Advertisement
E-Paper

‘দেশের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের সঙ্গে বেমানান’! কৃষি ভবন চত্বর থেকে মসজিদ সরানোর পক্ষে কোর্টে সওয়াল মোদী সরকারের

১৯১২ সালে এডউইন লুটিয়েন্স যখন নয়াদিল্লির নকশা তৈরি করছিলেন, তখন সরকারি মানচিত্রে কাদেমি মসজিদ চিহ্নিত ছিল। অর্থাৎ, ১৯৫৭ সালে কৃষি ভবন নির্মাণের আগে ওই স্থানে মসজিদটি ছিল।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ১৬:১৩
কৃষি ভবন চত্বরের প্রাচীন কাদেমি মসজিদ।

কৃষি ভবন চত্বরের প্রাচীন কাদেমি মসজিদ। —ফাইল চিত্র।

নয়াদিল্লির সেন্ট্রাল ভিস্তা উন্নয়ন প্রকল্পে এ বার কেন্দ্রের ‘নজর’ কৃষি ভবন চত্বরে অবস্থিত শতবর্ষ প্রাচীন কাদেমি মসজিদের উপর। দিল্লি হাই কোর্টে একটি স্টেটাস রিপোর্ট পেশ করে মসজিদটি সরিয়ে দেওয়ার পক্ষে যুক্তি দেওয়া হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ‘‘কোনও সরকারি দফতরের চত্বরের ভিতরে স্থায়ী ধর্মীয় কাঠামো রাখা দেশের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের সঙ্গে বেমানান।’’

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারের দাবি, রাষ্ট্রায়ত্ত সম্পত্তির ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র বজায় রাখা সরকারের সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা। সে কারণেই ১০০ বছরেরও প্রাচীন মসজিদটি কৃষি ভবন চত্বর থেকে সরানো প্রয়োজন বলে দিল্লি হাই কোর্টে স্টেটাস রিপোর্টে জানানো হয়েছে। মোদী সরকারের এই স্টেটাস রিপোর্টে প্রথম বার স্পষ্ট ভাবে স্বীকার করা হল যে মসজিদটি ওই স্থান থেকে সরিয়ে ফেলা হবে, কারণ কেন্দ্রীয় ভিস্তা পুনর্নির্মাণ পরিকল্পনায় নতুন বিভিন্ন ভবন নির্মাণের জন্য কৃষি ভবন এবং তার সংলগ্ন শাস্ত্রী ভবন ভেঙে ফেলার কথা রয়েছে। আগামী ২৩ নভেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।

প্রসঙ্গত, ১৯১১ সালে ব্রিটিশ সরকার যখন কলকাতা থেকে দিল্লিতে ভারতের রাজধানী স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয় এবং জমির জরিপ শুরু করে, তখনকার সরকারি নথিতে মসজিদটির অস্তিত্ব ছিল। ১৯১২ সালে ব্রিটিশ স্থপতি এডউইন লুটিয়েন্স যখন নয়াদিল্লির নকশা তৈরি করছিলেন, সেই সময়কার সরকারি মানচিত্রে কাদেমি মসজিদের অবস্থান চিহ্নিত ছিল। অর্থাৎ, ১৯৫৭ সালে কৃষি ভবন নির্মাণের আগে থেকেই ওই স্থানে মসজিদটি ছিল। ১৯৭০ সালের দিল্লির সরকারি গেজেটে কাদেমি মসজিদকে ‘তালিকাভুক্ত বৈধ ওয়াকফ সম্পত্তি’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল।

২০২১ সালের ডিসেম্বরে, সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এমন ছ’টি মসজিদের সুরক্ষা চেয়ে দিল্লি ওয়াকফ বোর্ড দিল্লি হাইকোর্টে একটি আবেদন করেছিল। এই ছ’টি মসজিদের মধ্যে কৃষি ভবনের খোলা চত্বরে অবস্থিত কাদিমি মসজিদও রয়েছে। যদিও সে সময় সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে বলেছিলেন “এই সম্পত্তিগুলির কিছুই হচ্ছে না। আমরা আপনাদের মহামান্য আদালতের সামনে উপস্থিত রয়েছি। এটি (সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্প) একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং আমরা এখনও এটি রূপায়ণের কাছাকাছি পৌঁছোইনি।” এ বার মসজিদ ‘সরানোর’ কথা মেনে নিয়ে ধর্মনিরপেক্ষতার যুক্তি দিল মোদী সরকার।

কেন্দ্রের আইনজীবী নিশান্ত গৌতমের সওয়ালের প্রেক্ষিতে দিল্লি হাই কোর্টের বিচারপতি দয়াল বলেন, “আমাদের যা বুঝতে হবে তা হল, বিকল্প স্থান দেওয়ার নিয়ম কী? আপনি কি বলছেন, যে কোনও ধর্মস্থানের জন্যই কোনও (বিকল্প) স্থান দেওয়া হবে না? এমন কিছু নিয়ম অবশ্যই থাকতে হবে, যেখানে বলা থাকবে যে ‘কোনও সরকারি স্থানে কোনও সম্প্রদায়ের জন্য প্রার্থনার স্থান দেওয়া যাবে না’। আপনারা যে অবস্থান নিয়েছেন, তা আমরা বুঝতে আগ্রহী। যদি সেটাই আপনাদের অবস্থান হয়, তা হলে অবশ্যই তার জন্য কিছু নিয়ম থাকতে হবে।” সেই সঙ্গে কেন্দ্রের ধর্মনিরপেক্ষতার যুক্তি প্রসঙ্গে বিচারপতি দয়ালের মন্তব্য “ওই বক্তব্যের (সরকারি সম্পত্তির মধ্যে ধর্মীয় কাঠামো থাকা অননুমোদিত) প্রকৃত তাৎপর্য এবং এর প্রভাব কী, তা এক বার বুঝতে পারলে আমরা আইনি অবস্থানও বুঝতে পারব।”

Central Vista Project mosque Waqf Board Delhi Central Vista Masjid

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy