অস্পৃশ্যতা-বিতর্কে উত্তপ্ত হয়েছিল বাদল অধিবেশন। রাজ্যসভায় বিজেপির বিরুদ্ধে অস্পৃশ্যতাকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে। এ বার সেই প্রসঙ্গে মুখ খুললেন কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধী। বিজেপি এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-কে নিশানা করে কংগ্রেস সাংসদের দাবি, ‘শুদ্ধকরণ’ সংক্রান্ত এই প্রথা ‘অস্পৃশ্যতারই আর এক নাম’। তাঁর অভিযোগ, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সংবিধানবিরোধী, অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। এ ঘটনায় এসসি-এসটি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনে এফআইআর করারও দাবি জানিয়েছেন রাহুল।
দিল্লিতে কংগ্রেসের সদর দফতরে এক সাংবাদিক বৈঠকে রায়বরেলির সাংসদ দাবি করেন, সংবিধানের আদর্শ এবং বিজেপি-আরএসএসের আদর্শের মধ্যে এক রাজনৈতিক লড়াই প্রত্যক্ষ করছে দেশ। তাঁর অভিযোগ, ‘‘আমাদের কোনও দলিত নেতা মন্দিরে গেলে স্থানীয় বিজেপি নেতারা শুদ্ধকরণ অনুষ্ঠান করেন। কংগ্রেস সভাপতি খড়্গেজি, যিনি তাঁর সারা জীবন দেশ এবং সংবিধানকে উৎসর্গ করেছেন, তিনি হলদোয়ানির রামলীলা ময়দানে গেলে তার পরে সেখানে একটি শুদ্ধকরণ অনুষ্ঠান করা হয়।’’ রাহুলের প্রশ্ন, ‘‘এ সব কারা করেন?’’ কংগ্রেস নেতার দাবি, এই সব কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে বিজেপি এবং আরএসএস।
রাহুলের দাবি, ‘‘বিজেপি এবং আরএসএস যে ধরনের কাজকর্ম করে, তা অপরাধ। এটি একটি ফৌজদারি কার্যকলাপ। শুদ্ধকরণ আসলে অস্পৃশ্যতারই আর এক নাম। অস্পৃশ্যতাকে বেআইনি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল, তবে বিজেপি প্রকাশ্যে এই সব কাজ করে।’’ এই ঘটনা ভারতের দলিতদের ‘অপমান’ বলে মনে করেন রাহুল। তাঁর কথায়, ‘‘যখন তারা শুদ্ধকরণ অনুষ্ঠানটি করে, তখন তারা কার্যত এটাই স্পষ্ট করে যে, দলিতদের স্পর্শ করা উচিত নয়। এটা অপরাধ।’’ রাহুলের মতে, ভারতে এখন দুই মতাদর্শের মধ্যে লড়াই চলছে। এক দিকে রয়েছে ভারতের সংবিধান, (বাবা সাহেব) অম্বেডকর, (মহাত্মা) গাঁধী, জওহরলাল নেহরুরা। আর অন্য দিকে রয়েছে বিজেপি এবং আরএসএসের মতাদর্শ। রাহুলের অভিযোগ, সংবিধানে সুরক্ষার কথা উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে এখন ভারতে দলিতেরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।
রাহুলের দাবি, ‘‘আজও কোথাও কোথাও স্কুলে দলিত শিশুদের দিয়ে শৌচাগার পরিষ্কার করানো হয়। ঝাঁট দেওয়ানো হয়। ভাবুন তো, শিশুমনে এর কী প্রভাব পড়ে?’’ পানীয় জলের ক্ষেত্রেও জাতিগত বৈষম্য দৃশ্যমান বলে অভিযোগ রাহুলের। তাঁর দাবি, ‘‘গ্রামের কুয়ো থেকে দলিতদের জল তুলতে দেওয়া হয় না।’’ সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই বৈষম্য প্রকট বলে অভিযোগ করেছেন রাহুল।
আরও পড়ুন:
গত ৮ অগস্ট উত্তরাখণ্ডের হলদোয়ানিতে জনসভার আয়োজন করেছিল কংগ্রেস। ওই দিন রামলীলা ময়দানে হওয়া ওই জনসভায় ভাষণ দেন খড়্গে। অভিযোগ, কংগ্রেসের সভা শেষ হওয়ার পর একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন পুরোহিত ডেকে পুজো করিয়ে মাঠের ‘শুদ্ধকরণ’ করে। উত্তরাখণ্ডের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গণেশ গড়িয়ালের দাবি, শ্রীরামসেনা দল নামের ওই সংগঠন বিজেপি-ঘনিষ্ঠ। কংগ্রেসের অভিযোগ, খড়্গে দলিত সম্প্রদায়ভুক্ত হওয়ার কারণেই মাঠের শুদ্ধকরণ করা হয়। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রথম থেকেই বিজেপি এবং আরএসএস-কে বিঁধছে কংগ্রেস। যদিও বিজেপির দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাদের কোনও যোগ নেই। তবে সেই যুক্তি মানতে নারাজ কংগ্রেস।