চার নয়, এ বার থেকে ভারতীয় সেনায় ছ’বছরের জন্য নিয়োগ করা হবে অগ্নিবীরদের। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা বুধবার ঘোষণা করেছেন সেনা সর্বাধিনায়ক (সিডিএস) জেনারেল এনএস রাজা সুব্রমণি। তাঁর দাবি, অগ্নিবীরদের চাকরির মেয়াদ দু’বছর বাড়ানোর ফলে কর্মদক্ষতা-ভিত্তিক নির্বাচনের মাধ্যমে তাঁরা স্থায়ী ভাবে সেনায় যোগদানের আরও একটি সুযোগ পাবেন।
অগ্নিপথ প্রকল্পে নিয়োগপ্রাপ্ত অগ্নিবীরদের প্রথম ব্যাচের চার বছরের মেয়াদ পূর্ণ হতে চলায় ঠিক আগে তাঁদের আরও একটু বেশি কাজের সুযোগ দিতে এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছেন সেনা সর্বাধিনায়ক। অর্থাৎ চলতি বছর অগ্নিবীরদের যে ব্যাচের ৭৫ শতাংশের অবসর নেওয়ার কথা ছিল, তাঁরা দু’বছর পরে আরও একবার কর্মদক্ষতা প্রমাণ করে স্থায়ী নিয়োগের সুযোগ পাবেন। কিন্তু কেন এমন পদক্ষেপ? প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রের খবর, যে কোনও বাহিনীতে দক্ষ ও অভিজ্ঞ জওয়ানদের মধ্যে ভারসাম্য থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি, সার্বিক ভাবে সেনাবাহিনীতে গড় বয়স কমানোও দরকার। এই দিকগুলি মাথায় রেখে ‘অগ্নিপথ’ প্রকল্পের পুনর্মূল্যায়ন করা হয়েছে।
২০২২ সালে দেশ জুড়ে বিতর্কের আবহে ‘অগ্নিপথ’ প্রকল্পের সূচনা হয়েছিল। জানানো হয়েছিল, এর মাধ্যমে ১৭ থেকে ২১ বছর বয়সি তরুণ-তরুণীদের চার বছরের জন্য সেনাবাহিনীতে নিয়োগের সুযোগ দেওয়া হবে। চার বছর পরে কর্মদক্ষতা-ভিত্তিক নির্বাচনের মাধ্যমে অগ্নিবীরদের ২৫ শতাংশকে রেখে বাকিদের বসিয়ে দেওয়া হবে। নিয়ম অনুযায়ী, থেকে যাওয়া ২৫ শতাংশ সেনা আরও ১১ বছর চাকরি করতে পারবেন। গত তিন বছরে এই প্রকল্পের সম্ভাব্য একাধিক পরিবর্তন নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা হয়েছে। এ বার পরিবর্তনের পথে হাঁটল কেন্দ্র।
আরও পড়ুন:
২০২২ সালে ‘অগ্নিবীর’দের প্রথম ব্যাচে ২৪,০০০ জনকে নিয়োগ করা হয়েছিল। চলতি ডিসেম্বরের মধ্যে তাঁদের মধ্যে ১৮,৩০০ জনের চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। নতুন অগ্নিবীর-নীতির ফলে তাঁদের চাকরির মেয়াদ আরও দু’বছর বৃদ্ধি পেল। অর্থাৎ, ২০২৮ সালে তাঁদের মেয়াদ শেষ হবে। জানা গিয়েছে, বর্তমানে স্থলসেনায় ২,৭০,০০০ অগ্নিবীর রয়েছেন। এ ছাড়া, বায়ুসেনায় ২৭,০০০ জন এবং নৌসেনায় ২১,০০০ জন। অগ্নিবীরদের চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের নেপথ্যে ২০২৫ সালের সিঁদুর অভিযানপর্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। সে সময় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অগ্নিবীরদের ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো। তাই অভিজ্ঞতা, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা যাচাই করে সেনাবাহিনীতে অগ্নিবীরদের মেয়াদ আরও বৃদ্ধি করা হতে পারে বলে সে সময় ইঙ্গিত দিয়েছিল কেন্দ্র।