তিনি হুগলির সাংসদ। কিন্তু চন্দননগরের কোনও অনুষ্ঠানে যেতে পারতেন না! কারণ, বিধায়ক তথা মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন চাইতেন না তিনি সেখানে যান। এমনটাই দাবি করেছেন তৃণমূলত্যাগী এনসিপিআই সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি দুর্গাপুজোর পাস বিক্রিকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির অভিযোগে ইন্দ্রনীলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রাক্তন মন্ত্রী এখন তদন্তকারীদের হেফাজতে। তাঁর গ্রেফতারি নিয়ে রচনা কোনও মন্তব্য করতে চাননি। ফাঁস করেছেন পুরনো দলের অন্দরের তিক্ততা।
শুক্রবার চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের উদ্যোগে আয়োজিত বিজয়া সম্মিলনীতে যোগ দেন রচনা। জানান, নিজের রাজনৈতিক জীবনে এই প্রথম এমন কোনও অনুষ্ঠানে তিনি ডাক পেলেন। কারণ, এর আগে সাংসদকে চন্দননগরে কখনও ডাকাই হয়নি। ইন্দ্রনীলের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘আমি বেশি কিছু মন্তব্য করব না। পুলিশ তাদের কাজ করেছে। ওঁকে (ইন্দ্রনীলকে) আমি খুব ভাল করে চিনতামও না। হতে পারে উনি আমার এলাকার বিধায়ক ছিলেন। কিন্তু আমি সে ভাবে কখনও চন্দননগরে যেতে পারিনি। কারণ, উনি পছন্দ করতেন না। চাইতেন না যে, ওঁর আমন্ত্রণ ছাড়া আমি সেখানে যাই।’’
আরও পড়ুন:
চন্দননগরের অনুষ্ঠানে যে চাইলেও যোগ দিতে পারছেন না, তা দলে থাকতেই সেখানকার মানুষকে জানিয়েছিলেন, দাবি রচনার। তিনি বলেন, ‘‘দু’-এক বার যখনই চন্দননগরে এসেছি, এখানকার মানুষের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেছি। বলেছি যে, আসতে চাইলেও আসতে পারি না আপনাদের কাছে। আসলে এখানকার বিধায়ক বলতেন, ‘আমি যখন বলব, তখন সাংসদ আসবেন। না হলে নয়।’ তাই আমার আসা হত না।’’
বিধায়ক ইন্দ্রনীল কি সাংসদের কাজে বাধা দিতেন? রচনা সেই অভিযোগ করেননি। বলেছেন, ‘‘এই মানুষটাকে নিয়ে খুব বেশি কথা আমি বলতে চাই না। একসঙ্গে ভাল করে কাজ করতে পারিনি। আমি এখন সেই দলের কেউ নই। তাই তাঁদের কাউকে নিয়ে মন্তব্য করা উচিত নয়। তবে উনি আমার কাজে বাধা দিতেন না। শুধু পছন্দ করতেন না যে ওঁর এলাকায় সাংসদ আসুন বা এসে কোনও কাজ করুন। দলের কর্মীরাও আমাকে সে কথা জানিয়েছিলেন। বাকি সব জায়গার বিধায়কের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ভাল ছিল।’’ সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে ইন্দ্রনীল নাম করতে পারলেও রাজনীতিক হিসেবে পারেননি, মত রচনার।