়ের উপর দিয়ে চলে যায়।
আরও পড়ুন:
প্রথমে তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় ভদ্রাচলমের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে হায়দরাবাদের একটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। ১০ দিন চিকিৎসা চলে। মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালেই তাঁর মৃত্যু হয়।
অস্বপুরম থানায় মৌনিকার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে পুলিশ। তাঁকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করা হয়। সেই মামলার শুনানি চলছে। এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বুধবার রাজ্য পরিবহণ মন্ত্রী পোন্নম প্রভাকর বলেন, ‘‘সরকার মৃতার পরিবারের পাশে আছে। তাঁদের বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। প্রবালিকার মায়ের জন্য চাকরির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’’ তিনি জানান, যদি কোনও যাত্রীর পরিবহণ বিষয়ে কোনও অভিযোগ থাকে, তা সরকারি পোর্টালে জানানো হোক। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া অপরাধ।
আরও পড়ুন:
প্রবালিকার মৃত্যুতে ক্ষুব্ধ আরটিসির কর্মী ও সংগঠনগুলি। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তির দাবিতে বুধবার খম্মম জেলায় সমস্ত বাস চলাচল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।