কয়েক জন ছাত্রীকে যৌন হেনস্থার অভিযোগে দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) অধ্যাপক তথা মণিপুরের কংগ্রেস সাংসদ অংগোমচা বিমোল অকোইজামকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সোমবার জেএনইউ কর্তৃপক্ষের সেই সিদ্ধান্তের উপর স্থগিতাদেশ দিল দিল্লি হাই কোর্ট। বিমলের দায়ের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি অনুপ জে ভম্ভানি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নোটিস জারি করেছেন। মামলাটি জানুয়ারি মাসে শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
অভিযুক্ত অকোইজাম জেএনইউ-এর ‘স্কুল অফ সোশ্যাল সায়েন্সেস’-এর অধীনস্থ ‘সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অফ সোশ্যাল সিস্টেমস’-এর অধ্যাপক। তাঁর বিরুদ্ধে ১০ জন ছাত্রী যৌন নিগ্রহের অভিযোগ তুলেছিলেন বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনাল কমিটির (আইসি) তদন্তের পরেই অক্টোবরের গোড়ায় তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। সে সময় জেএনইউ কর্তৃপক্ষ বিবৃতিতে জানিয়েছিলেন, সার্ভিস রুল্স’ (চাকরির প্রযোজ্য বিধি) অনুযায়ী অভিযুক্ত অধ্যাপকের কঠিন শাস্তির সুপারিশ করেছে কমিটি। নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়— “যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া মেনে, সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখে এবং ইন্টারনাল কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে অধ্যাপক অংগোমচা বিমোল অকোইজামকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার শাস্তি দেওয়া হল।”
আরও পড়ুন:
অন্য দিকে, মণিপুর (ইনার) লোকসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত কংগ্রেস সাংসদ অকোইজামের দাবি ছিল, তিনি শাসক শিবিরের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। তাঁকে বরখাস্তের নির্দেশ এবং জেএনইউ ক্যাম্পাসে তাঁর সরকারি বাসভবন থেকে উচ্ছেদের সিদ্ধান্তকে দিল্লি হাই কোর্টে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন কংগ্রেস সাংসদ। অভিযোগ করেছিলেন, তাঁকে আত্মপক্ষ সমর্থনের যথাযথ সুযোগ দেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে বরখাস্ত করার বিষয়ে ইউজিসি-র বিধি এবং জেএনইউ আইন অনুযায়ী নির্ধারিত পদ্ধতিও অনুসরণ করেননি। এমনকি তাঁকে বরখাস্ত করার আগে কোনও নোটিসও দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেছিলেন আকোইজাম। সেই যুক্তি মেনে এ বার বরখাস্তের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দিল দিল্লি হাই কোর্ট।