ওমান উপকূলের কাছে হরমুজ় প্রণালীতে আবার হামলা। তেলবাহী ট্যাঙ্কারে পর পর বোমা বিস্ফোরণে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। হামলার দায় স্বীকার না করলেও ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, বেআইনি পথে ওই ট্যাঙ্কারগুলি যাতায়াতের চেষ্টা করছিল। তার পরেই তাতে হামলা হয়েছে। শুক্রবার আক্রান্ত পানামার পতাকাবাহী ট্যাঙ্কার এবং বৃহস্পতিবার আক্রান্ত লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজে ভারতীয় নাবিকেরা ছিলেন। তাঁরা নিরাপদে রয়েছেন। তবে হরমুজ়ে এই জাহাজগুলিতে নতুন কৌশলে হামলা চালানো হয়েছে। দূর থেকে বোমা ছোড়া হয়নি। বরং, কাছে গিয়ে জাহাজের গায়ে তা সেঁটে দিয়ে আসা হয়েছে। নতুন ধরনের হামলা উদ্বেগ আরও বাড়াচ্ছে পর্যবেক্ষকদের।
কেন্দ্রীয় জাহাজমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল জানিয়েছেন, পানামার পতাকাবাহী জাহাজ এমটি লুইস ১-এ মোট ২৭ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। শুক্রবার তাতে বোমা বিস্ফোরণের ফলে আগুন লেগে যায়। তার আগের দিন লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী একটি জাহাজে একই কায়দায় হামলা হয়েছিল। তাতে ছিলেন দু’জন ভারতীয়। মোট ২৯ জনই আপাতত নিরাপদে রয়েছেন। হতাহতের কোনও খবর নেই। তাঁদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:
হরমুজ়ে নতুন পদ্ধতির হামলায় ‘লিম্পেট মাইন’ ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ছোট নৌকায় এসে দুষ্কৃতীরা জাহাজের গায়ে পর পর দু’টি বোমা সেঁটে দিয়ে যায় বলে অভিযোগ। কিছুক্ষণের মধ্যেই তা ফেটে যায় এবং জাহাজগুলিতে আগুন ধরে যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সামুদ্রিক অভিযানে শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে এই ধরনের বোমা প্রথম ব্যবহার করেছিল ব্রিটিশ বাহিনী। পশ্চিম এশিয়ার জলসীমায় তা প্রথম ব্যবহার করা হয় ২০১৭ সালে। অন্যান্য বোমার চেয়ে এগুলি তুলনামূলক সস্তা এবং কার্যকরী হওয়ায় জলপথে যে কোনও সংঘাতে এই ধরনের বোমা ব্যবহৃত হয়।
হরমুজ়ে পণ্যবাহী জাহাজে এই ধরনের হামলা নিয়ে বার বার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি। অবিলম্বে আলোচনা এবং কূটনীতির মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানানো হয়েছে সব পক্ষকে। কিন্তু তা সত্ত্বেও উত্তেজনা কমেনি। গত ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের যৌথ বাহিনী ইরান আক্রমণ করার পর থেকে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত চলছে। হরমুজ় অবরোধের ডাক দিয়েছে ইরান। পাল্টা ইরানে যাতায়াতকারী জাহাজের জন্য হরমুজ়ে অবরোধ চালাচ্ছে মার্কিন সেনাও। ওই জলপথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে সংঘাতের ফলে বিশ্বের বাজারেও জ্বালানির দাম বাড়ছে।