বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের নতুন ‘টিম’ ঘোষণা করা হল সোমবার। সর্বভারতীয় পদাধিকারীদের তালিকায় প্রবীণ ও নতুন মুখের ভারসাম্য আনার চেষ্টা করেছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তবে গুরুত্ব বেড়েছে নতুন প্রজন্মের নেতাদের। দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) পদে রেখে দেওয়া হয়েছে কর্নাটকের নেতা বিএল সন্তোষকে।
আট জন সাধারণ সম্পাদকের তালিকায় রয়েছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি, ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব, সুনীল বনসল, মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা বিনোদ তাওড়ে, সতীশ পুনিয়া, গজেন্দ্র পটেল, হরিশ দ্বিবেদী এবং সঞ্জয় ভাটিয়া। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) হয়েছেন দু’জন— প্রাক্তন আরএসএস নেতা শিবপ্রকাশ এবং সৌদান সিংহ। আরএসএস থেকে একদা বিজেপি রাজনীতিতে যোগ দিয়ে সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন রাম মাধব। পরবর্তী সময়ে আবার সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন তিনি। নতুন কমিটিতে তাঁকে সহ-সভাপতি করা হয়েছে। সহ-সভাপতি হয়েছেন রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে, উত্তরাখণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তীর্থ সিংহ রাওয়ত, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভারতী পওয়ার, ওড়িশার নেতা বৈজয়ন্ত পণ্ডা, পঞ্জাবের দলত্যাগী কংগ্রেস নেতা মনপ্রীত সিং বাদল এবং সংখ্যালঘু নেতা তারিক মনসুর।
পশ্চিমবঙ্গের নেত্রী মধুছন্দা করও সহ-সভাপতি হয়েছেন। ১৬ জন সর্বভারতীয় সম্পাদকের মধ্যে রয়েছেন সন্দীপ পাঠক, কেরলের কংগ্রেস নেতা এসে অ্যান্টনির পুত্র অনিল অ্যান্টনি, রোহন গুপ্ত এবং পশ্চিমবঙ্গের নেতা মনোজ টিগ্গা। গত জানুয়ারি মাসে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি হলেও নিতিন নিজের ‘টিম’ ঘোষণা করতে প্রায় সাত মাস সময় লাগিয়ে দিলেন। বিজেপি সূত্রের বক্তব্য, নিতিনের ‘টিম’ ঘোষণার সঙ্গে মন্ত্রিসভার রদবদলের যেমন সম্পর্ক রয়েছে তেমনই নতুন ওই ‘টিম’ গড়া হয়েছে আগামী লোকসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখে। মাথায় রাখতে হচ্ছে আরএসএসের সাংগঠনিক পরিবর্তনকেও। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে দলের আইটি ও সমাজমাধ্যম সেলের দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে অমিত মালবীয়কে। তাঁর পরিবর্তে ‘সোশ্যাল মিডিয়া কনভেনর’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে ছত্তীসগড়ের নেতা দীপক মাস্কের নাম। যুবমোর্চার সভাপতি পদ থেকে সরানো হয়েছে লোকসভার সাংসদ তেজস্বী সূর্যকেও। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়ল হয়েছেন নতুন কোষাধ্যক্ষ। ফলে ‘এক ব্যক্তি এক পদ’ নীতি মেনে পীযূষকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে সরতে হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।