জ্ঞানেশ-বিরোধী বিক্ষোভের আবহে কংগ্রেস, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র বিরুদ্ধে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির অভিযোগ তুললেন রাজনাথ সিংহ। শুক্রবার উত্তরপ্রদেশের লখনউতে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিরোধীদের আন্দোলনের দিকে ইঙ্গিত করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, “এটা এসআইআর কিংবা নির্বাচনী সংস্কারের জন্য লড়াই নয়। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আন্দোলনও নয়। এটা ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্র।
রাজনাথকে পাল্টা বিঁধতে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের একটি উক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে কংগ্রেস। দলের নেতা জয়রাম রমেশ বলেন, “প্রণববাবু বলতেন, গণতন্ত্রে বিরোধী দলের কাজই হল সরকারের বিরোধিতা করা, ভুলত্রুটি তুলে ধরা এবং তাকে ক্ষমতা থেকে সরানো।”
আরও পড়ুন:
কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে রাজনাথের সংযোজন, “গণতন্ত্র নৈরাজ্য সৃষ্টি এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে আক্রমণ করার ছাড়পত্র দেয় না।” রাজনাথের অভিযোগ, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করে দেশে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে বিরোধীরা। এই প্রসঙ্গে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে সরাসরি নিশানা করেন তিনি। কংগ্রেসকে আক্রমণ করতে গিয়ে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর আমলে ১৯৭৫ সালে জারি হওয়া জরুরি অবস্থার প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন রাজনাথ। তাঁর মতে, জরুরি অবস্থা ছিল ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ১৯৮৪ সালের দাঙ্গা এবং ১৯৯০ সালে রামভক্ত ও করসেবকদের রক্তপাতের নেপথ্যে থাকা মানুষজনকে সমর্থন করে সরকার টিকিয়ে রাখার অভিযোগও তোলেন রাজনাথ।
বিরোধীদের নিশানা করতে গিয়ে এআইএসএ নেত্রী নেহা বোরার একটি মন্তব্যকে অস্ত্র করেন রাজনাথ। তাঁর দাবি, আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশে হওয়া বিক্ষোভ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছেন বলে নেহা যে মন্তব্য করেছেন, তা থেকেই বিরোধীদের উদ্দেশ্য স্পষ্ট। রাজনাথের অভিযোগ, কংগ্রেস ও তার সহযোগীরা সরাসরি এবং পরোক্ষ ভাবে দেশের তরুণদের কাজে লাগিয়ে অস্থিরতা তৈরি করতে চাইছে।